• প্রচ্ছদ » অর্থনীতি » ভর্তুকি দিয়েও বাস্তবায়িত হচ্ছে না সরকারের উদ্দেশ্য অনিয়ম আর দূর্নীতিতে ডুবতে বসেছে গোপালগঞ্জ সরকারি হাঁস-মুরগি পালন কেন্দ্র


ভর্তুকি দিয়েও বাস্তবায়িত হচ্ছে না সরকারের উদ্দেশ্য অনিয়ম আর দূর্নীতিতে ডুবতে বসেছে গোপালগঞ্জ সরকারি হাঁস-মুরগি পালন কেন্দ্র

জয়যাত্রা ডট কম : 30/06/2020

দুলাল বিশ্বাস, গোপালগঞ্জ :

কর্মকর্তার অনিয়ম, দুর্নীতিতে ডুবতে বসেছে গোপালঞ্জের একমাত্র সরকারি হাঁস মুরগি পালন কেন্দ্র। সরকারি এ খামারটিতে উৎপাদিত ডিম, মুরগির বাচ্চা ও মুরগি বেশি দামে বিক্রি করে অর্থ আত্মসাত, মুরগির বাচ্চা, মাংস ও ডিম বিক্রয়ের কোনো তালিকা না থাকা, অবাধে ব্যবসায়ীদের কাছে ডিম-মাংস-ওষুধ এবং খাবার বিক্রি, নারী কেলেঙ্কারীসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে গোপালগঞ্জ হাঁস মুরগি পালন কেন্দ্রের উন্নয়ন কর্মকর্তা মির্জা নাজমুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এছাড়া খামার বাবদ সরকার প্রতি বছরে প্রায় ৭০-৮০ লক্ষ টাকা ভর্তুকি দেয় মাংসের চাহিদা পূরণের জন্য। যেখান থেকে বেকার যুবক, হতদরিদ্র কৃষক ও দুঃস্থ মহিলাদের মধ্যে হাঁস-মুরগির বাচ্চা কমদামে সরবরাহের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির কথা থাকলেও বাস্তবতা দেখা যায় ভিন্ন। এই করোনাকালেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। খামারে বাচ্চা উৎপাদন করার কথা থাকলেও বাস্তবে উল্টো মনগড়া নিয়মে পরিচালিত হচ্ছে এই প্রতিষ্ঠানটি। সরেজমিনে গিয়ে অনিয়মের সত্যতাও মিলেছে।
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কয়েক দফাই বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীর কাছে খামারের মুরগী ও ডিম বিক্রি করতে দেখা গেছে ওই কর্মকর্তাকে। এছাড়াও খামারে স্টোর রুমের জন্য ৩টি কক্ষ বরাদ্দ থাকলেও রুমগুলিতে গিয়ে দেখা যায় নাজমুল ইসলাম ব্যবহার করছেন কোয়ার্টার হিসেবে। ভবনটির মধ্যে প্রতিদিন হচ্ছে রান্না খাওয়া দাওয়া। সেখানে ডিম সরিয়ে রেখেছেন। স্বস্ত্রীক সেখানে না থাকলেও প্রায়ই দিনে ও রাতে তার কক্ষে নারীদের যাতায়াত আছে। ওই সব নারীদের সাথে তার অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। এমন প্রমাণও পাওয়া গেছে প্রতিষ্ঠানটির স্টোররুম খ্যাত নাজমুলের শয়ন কক্ষে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই অফিসের একজন কর্মচারী জানান, গত ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে মুরগি বিক্রি করেছেন ৬৬৩টি, প্রতিটি মুরগী বিক্রি করেছেন ১২০ টাকা দামে কিন্তু সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছেন ৬০ টাকা করে। অক্টোবরে ৩৬০টি মুরগী বিক্রি করে ১২০ টাকা দামে, জমা করেছেন ৬০ টাকা করে। নভেম্বরে মোরগ বিক্রয় করেছেন ৭০০টি, প্রতিপিচ ১৮০ টাকা করে। কিন্তু সরকারি কোষাগারে জমা করেছেন ৬০ টাকা করে। এছাড়াও অফিসের ফার্ণিচার ক্রয় বাবদ ৫০ হাজার টাকা, ল্যাফটপ বাবদ ৪০ হাজার টাকা, অফিস মেরামত বাবদ ৩ লক্ষ টাকা বিল ভাউচার করে টাকা আত্মসাত করেছেন। প্রতিদিন ১২০ গ্রাম করে মুরগিকে খাদ্য খাওয়ানোর কথা থাকলেও খাওয়ানো হচ্ছে ৬০-৭০ গ্রাম। যারফলে প্রতিনিয়ত খাদ্যাভাবে মুরগি মারা যাচ্ছে। সেই অবশিষ্ট খাদ্যগুলো বাইরে বিক্রি করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে ওই অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারিরা। জেনারেটর মেশিন না চালিয়ে নিয়মিত তেল খরচ বাবদ ভূয়া বিল ভাউচার করে টাকা আত্মসাত। ভ্যাক্সিন, টিকা ও ওষুধ মুরগিকে না দিয়ে বাইরে বিক্রি করছেন নাজমুল ইসলাম।
জেলার বেকার যুবক, দরিদ্র কৃষক ও দুঃস্থ মহিলাদের মধ্যে স্বল্পমূল্যে মুরগির বাচ্চা ও ডিম সরবরাহের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ তাঁদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যেই সরকারিভাবে এ উদ্যোগ গৃহীত হয়। সে লক্ষ্য পূরণে ওই অফিসে কর্মরতরা সরকারি উদ্যোগ বাস্তবায়নতো দূরের কথা বরং নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এছাড়াও করোনা দুর্যোগের মধ্যে রমজান মাসে খামারের ১৫শ মুরগি রাতের আধারে বিক্রি করে হিসেবে দেখিয়েছেন মৃত মুরগি হিসেবে। সরকারের কয়েকলক্ষ টাকা ক্ষতি দেখিয়ে তা আত্মসাত করেছেন।
কোনরকম তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে গোপালগঞ্জ হাঁস মুরগি পালন কেন্দ্রের উন্নয়ন কর্মকর্তা মির্জা নাজমুল ইসলাম বলেন, এই বিষয়ে কোনো বক্তব্য আমি দেবো না। যদি পারেন ঢাকা থেকে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সঙ্গে নিয়ে আসেন।
গোপালগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ আজিজ আল মামুন বলেন, এর আগেও আমার কাছে ওই হাঁস-মুরগি উন্নয়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ এসেছে। খামারটি আমার আওতাধীন নয়। তারপরও আমি মৌখিকভাবে তাকে সতর্ক করেছি।
এ বিষয়ে প্রাণি-সম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (উৎপাদন) মোঃ নজরুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, হাঁস-মুরগি পালন কেন্দ্রের কোন অনিয়ম বা অভিযোগ থাকলে জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা আমাদের জানানোর কথা। ওই উন্নয়ন কর্মকর্তা নাজমুল ইসলামের বিরুদ্ধে কোনো অনিয়ম বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে আমরা তদন্ত করে দেখব। সত্যতা পেলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক - তোফাজ্জল হোসেন
Mob : 01712 522087
ই- মেইল : [email protected]
Address : 125, New Kakrail Road, Shantinagar Plaza (5th Floor - B), Dhaka 1000
Tel : 88 02 8331019