বরিশালে নিখোঁজ প্রবাসীদের খোঁজে গোয়েন্দা সংস্থা

জয়যাত্রা ডট কম : 25/03/2020

বরিশাল ব্যুরো \ জেলার গৌরনদী উপজেলায় বিদেশ ফেরত ৫৪১ প্রবাসীর মধ্যে হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন মাত্র ১২৩ জন। অথচ গৌরনদীর ঠিকানা পাসপোর্টে ব্যবহার করে বিদেশ ফেরত বাকি ৪১৮ প্রবাসীর সন্ধান পাওয়া যাচ্ছেনা। তাদের অবস্থান নিশ্চিত না হওয়ায় করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশĽা করছেন এলাকাবাসী।
সূত্রমতে, এসব নিখোঁজ প্রবাসীদের খোঁজে মাঠে কাজ শুরু করেছেন গৌরনদী মডেল থানা পুলিশ, পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থা ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। গৌরনদীর বার্থী ইউনিয়নের জহের জাহান ফকির জানান, তাদের প্রতিবেশী প্রবাসী হাফিজুল ওরফে হাফিজ ফকির কয়েকদিন পূর্বে ওমান থেকে বাড়িতে এসে হাট-বাজার ও এলাকায় ঘোরাফেরা করতে থাকে। গত ১৮ মার্চ হাফিজ জ্বর, কাশি ও সর্দিতে আক্রান্ত হলে গৌরনদী হাসপাতালে গিয়ে আতĄগোপন করে। খবর পেয়ে থানার এসআই আসাদুľামান খান ওইদিন হাফিজের বাড়িতে এসে তাকে না পেয়ে তার পরিবারের ছয় সদস্যকে ১৪দিন ঘরের মধ্যে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। সেইদিন থেকেই হাফিজ আতĄগোপণে থাকলেও তার পরিবারের সদস্যরা ঘরের ভেতরই থাকছেন। বিদেশ ফেরতরা হোম কোয়ারেন্টাইনের নির্দেশনা না মেনে অবাধে ঘোরাফেরা করার কারণে করোনার ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশĽা করছেন এলাকাবাসী।
খোঁজনিয়ে জানা গেছে, গৌরনদীর বার্থী এলাকায় অতিসম্প্রতি ইতালি থেকে ফিরেছেন মামুন সরদার ও দুলাল সরদার। একই উপজেলার কটস্থল গ্রামে ফিরেছেন ইতালি প্রবাসী মাসুদ মাঝি ও জিয়া মাঝি। বড় দুলালি গ্রামের নিজাম মুন্সি ও জলিল সরদার ইতালি, বাউরগাতি গ্রামের আবুল মোল্লা এবং টরকী বন্দর মসজিদ মার্কেটের নিউ খান গার্মেন্টসের মালিকের ভাই মতিউর রহমান মতি কানাডা থেকে, কসবা গ্রামের আয়াতুল্লাহ খমেনি নামের এক প্রবাসী ফ্রান্স থেকে বাড়িতে ফিরে হোম কোয়ারেন্টিনে না এসে তারা প্রকাশ্যে হাট ও বাজারে ঘুরে বেড়াচ্ছে। একইভাবে আগৈলঝাড়া উপজেলার চেঙ্গুটিয়া গ্রামে ইতালি থেকে একই পরিবারের তিনজনসহ মালেশিয়া ও ফ্রান্স থেকে অতিসম্প্রতি বাড়িতে ফিরে প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছেন অসংখ্য প্রবাসীরা।
কয়েকজন প্রবাসীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা সাংবাদিকদের বলেন, তাদের এয়ারপোর্টে বিভিনś পরীক্ষা নিরিক্ষা করা হয়েছে। তাদের শরীরে করোনার কোন সংক্রমণ পাওয়া যায়নি। তারপরেও হোম কোয়ারেন্টিনে না গিয়ে ওইসব প্রবাসীরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করায় এলাকাবাসীর মধ্যে আতĽ বিরাজ করছে।
এ ব্যাপারে গৌরনদী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহাবুবুর রহমান জানান, ইতালী, গ্রীস, ওমান, যুক্তরাজ্য, কুয়েত, সৌদি, ইরাক, ইরান, চীন, ফ্রান্স, ভারতসহ বিদেশ থেকে ৫৪১জন প্রবাসী গৌরনদীতে এসেছেন বলে তারা তথ্য পেয়েছেন। এদের মধ্যে ১২৩জন প্রবাসীকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। প্রাপ্ত তালিকায় প্রবাসীর নামের সামনে পূর্নাঙ্গ ঠিকানা না দিয়ে শুধুমাত্র গৌরনদী লেখা রয়েছে। তাই বিদেশ ফেরত বাকি ৪১৮ প্রবাসীর অবস্থান এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তিনি জানান, অবস্থান নিশ্চিত হাওয়ার জন্য তাদের সন্ধানে কাজ করছে পুলিশ। তার ধারনা বিদেশ ফেরত বাকিরা গৌরনদীতে অবস্থান না করে দেশের বিভিনś জায়গায় অবস্থান করছে। ফলে তাদের অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছেনা।
বরিশালের সিভিল সার্জন ডাঃ মনোয়ার হোসেন বলেন, হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা ১২৩জন প্রবাসীর সাথে আমরা সার্বক্ষনিক যোগাযোগ রাখছি। তাদের প্রত্যেককে ১৪দিন পারিবারিক কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তাদের কারও শরীরে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ নেই। এছাড়া তাদের কারও শরীরে করোনা ভাইরাসের উপসর্গ দেখা গেলে সরকারিভাবে সব ধরনের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে। বিদেশ ফেরত বাকী প্রবাসীদের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার জন্য তাদের খুঁজছেন স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা।
গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ইসরাত জাহান জানান, হোম কোয়ারেন্টাইন না মানায় গত ২৪ মার্চ উপজেলার বড় কসবা গ্রামের করিম সরদারের পুত্র রুহুল আমীন সরদারকে (২৫) তিন হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একইসাথে তাকে হোম কোয়ারেন্টাইনে এনে তার বসতঘরে লাল নিশান উড়িয়ে দেয়া হয়েছে। সেখানে পাহারার জন্য একজন আনসার সদস্যকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, করোনা মোকাবেলার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিন শয্যা বিশিষ্ট আইসোলেশন ইউনিট খোলা হয়েছে। উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে ও একটি পৌরসভার আটটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আইসোলেশন হিসেবে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা বিদেশ ফেরত কারও শরীরে করোনার লক্ষণ না পাওয়ায় এখনো কেউ আইসোলেশনে ভর্তি হয়নি।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক - তোফাজ্জল হোসেন
Mob : 01712 522087
ই- মেইল : [email protected]
Address : 125, New Kakrail Road, Shantinagar Plaza (5th Floor - B), Dhaka 1000
Tel : 88 02 8331019