দুই সিটির কাউন্সিলর মনোনয়ন: নানা হিসাব কষছে দু’দল

জয়যাত্রা ডট কম : 24/12/2019


নিজস্ব প্রতিবেদক:
যেসব নেতার ভাবমূর্তির সংকট রয়েছে, তাদের ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে দলীয় সমর্থন বা মনোনয়ন দেবে না আওয়ামী লীগ। বিশেষ করে ক্যাসিনোসহ টেন্ডার ও চাঁদাবাজির সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত বর্তমান কাউন্সিলররা এবার দল থেকে কোনোভাবেই সমর্থন পাচ্ছেন না- এমনটি নিশ্চিত করছেন আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের একাধিক সদস্য। এ কারণে দুই সিটির কাউন্সিলর মনোনয়ন: নানা হিসাব কষছে দু’দল।

আরও জানা গেছে, ইতিমধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটির ১২৯টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীদের একটি তালিকা প্রস্তুত করেছেন আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড। দলের মনোনয়ন বা সমর্থন দেয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত হলে শনিবারই ঘোষণা করা হতে পারে এ তালিকা। তবে বিএনপির শক্তিশালী প্রার্থী না থাকলে কোনো কোনো ওয়ার্ডে প্রার্থিতা উন্মুক্তও রাখার কথা ভাবছে আওয়ামী লীগ।

সোমবার ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। ৩০ জানুয়ারি এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যে দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ে সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। বুধবার থেকে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করবে দলটি। শনিবার অনুষ্ঠিত হবে দলের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভা। এতে মেয়রসহ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে দলীয় প্রার্থিতা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

বিতর্কিত কাউন্সিলর ও দলীয় নেতাদের কাউন্সিলর পদে দল থেকে সমর্থন কিংবা মনোনয়ন দেয়ার প্রশ্নই আসে না- এমন মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ ফারুক খান সোমবার বলেন, আসন্ন ঢাকা সিটি নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে মনোনয়ন, সমর্থন নাকি উন্মুক্ত রাখা হবে তা সিদ্ধান্ত হয়নি। শনিবার দলের স্থানীয় সরকার মননোয়ন বোর্ডের সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে। তবে সিদ্ধান্ত যাই হোক আওয়ামী লীগের নজর থাকবে জনপ্রিয়, স্বচ্ছ ও দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতাদের দিকে।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী সূত্রে জানা গেছে, ইতিমধ্যে ক্যাসিনো, দখল, মাদক, জুয়া, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ নানা অভিযোগে বর্তমান কাউন্সিলর,মনোনয়নপ্রত্যাশী দলীয় নেতাদের নিয়ে করা তালিকায় প্রায় ৫০ জন নেতার নাম ওঠে এসেছে। বিতর্কিত এসব নেতা ও কাউন্সিলরদের মনোনয়ন, সমর্থন না দিতে নির্দেশ রয়েছে আওয়ামী লীগের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের (উত্তর ও দক্ষিণ) প্রায় দুই ডজন কাউন্সিলর ও দলীয় নেতার বিরুদ্ধে ক্যাসিনো ও জুয়ার আসর পরিচালনা, মাদক ব্যবসা, ফুটপাত নিয়ন্ত্রণ ও পরিবহন চাঁদাবাজি, কাউন্সিল বৈঠকে অনুপস্থিতিসহ নানা অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠেছে। দলীয় প্রভাব খাটিয়ে এলাকার বিভিন্ন ক্লাব, সামাজিক সংগঠন, বিভিন্ন মার্কেট ও ফুটপাত নিয়ন্ত্রণে নেন তারা। খেলাধুলার নামে এসব ক্লাবে শুরু করেন ক্যাসিনো ও জুয়ার আসরসহ নানা অপরাধী কর্মকাণ্ড। সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার তালিকায় উঠে আসা এসব বিতর্কিত কাউন্সিলররা এবার আওয়ামী লীগের সমর্থন পাচ্ছেন না।

ক্যাসিনোসহ নানা অপকর্মে জড়িত থাকার অপরাধে ইতিমধ্যে গ্রেফতার হয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটির ৩২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মিজান, ৩৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর তারেকুজ্জামান রাজীব। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৩৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ময়নুল হক মঞ্জু। একই কারণে গ্রেফতারের ভয়ে সিঙ্গাপুরে পলাতক রয়েছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মমিনুল হক সাঈদসহ একাধিক কাউন্সিল। আসন্ন নির্বাচনে এসব কাউন্সিলরদের কেউই আওয়ামী লীগের সমর্থন, মনোনয়ন পাবেন না।

