গাসিক মেয়র জনবান্ধব ‘ট্যাক্স মডেল’ প্রবর্তন করলেন

জয়যাত্রা ডট কম : 09/07/2020

নূরে আলম জিকু গাজীপুর প্রতিনিধি :

করের পরিমাণ বাড়ছে না, আওতা বাড়ছে; এতে উপকৃত হবে শহর
জনগণের ওপর করের বোঝা না বাড়িয়েও যে সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখা যায়, তার নজির সৃষ্টি করেছেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। তিনি এমন একটি ট্যাক্স মডেল প্রবর্তন করেছেন, যাতে নাগরিকদের কর বাড়ছে না। কিন্তু আওতা বাড়িয়ে বাড়তি কর দিয়ে অব্যাহত রাখতে পারবেন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড।সাধারণত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর রাজস্ব আয়ের বড় একটা অংশ আসে হোল্ডিং ট্যাক্স এবং ট্রেড লাইসেন্স খাত থেকে। সরকারি অনুদানের পাশাপাশি সিটি করপোরেশনের কর্মীদের বেতন-ভাতা এবং উন্নয়ন কাজ চলে এই দুই খাতের অর্থ দিয়ে। কিন্তু বিগত সময়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের আর্থিক মডেল নিয়ে খুব একটা সচেতন ছিলো না কোন জনপ্রতিনিধি। ফলে কোন কোন ক্ষেত্রে নগরবাসীর জন্য হোল্ডিং ট্যাক্স এবং ট্রেড লাইসেন্স মাথার বোঝায় পরিণত হয়েছে। আবার কোন কোন এলাকা থেকে রাজস্ব বঞ্চিত হয়েছে সিটি করপোরেশন। তাই করের পরিমাণ না বাড়িয়ে আওতা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম। এর ফলে সিটি করপোরেশন এবং নগরবাসী উভয়ই উপকৃত হবেন বলে মনে করছেন সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা। এই প্রথমবারের মতো ‘ট্যাক্স মডেল’ নিয়ে কাজ করার জন্য মেয়রকে সাধুবাদ জানিয়েছেন তারা।জানা গেছে, আয়তনে দেশের সবচেয়ে বড় সিটি করপোরেশন গাজীপুর। মোট হোল্ডিংয়ের ৮০ শতাংশ শিল্প কারখানা গাজীপুর সিটিতে অবস্থিত। মোট ৮টি আঞ্চলিক অফিসের আওতায় রয়েছে সব কয়টি ওয়ার্ড। প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন কাউন্সিলর এবং প্রতিটি অঞ্চলে দায়িত্ব পালন করছেন সরকারের উপসচিব পদমর্যাদার আটজন আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা।

