• প্রচ্ছদ » জাতীয় » ঢাকা ওয়াসায় সিস্টেম এনালিস্টের শূন্যপদ নিয়ে কৌতহল!


ঢাকা ওয়াসায় সিস্টেম এনালিস্টের শূন্যপদ নিয়ে কৌতহল!

জয়যাত্রা ডট কম : 13/07/2020

ফারুক আলম : ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ায় সরকারি ও স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংরক্ষণে কাগজের ওপর চাপ কমিয়ে কম্পিউটারাইজ বা সফটওয়্যার করে তথ্য সংরক্ষণ করছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর বছরের পর বছর ডিজিটাল তথ্য সংরক্ষণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থাকেন সিস্টেম এনালিস্ট। যা ঢাকা ওয়াসায় দীর্ঘদিন ধরে এ পদটি শূন্য পড়ে আছে। নতুন করে নিয়োগ না দিয়ে এই পদে ঢাকা ওয়াসার এমডি নিজের সানিধ্যের লোকে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দিয়ে চালিয়ে নিচ্ছেন। তবে যিনি সিস্টেম এনালিস্টের ভারপ্রাপ্তের দায়িত্বে রয়েছেন তিনি ঠিকমত কম্পিউটার চালাতেও পারেন না। কারণ তিনি হচ্ছেন কারিগরী বিষয় সম্পর্কে  জানা একজন মানুষ। ফলে সম্প্রতি ঢাকা ওয়াসার সার্ভারের ত্রুটির সৃষ্টিতে গ্রাহকরা ঠিকমত পানির বিল পরিশোধ করতে পারেনি। এতে ঢাকা ওয়াসার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মনে করেন, সিস্টেম এনালিস্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ। এই পদের দায়িত্বে অভিজ্ঞ লোক না থাকায় যেকোনো সময়ে ওয়াসার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গায়েব হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জানা গেছে, করোনাভাইরাস সময়কালে ঢাকা ওয়াসার সার্ভার ত্রুটির কারণে পানির বিল জমা দিতে পারছেন না গ্রাহকরা। গ্রাহকরা পানির বিল পরিশোধে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। ঢাকায় তিন লাখ ৭৯ হাজার ৬৪৮টি পানির সংযোগ রয়েছে। এর বাইরে নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর জন্য বেশ কিছু সংযোগ আছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে পানির বিল পরিশোধ করতে গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে ওয়াসার পক্ষ থেকে। পানির বিল অনলাইনে পরিশোধ করেন গ্রাহকরা। কিন্তু ওয়াসার সার্ভার ডাউন করায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনেক গ্রাহক বিল পরিশোধ করতে পারবেন না। কারণ বেশির ভাগই বিভিন্ন দোকানে গিয়ে অনলাইনে পরিশোধ করতে অভ্যস্ত। করোনার কারণে ওইসব দোকান বন্ধ ও ঢাকা ওয়াসার সার্ভার ডাউন থাকায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা বিল পরিশোধ করতে পারবেন কি-না তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন অনেকেই।

ঢাকা ওয়াসার সার্ভারের সমস্যার কথা স্বীকার করে ওয়াসার সিস্টেম এনালিস্ট ও কম্পিউটার ইনর্চাজ ইলিয়াস মাহমুদ বলেন, সার্ভারের সমস্যার কারণে গ্রাহকদের বিল পরিশোধের সাময়িক সমস্যা হয়েছে। তবে বর্তমানে সেই সমস্যা নেই। আর ঢাকা ওয়াসার মোট ৮টি সার্ভারের আওতায়ভুক্ত। ধীরে ধীরে সার্ভারগুলো ডাউন হওয়ায় ফের ৩টি নতুন সার্ভারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুরনো সার্ভারের তথ্যগুলো ধীরে ধীরে নতুন সার্ভারে স্থান্তরণ করা হবে বলে জানান তিনি।

কলাবাগান এলাকার বাসিন্দা মফিজুর রহমান বলেন, গত ৩ দিন ধরে পানির বিল পরিশোধের জন্য কয়েকটি দোকানে ঘুরলাম। কিন্তু ওয়াসার সার্ভার ডাউনের কারণে বিল দেওয়া সম্ভব হয়নি। এই করোনাকালীন সংকটে এভাবে বারবার বাড়ি থেকে বের হওয়ায় সম্ভব নয়। পানির বিল পরিশোধে এক মাস দেরি হলে বিলম্ব ফি দিতে হবে। ওয়াসার উচিত ছিল জরিমানা মওকুফ করা। আমরা যেসেব দোকানে গিয়ে বিল জমা দিতাম তা বন্ধ রয়েছে। করোনাভাইরাস সংকটে ঢাকার কোনো বাড়ির পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করতে ঢাকা ওয়াসাকে চিঠি দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। তবে জরিমানা মওকুফের বিষয়টি সম্পূর্ণ ওয়াসা বোর্ডের এখতিয়ার।