ঢাকায় ক্লাব ব্যবসার আড়ালে অবৈধ ক্যাসিনো পরিচালনার অভিযোগে গ্রেফতারকৃত যুবলীগের আলোচিত নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট ও তার অন্যতম সহযোগী এনামুল হক আরমান এখন কারাগারে। এছাড়া ক্যাসিনোকাণ্ডে এ পর্যন্ত যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া, প্রভাবশালী যুবলীগ নেতা জি কে শামীম, কৃষক লীগ নেতা শফিকুল আলম,মোহামেডান ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক লোকমান হোসেন ভূঁইয়া, গেণ্ডারিয়ার আওয়ামী লীগ নেতা এনামুল হক এনু,রুপম ভূঁইয়া এবং অনলাইন ক্যাসিনোর মূল হোতা সেলিম প্রধানও গ্রেফতার হয়েছেন। তাদের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বর্তমান কাউন্সিলর ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা জড়িত। এসব নেতারাও মনোনয়ন প্রত্যাশী।

অপরদিকে দখল,মাদক, জুয়া, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ নানা অভিযোগে ঢাকার দুই সিটির ১৩ কাউন্সিলর ও তাদের সম্পদ গোয়েন্দা নজরদারিতে। তাদের বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে ওঠা অভিযোগ আমলে নিয়ে সরকার বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে। তাদের অনেকের বিরুদ্ধে দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞাও আছে।

তারা হলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটির (ডিএসসিসি) ৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো.আশ্রাফুজ্জামান (ফরিদ), ১২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর গোলাম আশরাফ তালুকদার, ১৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোস্তফা জামান পপি,২০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরিদ উদ্দিন আহমেদ রতন, ২২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাজী তরিকুল ইসলাম সজীব, ২৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাসিবুর রহমান মানিক,৩০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. হাসান, ৭৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আবুল কালাম।

এছাড়া গোয়েন্দা নজরদারিতে আছেন- ঢাকা উত্তর সিটির (ডিএনসিসি) কাউন্সিলরদের মধ্যে ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. জামাল মোস্তফা, ৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. রজ্জব হোসেন, ৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. মোবাশ্বের হোসেন, ২৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফোরকান হোসেন এবং ৩০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল হাসেম (হাসু)।

বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তালিকাভুক্ত এসব কাউন্সিলরদের বেশির ভাগই গা ঢাকা দিয়েছেন। অফিস বা বাসায় তাদের পাওয়া যাচ্ছে না। দীর্ঘদিন থেকে সেবাগ্রহীতারাও তাদের সাক্ষাৎ পাচ্ছেন না। ওয়ার্ড সচিব বা কাউন্সিলের ঘনিষ্ঠজনদের মাধ্যমে চলছে সেবা কার্যক্রম।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ৩০ জানুয়ারি ভোটগ্রহণের দিন নির্ধারণ করে তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়ন দাখিলের শেষ সময় ৩১ ডিসেম্বর, মনোনয়নপত্র যাচাই ২ জানুয়ারি ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ৯ জানুয়ারি। দুই সিটিতে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হবে। সিইসি বলেন, বিদ্যমান ভোটার তালিকায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। দুই সিটিতে সব কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

একক প্রার্থী চূড়ান্ত করাই বিএনপির চ্যালেঞ্জ

দীর্ঘদিনের নিষ্ক্রিয়দের হঠাৎ তৎপরতায় ক্ষোভ-হতাশ ত্যাগীদেও * প্রার্থী মনোনয়নে তৎপর প্রভাবশালীরা

হাবিবুর রহমান খান
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করা এই মুহূর্তে বিএনপির প্রধান চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন দলটির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা। তাদের মতে, দীর্ঘদিন যারা দলীয় কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন না- এমন অনেকের নামও আলোচনায় রয়েছে।

কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করবেন বলে এলাকায় জানান দিচ্ছেন। এতে যোগ্য ও ত্যাগী নেতাদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে এক ধরনের চাপা ক্ষোভ ও হতাশা। এক্ষেত্রে প্রার্থী চূড়ান্তে মহানগর বিএনপির কোন্দল মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে। অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসন করে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করা সম্ভব না হলে মেয়র পদের ভোটে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার শঙ্কা রয়েছে।