অঞ্চলভিত্তিক রাজস্ব আহরণের বিষয়টি মূলত প্রতিটি আঞ্চলিক অফিস থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। ট্যাক্স মডেল ঠিক করার জন্য সম্প্রতি গাজীপুরের মেয়র আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন। আর পুরো রাজস্ব মডেল ঠিক করে সিটি করপোরেশনকে আর্থিকভাবে সক্ষম করে গড়ে তুলতে প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা কাজ করছেন।জানা গেছে, ভবনের উচ্চতা, ফ্ল্যাটের সংখ্যা, ভাড়া দেওয়া ফ্ল্যাটের সংখ্যা এবং বাড়ির অবস্থান— এই তিন তথ্য বিবেচনায় হোল্ডিং ট্যাক্স নিধারণ করা হয়ে থাকে। বহুতল ভবনের ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই হোল্ডিং ট্যাক্সের সংখ্যা বাড়ে। আবার কাঁচা ও আধাপাকা বাড়ির ক্ষেত্রে হোল্ডিং ট্যাক্সের পরিমাণ কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। এতে করে গাজীপুর সিটিতে বসবাস করা দরিদ্র ও গরিব মানুষেরা উপকৃত হবেন।এ ছাড়া প্রতিটি ওয়ার্ডে করের পরিধি বাড়াতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন মেয়র। ফলে কোন ব্যক্তির ওপর কর বোঝা হয়ে দাঁড়াবে না। কোন ধরণের কর না বাড়িয়ে অনেক এলাকা করের আওতায় আনার ফলে একদিকে সিটি করপোরেশনের রাজস্ব আয় বাড়বে অন্যদিকে কোন নাগরিক ক্ষতিগ্রস্থ হবেন না।
এ ছাড়া গাজীপুর সিটি করপোরেশন এলাকায় স্থাপিত সব কয়টি শিল্প প্রতিষ্ঠানকে ট্রেট লাইসেন্সের আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছেন মেয়র। এর বাইরে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন জাহাঙ্গীর আলম। এভাবে সব ধরণের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে ট্রেড লাইসেন্সের আওতায় এনে আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে চান তিনি।ইতিমধ্যেরাজস্বআহরণের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে মাঠে নেমেছেন সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা। রাজস্ব আয়ের পাশাপাশি সিটি করপোরেশনের অন্যান্য আয় বাড়ানোর ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি।
জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘সিটি করপোরেশন মূলত রাজস্ব ও সরকারি অনুদান দিয়ে চলে। যে সিটি করপোরেশনের নাগরিকরা যত সচেতন সে সিটি করপোরেশন তত উন্নত। আপনাদের দেওয়া কর দিয়ে সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন কাজ করা হয়েছে। রাস্তাঘাট ও অবকাঠামো উন্নয়ন, সড়ক বাতি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্য সুরক্ষাসহ সব ধরণের সেবা দিয়ে থাকে সিটি করপোরেশন। ফলে এসব কাজ করতে সিটি করপোরেশনের অর্থের প্রয়োজন হয়। এই কাজের বড় একটা অংশ সরকার সংস্থান করে। তবে আমরা নিজেদের সক্ষমতা অনুযায়ী কর দিয়ে সিটি করপোরেশনকে আরো উন্নত করতে পারি।’
প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে মেয়র বলেন, ‘আমি দুই বছর আগে এই সিটি করপোরেশনের দায়িত্বভার কাঁদে তুলে নিয়েছি। এরপর থেকে রাস্তাঘাটের বিস্তর উন্নয়ন হয়েছে। ৫০০ কিলোমিটার রাস্তার কাজ এখনো চলমান রয়েছে। অন্ধকার সড়কে জ্বলেছে বিদ্যুতের বাতি। এখন অপরাধ অনেকাংশে কমে এসেছে সিটি করপোরেশন এলাকায়। এইসব অবদান জননেত্রী শেখ হাসিনার। তিনি মূলত এই সিটি করপোরেশনের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দিয়েছেন, অর্থ অনুদান বাড়িয়েছেন।’
হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধেন আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, ‘নামমাত্র হোল্ডিং ট্যাক্স ধার্য করা হয়েছে। এই সিটির উন্নয়ন ধরে রাখার জন্য আপনারা হোল্ডিং ট্যাক্স নিয়মিত পরিশোধ করেন। এ ছাড়া ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে বৈধভাবে ব্যবসা করেন। আপনাদের সার্বিক নিরাপত্তা এই সিটি করপোরেশন দেবে। ব্যবসার অনুকূল পরিবেশ আমি সৃষ্টি করে দেবো। কোন ধরনের কর না বাড়িয়ে শুধুমাত্র করের আওতা ও পরিধি বাড়িয়ে আমি সিটি করপোরেশনের অর্থের সংস্থান করবো। উন্নয়ন ধরে রাখবো এই সিটির।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক - তোফাজ্জল হোসেন
Mob : 01712 522087
ই- মেইল : [email protected]
Address : 125, New Kakrail Road, Shantinagar Plaza (5th Floor - B), Dhaka 1000
Tel : 88 02 8331019