জানা যায়, ওয়াসার সার্ভারের সমস্যা হওয়ায় ভুতুড়ে বিলের বিড়ম্বণায় পড়েছেন গ্রাহকরা। ফলে ফলে পানির ব্যবহার কমেছে কিন্তু পানির বিল বেড়েছে কয়েকগুণ। বিল পেয়ে চক্ষু চড়ক গাছ বাড়ি মালিকদের। তারা ভুতুড়ে বিলের কারণ জানতে ওয়াসার অফিসগুলোতে ধরনা দিচ্ছেন কিন্তু কোনো সমাধান পাচ্ছেন না। রাজধানীর বাড্ডার বাসিন্দা আমিনুল হক। তার বাড়িতে তিনি ছাড়াও চারটি পরিবার ভাড়া থাকে। এ মাসে তার পানির বিল এসেছে ৫৮০০ টাকা। আমিনুল হক বলেন, পানির বিল বৃদ্ধির কারণে কিছু বাড়তে পারে। সর্বোচ্চ দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা হতে পারে। কিন্তু এখন যেখানে অনেক ভাড়াটিয়া চলে গেছে সেখানে এত অস্বাভাবিক বিল কেন বুঝতে পারছি না।

রাজধানীর ৫৩১/বি/১ পশ্চিম শেওড়াপাড়ার (সাদেক মসজিদ গলি) কাদামাটি আবাসিক ভবনটির বিপরীতে এতদিন প্রতি মাসে পানির বিল আসত ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা। গত চার-পাঁচ মাস হলো সেই বিল বেড়ে ১৬-১৭ হাজার টাকা দাঁড়িয়েছে। কিন্তু ভবনের বাসিন্দারা পানির ব্যবহার বাড়াননি। আগের মতোই তারা পানি ব্যবহার করেন। এই মাত্রাতিরিক্ত পানির বিল বৃদ্ধির কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না তারা। ওয়াসার সাথে যোগাযোগ করেও কোনো সুরাহা করতে পারেননি। ওয়াসা থেকে বলা হচ্ছে মিটারে যা রিডিং দেখাচ্ছে, তারা সেটাই বিল করছেন।

গতকাল মহাখালি ও যাত্রাবাড়ী ওয়াসা অফিসে দেখা যায়, পানির বিল নিয়ে বিপাকে পড়া কয়েক শ’ মানুষের দীর্ঘলাইন। তারা অভিযোগ জানাতে এসেছেন। তারা বলেন, অসংখ্য ভবনের বিপরীতে মাত্রাতিরিক্ত বিল আসছে। সম্প্রতি এটা ব্যাপক পরিমাণ বেড়েছে। কিন্তু ওয়াসা কোনো গা করছে না। মাঝেমধ্যে গ্রাহককে মিটার বদলাতে বলা হচ্ছে। বদলানোর পরও বিলের তেমন হেরফের হচ্ছে না।

পানির অস্বাভাবিক বিল নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে রাজধানীবাসি। পানির বিল যেখানে আসত ৪০০ টাকা, সেখানে আসছে প্রায় ১ হাজার টাকা। বিভিন্ন সূত্র জানাচ্ছে, অর্থবছরের শেষে এবং করোনাকালেও রাজস্ব আদায়ের সফলতা দেখাতে এমন বাঁকা পথ ধরেছে ঢাকা ওয়াসা। অবশ্য কর্তৃপক্ষ বলছে, করোনার কারণে অনেক মিটার রিডার কয়েক মাস সরেজমিনে গিয়ে বিল করতে পারেননি। এখন মিটারের রিডিং দেখে বর্ধিত বিল সমন্বয় করা হচ্ছে। এ জন্য বিল বেশি আসছে। কেউ অভিযোগ দিলে কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা ওয়াসার বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক উত্তম কুমার রায় বলেন, বিলের ব্যাপারে আমরাও ফোনে অনেক অভিযোগ পাচ্ছি। তবে গ্রাহকরা জানেন প্রতি জুলাই মাসে ৫% হারে দাম বাড়ানো হয়। তবে এবার সরকার মোট ২৫ শতাংশ দাম বাড়িয়েছে। যেটা পত্রিকার মাধ্যমে গ্রাহকরাও সবাই জানে। তা ছাড়া করোনার কারণে এপ্রিল মাসে কর্মীরা যারা ফিল্ডে যেতে পারেননি তাদের বলা হয়েছিল আগের মিটার রিডিং দেখে কিছু কম বিল করতে। এ মাসে সেটা সমন্বয় করা হয়েছে। এ কারণেও পানির বিল বেড়েছে। তা ছাড়া করোনার কারণে মানুষ বেশি বেশি হাত ধোয়ার কারণে পানির ব্যবহারও বেড়েছে।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক - তোফাজ্জল হোসেন
Mob : 01712 522087
ই- মেইল : [email protected]
Address : 125, New Kakrail Road, Shantinagar Plaza (5th Floor - B), Dhaka 1000
Tel : 88 02 8331019