এদিকে নিজের অনুসারীদের দলীয় মনোনয়ন পাইয়ে দিতে কেন্দ্রসহ মহানগরের প্রভাবশালী নেতারা নানা তৎপরতা শুরু করেছেন। পাশাপাশি প্রতিটি ওয়ার্ডে একক কাউন্সিলর প্রার্থী চূড়ান্ত করতে বিএনপির হাইকমান্ড থেকে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের নেতাদের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা প্রণয়নের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এছাড়া কেন্দ্রীয়ভাবেও জরিপ চালিয়ে একটা সম্ভাব্য তালিকা তৈরি করা হবে। এসব তালিকা লন্ডনে অবস্থানরত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে পাঠানো হবে। একাধিক তালিকা থেকে যোগ্য ও স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় নেতাদের কাউন্সিলর পদে সমর্থন দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, কাউন্সিলর মনোনয়নে আমরা এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেইনি। দলীয় ফোরামে আলোচনা করে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেব।

তিনি বলেন, কাউন্সিলরদের সম্ভাব্য তালিকা প্রণয়নে মহানগর নেতাদের দায়িত্ব দেয়া হয়ে থাকে। এবারও সে রকম হতে পারে। তবে তাদের তালিকাই চূড়ান্ত হবে তেমনটা নয়। আমরাও নানা মাধ্যমে খোঁজখবর নেব। যারা যোগ্য এবং ত্যাগী তাদেরই দলীয় সমর্থন দেয়া হবে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে কয়েক মাস আগ থেকেই মহানগরের প্রভাবশালী কয়েক নেতা নিজেদের মতো করে কাউন্সিলরদের সম্ভাব্য একটি তালিকা তৈরি শুরু করেছে। বিশেষ করে মহানগর উত্তরে এ তৎপরতা চোখে পড়ার মতো। মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত উত্তর বিএনপির সভাপতি এমএ কাইয়ুমের নির্দেশেই এ তালিকা হচ্ছে। উত্তরের সাধারণ সম্পাদক আহসানউল্লাহ হাসানসহ আরও কয়েক নেতা এর সঙ্গে জড়িত। তারা প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে তাদের নিজেদের অনুসারীদের নিয়ে এ তালিকা তৈরি করছেন। কেন্দ্র থেকে তালিকা চাওয়া হলে তারা এ তালিকা জমা দিতে পারেন।

সূত্র জানায়, সম্ভাব্য কাউন্সিলরদের এ তালিকা তৈরি নিয়ে ইতিমধ্যে মহানগরের নেতারা হাইকমান্ডের কাছে অভিযোগও করেছেন। যোগ্য ও ত্যাগীদের বাদ দিয়ে নিজেদের অনুসারী এবং কোথাও কোথাও অর্থের বিনিময়ে তালিকায় নাম দেয়া হচ্ছে। তাই বর্তমান কমিটির দেয়া সম্ভাব্য তালিকা যাচাই-বাছাই করতে হাইকমান্ডের প্রতি আহ্বানও জানানো হয়েছে।

কেন্দ্রীয় নেতাদের সমন্বয়ে গোপনে জরিপ চালিয়ে যোগ্য ও বিগত আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে ছিলেন এমন নেতাদের মনোনয়ন দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। সূত্র জানায়, উত্তরের শীর্ষ নেতারা কাউন্সিলরদের তালিকা প্রণয়নে সম্ভাব্য মেয়রদের সঙ্গে কোনো পরামর্শ করছে না। এক্ষেত্রে সম্ভাব্য মেয়রও তার অনুসারীদের কাউন্সিলর পদে সমর্থন দেয়ার অনুরোধ জানাতে পারেন। মেয়রের পছন্দের কাউকে কাউন্সিলর পদে মনোনয়ন দেয়া না হলে ভোটে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই সবার মতামতের ভিত্তিতে তালিকা করার পরামর্শ মহানগর নেতাদের।

সূত্র জানায়, ঢাকা উত্তরের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে কমিটির বড় একটি অংশ নাখোশ। থানা ও ওয়ার্ড কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে এ বিদ্রোহ দেখা দেয়। তা মারামারিতে রূপ নেয়। কাউন্সিলর প্রার্থীর তালিকা প্রণয়নে বিদ্রোহী গ্র“পের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হচ্ছে না।

এমন পরিস্থিতিতে বিদ্রোহীরাও পাল্টা একটি তালিকা তৈরির চিন্তাভাবনা করছে। জানতে চাইলে মহানগর উত্তরের সহসভাপতি ফেরদৌস আহমেদ মিষ্টি বলেন, কাউন্সিলরদের সম্ভাব্য তালিকা তৈরির জন্য কেন্দ্র থেকে এখনও কোনো নির্দেশনা পায়নি। আমরা চাই, এলাকায় যাদের প্রভাব রয়েছে, বিগত আন্দোলন সংগ্রামে যারা রাজপথে ছিলেন তাদেরই যেন মনোনয়ন দেয়া হয়।

