• প্রচ্ছদ » বিভাগীয় সংবাদ » নলছিটির রানাপাশায় হতদরিদ্রদের নামের তালিকায় স্বজনপ্রতি:কোটিপতিরা পাচ্ছেন চাল*মৎস্য তালিকায় নেই প্রকৃত জেলেদের নাম


নলছিটির রানাপাশায় হতদরিদ্রদের নামের তালিকায় স্বজনপ্রতি:কোটিপতিরা পাচ্ছেন চাল*মৎস্য তালিকায় নেই প্রকৃত জেলেদের নাম

জয়যাত্রা ডট কম : 24/05/2020


মনির হোসেন,বরিশাল:ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার ৪নং রানাপাশা ইউনিয়নে হতদরিদ্রদের নামের তালিকায় স্বজনপ্রতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।সংশোধিত নামের তালিকায় রয়েছে কোটিপতি ও সরকারি চাকরীজিবি গৃহবধুর নাম।এমনকি একই নামে দুই কার্ডের তালিকায় নাম লক্ষ্য করা গেছে।যেমন,ক্রমিক নং-৬০৪-৬নং ওয়ার্ডের হদুয়া গ্রামের নুরবানু পিতা মৃত্যু মকুবুল হোসেন হাং,একই নাম ক্রমিক নং৬৩৭,কপালভেড়া গ্রামের ৫ নং ওয়ার্ডের বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী(ঠিকাদার)মো:হুমাউন কবির মিনা,তার স্ত্রী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য পরিদর্শিকা আফরোজার কন্যা সরকারী চাকুরীজীবির স্ত্রী(ঢাকায় বসবাসরত)ত্বন্নী নামে একটি নাম সংশোধিত তালিকায় লক্ষ্যকরা যায়।যার ক্রমিক নং ৫০৪।এ ব্যাপারে গতকাল হুমাউন মিনার সাথে কথা হলে তিনি জানান ওই নামে আমি চাল উত্তলন করে অন্য একজনকে দেই।তিনি সাবেক ‍শিল্পমন্ত্রীর দোহাই দিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের উপর চরাও হয়।তিনি এ চালের ব্যাপারে কিছু না বলে সব কথা এরিয়ে যান এবং ক্যামেরার সামনে চুপচাপ বসে থাকেন,এছাড়াও ওই এলাকার ডিলার ক্রমিক নং ৪৫৭,তৈয়ব আলী মোল্লার পুত্র মো: বাহার আলী মোল্লাসহ তার নিকট আত্বীয় এবং স্থানীয় দক্ষিন তেঁতুল বাড়ীয়া গ্রামের ইউপি সদস্য মোসা: কাজল রেথার স্বামী মো:মোতালেব ফরাজীর নামসহ অন্য ইউপি সদস্যদের আত্বীয়দের নাম দিয়ে ১০ টাকা কেজি দরে চাল উত্তলোন করার একাধিক অভিযোগ রয়েছে।যা সংশ্লিষ্টরা খতিয়ে দেখলে বেড়িয়ে আসবে থলের বিড়াল।
এছাড়া্ও ওই নামের তালিকায় রয়েছে ভিজিডি,ভিজিএফ,জেলেদের কাডধারী অনেক ধনাট্যব্যাক্তি,ব্যাবসায়ী,চাকুরীজিবী,বিদেশ প্রবাসী ও কৃষক-কৃষানীর নাম।একই ব্যাক্তির নাম রয়েছে বর্তমানে করোনা ভাইরাসে দেয়া প্রধান মন্ত্রীর বিশেষ ত্রানসহ সকল ত্রান তালিকায়।একই খানায়(ঘরে) রয়েছে একের অধিক নাম। এ ছাড়াও জেলেদের বিশেষ বরাদ্ধের নামের তালিকায় রয়েছে স্থানীয় নব্য আওয়ামীলিগে যোগদানকারী সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ কবির হোসেন খলিফাসহ অনেক ওয়ার্ডের আওয়ামীলিগ নেতাদের নাম।তারা প্রকৃত জেলে না হয়েও সরকারের বিশেষত্রান তালিকায় চেয়ারম্যান এবং নলছিটি উপজেলা মৎস্য অফিসারের যোগসাজসে সংযোযন করেছেন তাদের নামের তালিকা ।সরকারের দেয়া প্রকৃত কাডধারী জেলেদের অনলাইন তালিকায় নাম থাকলেও পাচ্ছে না সরকারী বিশেষ ত্রান সহায়তা।কয়েকজন কাডধারী প্রকৃত জেলেদের সাথে আলাপ হলে তারা জানান,”মোরা সরকারী আইন কানুন মেনে নদীতে মাছ ধরি, এহন ত্রান সহায়তা পাই না।যারা জেলে না তারা অবরোধে নেতৃত্ব দিয়ে মাছ ধরায় এহন আবার ত্রানেও নাম লেথাইয়া ৪০কেজি করে চাউল নেয়” কেউ পাচ্ছে কেউ পাচ্ছে না ।এমনই অভিযোগ স্থানীয় জনসাধরনসহ জেলেদের।ওই এলাকার মধ্য আয়ের কয়েকজন ব্যাক্তি(নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক)তারা জানান”মোরা কারো কাছে কইতেও পারি না সইতেও পারি না”এহন মোরা না খাইয়া মরবো,হুনছি সরকার অনেক ত্রান দেয় মোরা কিছুই পাই না ।এরই অভিযোগ পেয়ে রানাপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: মাসুদুর রহমান সালাম সম্প্রতি(তিন দিন ব্যাপী) প্রত্যেক ওয়ার্ডের হতদরিদ্রদের মাইকিং করে পরিষদের সামণে ইউনিয়নের ত্রান কমিটি নিয়ে যাচাই বাচাই করে নতুন তালিকা প্রনয়ন শুরু করেছেন।এ ব্যাপারে ইউপি সদস্যরা অভিযোগ করে বলেন, চেয়ারম্যান আমাদের অবহিত না করে পরিষদে করোনা ভাইরাসে লোক সমগম করে নাম অন্তভুক্ত করছেন।এ ব্যাপারে চেযারম্যান মাসুদুর রহমান সালাম জানান,অমি প্রত্যেক ওয়ার্ডের ইউপি সদ্যদের হতদরিদ্র নামের তালিকা দিতে বলেছি।এতে যদি কেউ স্বজনপ্রতি করে থাকে সে জন্য সেই দায়ী থাকবে।এ ব্যাপারে নলছিটি উপজেলা মৎস্য অফিসার মোসা:ছাইয়্যেদা আক্তার এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ওই ইউনিয়নে ৮০জন জেলেদের মধ্য ৬৬ জনের তালিকা অনুযায়ী চাল বিতারন করা হয়েছে।জেলেদের সনাক্ত করার দায়িত্ব জনপ্রতিনিধিদের সে অনুযায়ী ত্রান সহায়তা দেয়া হয়।স্বজনপ্রতি করলে জনপ্রতিনিধিরাই দায়ী থাকবেন।
নলছিটি উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুম্পা শিকদার জানান,করোনা ভাইরাসে সরকারের দেয়া বিশেষ ত্রানসহ রেশন কাডে কেউ অনিয়ম করলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। ইউনিয়ন ট্যাক অফিসারের মাধ্যমে অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে। সত্যতা পেলে আইন আনুগ ব্যাবস্থা নেয়া হবে।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক - তোফাজ্জল হোসেন
Mob : 01712 522087
ই- মেইল : [email protected]
Address : 125, New Kakrail Road, Shantinagar Plaza (5th Floor - B), Dhaka 1000
Tel : 88 02 8331019