তিনি বলেন,শোনা যাচ্ছে মহানগর নেতারা সম্ভাব্য তালিকা তৈরি করছেন। সেই তালিকায় তাদের পছন্দের লোক থাকবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বিগত কমিটিতে থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের যাদের নেতৃত্বে আনা হয়েছে তাদের অনেকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। আন্দোলন সংগ্রামে তাদের কোনো ভূমিকা নেই। এদের যদি কাউন্সিলর পদে মনোনয়ন দেয়া হয় তাহলে ভোটে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। মিস্টি বলেন, আমাদের সঙ্গে পরামর্শ না করে মহানগরের শীর্ষ নেতারা যদি তালিকা তৈরি করে তাহলে আমরাও আমাদের মতো করে একটি তালিকা করে কেন্দ্রে জমা দেব।

উত্তরের মতো দক্ষিণ সিটিতেও একক প্রার্থী চূড়ান্ত করতে হিমশিম খাবে বিএনপি। এ সিটিতেও কেন্দ্রীয় ও মহানগরের একাধিক নেতা তাদের অনুসারীদের মনোনয়ন পাইয়ে দিতে তৎপর। এছাড়া প্রতিটি ওয়ার্ডে এসব নেতার শক্তিশালী অনুসারী রয়েছেন। বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, প্রয়াত মেয়র সাদেক হোসেন খোকা, দক্ষিণের সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল,সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশারের অনুসারীরা দলীয় সমর্থন পেতে জোর লবিং শুরু করেছেন।

জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার বলেন, কাউন্সিলরদের সম্ভাব্য তালিকা তৈরি করতে দু-একদিনের মধ্যেই বৈঠকে বসব। মহানগর নেতাদের মতামতের ভিত্তিতে আমরা একটি তালিকা করে কেন্দ্রে পাঠাব। তিনি বলেন, একক প্রার্থী চূড়ান্ত করার কঠিন কাজ হবে। তারপরও চেষ্টা করব। আমাদের তালিকায় দেয়া নামও অনেক সময় পুরোপুরি আমলে নেয়া হয় না।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন। তারা দলীয় মনোনয়ন পেতে শুরু করছেন লবিং-তদবির। এদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা উত্তরের ২নং ওয়ার্ডে এসএম গোলাম, ৩নং ওয়ার্ডে মো. জুয়েল রানা,সরাফত আলী, জামান হোসেন,৬নং ওয়ার্ডে মাহফুজ হোসাইন খান সুমন, ইকবাল হোসেন,৭নং ওয়ার্ডে দেলোয়ার হোসেন দুলু, ২১নং ওয়ার্ডে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এজিএম শামসুল হক, বাড্ডা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মান্নান মোল্লা, ২২নং ওয়ার্ডে ঢাকা মহানগর বিএনপির সহসভাপতি ফয়াজ আহমেদ ফরু, জহিরুল ইসলাম ভূঁইয়া, ২৩নং ওয়ার্ডে কামাল আহমেদ দুলু, ২৪নং ওয়ার্ডে মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, মাহমুদুল আলম মন্টু, ২৬নং ওয়ার্ডে আজিজুর রহমান মোছাব্বির, ২৯নং ওয়ার্ডে মো. এনায়েতুল হাফিজ, ৩০নং ওয়ার্ডে মনোয়ার হাসান জীবন, হাজী জয়নাল আবেদীন, ৩৩নং ওয়ার্ডে আহমেদ আলী, ৩৪নং ওয়ার্ডে মো. মাসুম খান রাজেস, ৪৮নং ওয়ার্ডে আলী আকবর, ৪৯নং ওয়ার্ডে শাহাবউদ্দিন সাগর, ৫০নং ওয়ার্ডে দেওয়ান মো. নাজিমউদ্দিন, ৫১নং ওয়ার্ডে মোস্তফা কামাল হৃদয়, ৫৩নং ওয়ার্ডে তালহা, ৫৪নং ওয়ার্ডে হাজী জহিরুল ইসলাম এবং দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৪নং ওয়ার্ডে আশরাফুল রজিম, ২৫নং ওয়ার্ডে সাবেক কাউন্সিলর মো. আলতাফ হোসেন, স্থানীয় নেতা তাসাদ্দেক হোসেন বাবলু, ২৬নং ওয়ার্ডে মীর আশরাফ আলী আজম, আরমান হোসেন বাদল,২৭নং ওয়ার্ডে সাহিদা মোরশেদ, নাসির আহমেদ, ২৮নং ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর আনোয়ার পারভেজ বাদল, মনিউর রহমান মনির, ২৯নং ওয়ার্ডে শহিদুল ইসলাম বাবুল, শহিদুল ইসলাম রাসেল, টিপু সুলতান, নাজিমউদ্দিন নাজু, আমির হামজা মোল্লা, ৩০নং ওয়ার্ডে হুমায়ুন কবির, মো. ইলিয়াস, ৩১নং ওয়ার্ডে এমএ কাইয়ুম, আনোয়ারুল হক রনি, ইমরান আহমেদ রনি,৩২নং ওয়ার্ডে রফিকুল ইসলাম, হায়দার বাবলা, ৩৩নং ওয়ার্ডে মো. লতিফউল্লাহ জাফরু, ৩৪নং ওয়ার্ডে মো. মামুন, ৩৫নং ওয়ার্ডে মো. ইয়াকুব সরকার প্রিন্স, ৪১নং ওয়ার্ডে লিয়াকত আলী,৪৬নং ওয়ার্ডে হাজী মো. ফারুক হোসেন, ৪৭নং ওয়ার্ডে মাহবুব মওলা হিমেল, ৫১নং ওয়ার্ডে আ ন ম সাইফুল ইসলাম, ৫৪নং ওয়ার্ডে মো. মোজাম্মেল হোসেন ও৬৪নং ওয়ার্ডে ইসমাইল হোসেন ভূঁইয়া তুহিন।

মেয়র পদে বিএনপির মনোনয়নপত্র বিতরণ বৃহস্পতিবার :ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে আগ্রহী প্রার্থীদের মধ্যে দলীয় মনোনয়নপত্র আগামী বৃহস্পতিবার বিতরণ করবে বিএনপি। আর ফরম জমা দিতে হবে শুক্রবার। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে শনিবার অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিনই দলের পার্লামেন্টারি বোর্ড প্রার্থী চূড়ান্ত করবে। গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সোমবার রাতে স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ সিদ্ধান্ত জানান মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিকাল ৪টা থেকে আড়াই ঘণ্টাব্যাপী স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়। এতে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। লন্ডন থেকে বৈঠকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্কাইপে যুক্ত ছিলেন।

বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন,আমাদের আগেই সিদ্ধান্ত হয়েছিল স্থানীয় সরকারের নির্বাচনগুলোতে অংশ নেব এবং আমরা নিচ্ছি। সেই ধারাবাহিকতায় আমরা ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেও অংশ নেব। তবে সেটা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করবে নির্বাচনের পরিবেশ-পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় তার ওপর।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা মনে করি, তড়িঘড়ি করে নির্বাচন কমিশন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। আশঙ্কা করছি, নির্বাচন কমিশন সরকারি দলকে জেতানোর জন্যই এ ধরনের তাড়াহুড়া করে তফসিল ঘোষণা করেছে।

ইভিএমে সিটি নির্বাচনের বিরোধিতা করে মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচন কমিশন বলেছে-পুরো নির্বাচনটা ইভিএমে হবে। এটা অত্যন্ত আপত্তিজনক, আমরা এ সিদ্ধান্তের নিন্দা জানাচ্ছি। আমরা বলতে চাই, ইভিএমে যথেষ্ট সুযোগ থাকবে ভোটের ফলাফল ম্যানিপুলেট করার, নিয়ন্ত্রণ করার। সেজন্য আমরা এ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের বিরোধিতা করছি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, দুই সিটিতে মেয়র পদে আগ্রহীদের মধ্যে দলীয় মনোনয়নপত্র বিতরণ করা হবে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত এবং জমা দিতে হবে শুক্রবার বিকাল ৪টার মধ্যে। কাউন্সিলর পদে নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হচ্ছে না বলে এটা দলীয়ভাবে ঠিক করা হবে বলে জানান তিনি।

এছাড়া স্থায়ী কমিটির বৈঠকে খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা, তার বিচার ও জামিনের বিষয়ে অ্যামিনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বিবৃতি দেয়ায় সংস্থাটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয় বলে জানান বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, ১৯ ডিসেম্বর অ্যামিনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বিবৃতিটি দিয়েছে। এজন্য সংস্থাটিকে আমরা ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। শুধু দেশে নয়, এখন আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে সরকার যে নাটক করছে, তাকে তার প্রাপ্য জামিন দিচ্ছে না,তাতে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছে এবং তারা তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করছে।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক - তোফাজ্জল হোসেন
Mob : 01712 522087
ই- মেইল : [email protected]
Address : 125, New Kakrail Road, Shantinagar Plaza (5th Floor - B), Dhaka 1000
Tel : 88 02 8331019