করোনা ঝুঁকি নিয়েই ৪৬টি নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হচ্ছে

জয়যাত্রা ডট কম : 13/07/2020

জয়যাত্রা: করোনাসহ নানা ঝুঁকি নিয়েই মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরসহ ৪৬টি নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হচ্ছে। এসব প্রকল্পের মধ্যে বিনিয়োগ প্রকল্প ৪০টি এবং কারিগরি সহায়তা প্রকল্প ৬টি। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে প্রকল্পগুলো যুক্ত রয়েছে।

বরাদ্দসহ অন্তর্ভুক্ত প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নের কাজ চলতি মাসেই শুরু হবে। তবে কোনোটির কাজ ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। এ ক্ষেত্রে ব্যাপক স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন শুক্রবার বলেন, নতুন প্রকল্পের ক্ষেত্রে দুটি প্রধান চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এর একটি হচ্ছে স্বাস্থ্যঝুঁকির চ্যালেঞ্জ।

যেমন মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের মতো প্রকল্পগুলোতে দেশি-বিদেশি অনেক মানুষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। অন্যটি হচ্ছে অর্থায়নের চ্যালেঞ্জ। যেমন করোনা প্রেক্ষাপটে তো রাজস্ব আহরণ কম হচ্ছে।

তাহলে যেসব প্রকল্প সরকারের নিজস্ব তহবিলের অর্থে বাস্তবায়ন করার কথা সেগুলোতে অর্থ আসবে কোথা থেকে। তাই দেশীয় অর্থায়নপুষ্ট নতুন প্রকল্পগুলো পুনর্বিবেচনা করা উচিত। তিনি জানান, ইতোমধ্যেই দুটি ভালো উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একটি হচ্ছে প্রকল্পের অগ্রাধিকার নির্ধারণ। অন্যটি হচ্ছে প্রকল্পের গাড়ি ক্রয় স্থগিত। এর ফলে অর্থ সাশ্রয় হবে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরের এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত বিনিয়োগ প্রকল্পের মধ্যে কৃষি খাতের রয়েছে পাঁচটি।

এছাড়া পানিসম্পদ খাতের আটটি, শিল্প খাতের দুটি, পরিবহন খাতের আটটি, ভৌত পরিকল্পনা-পানি সরবরাহ ও গৃহায়ন খাতে নয়টি, শিক্ষা ও ধর্ম খাতে চারটি, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি খাতে একটি, স্বাস্থ্য-পুষ্টি-জনসংখ্যা ও পরিবার কল্যাণ খাতের একটি, সমাজকল্যাণ-মহিলাবিষয়ক ও যুব উন্নয়ন খাতে একটি এবং বিজ্ঞান-তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতের একটি প্রকল্প রয়েছে।

আর কারিগরি সহায়তা প্রকল্পের মধ্যে কৃষি খাতের একটি, পানিসম্পদ খাতের একটি, শিল্পের একটি, বিদ্যুতের একটি, স্বাস্থ্য-পুষ্টি-জনসংখ্যা ও পরিবার কল্যাণের একটি এবং জনপ্রশাসন খাতের একটি প্রকল্প রয়েছে। চলতি মাস থেকে শুরু হয়ে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য ‘মাতারবাড়ী পোর্ট ডেভেলপমেন্ট’ প্রকল্পটি অনুমোদন দিয়েছে একনেক।

এটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ১৭ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ২ হাজার ৬৭১ কোটি ১৫ লাখ টাকা, জাইকার ঋণ থেকে ১২ হাজার ৮৯২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ২ হাজার ২১৩ কোটি ২৪ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একনেক বৈঠকে প্রকল্পটির অনুমোদন দেয়া হয়।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম প্রধান (পরিকল্পনা) মো. রফিক আহম্মদ সিদ্দিকী জানান, মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পটির প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। একনেকে অনুমোদনের পর পরিকল্পনা কমিশন এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে জিও জারির কাজ শেষ হয়েছে। এখন পরামর্শক নিয়োগের জন্য ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

ইতোমধ্যেই একটি ফাইল ওই কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। দু-একদিনের মধ্যেই আরও একটি ফাইল পাঠানো হবে। এছাড়া প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগের ফাইল পাঠানো হয়েছে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, করোনার কারণে সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে। কেননা এ প্রকল্পে জাপানিরা যুক্ত রয়েছেন। ফলে সরকারের পক্ষ থেকে যেমন সুরক্ষা ব্যবস্থা আছে, তেমনি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার পক্ষ থেকেই সুরক্ষা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

চলতি মাস থেকে বাস্তবায়ন শুরু হতে যাওয়া উল্লেখযোগ্য কয়েকটি নতুন প্রকল্প হল- কোভিড-১৯ ইমার্জেন্সি রেসপন্স অ্যান্ড প্যানডেমিক প্রিপার্ডনেস প্রকল্প। এছাড়া অনগ্রসর ও হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য আত্মকর্মসংস্থানমূলক কাজের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে মৎস্য সম্পদ উন্নয়ন, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে তুলা চাষ বৃদ্ধি ও কৃষকদের দারিদ্র্য বিমোচন, মাদারীপুর জেলার আওতায় বিদ্যমান চরমুগুরিয়া ইকোপার্কের আধুনিকায়ন, ইকোসিস্টেম বেইজড অ্যাপ্রোচ টু অ্যাডাপটেশন (ইবিএ) দ্য ড্রাফট প্রোন বারিন্দ ট্রাস্ট অ্যান্ড হাওর এয়টল্যান্ড এরিয়া, সুনীল অর্থনীতি কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে উপকূলীয় ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য এবং প্রতিবেশ সমীক্ষা প্রকল্প।

আরও কয়েকটি নতুন প্রকল্প হল, কচুয়া-বেতাগী-পটুয়াখালী-লোহানিয়া-কালাইয়া সড়কের ১৭তম কিলোমিটারে পায়রা নদীর উপর সেতু নির্মাণ, আপগ্রেডেশন অব মোংলা পোর্ট, মোংলা বন্দর চ্যানেলের ইনার বার ড্রেজিং, ন্যাশনাল মেরিটাইম ইন্সটিটিউট মাদারীপুর শাখা স্থাপন, শরীয়তপুর-জাজিরা-নাওডোবা (পদ্মা ব্রিজ) অ্যাপ্রোচ সড়ক উন্নয়ন, লেবুখালী-রামপুর-মির্জাগঞ্জ সংযোগ সড়ক নির্মাণ এবং বাগেরহাট জেলার কচুয়া পিংগুরিয়া হতে হেরমা লঞ্চঘাট পর্যন্ত জেলা মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্প।

পানিসম্পদ খাতের নতুন কয়েকটি প্রকল্প হল- কুড়িগ্রাম জেলার কুড়িগ্রাম সদর-রাজারহাট ও ফুলবাড়ী উপজেলাধীন ধরলা নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ, ডান ও বামতীর সংরক্ষণ প্রকল্প।

এছাড়া সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার ও ছাতক উপজেলার আওতাধীন সুরমা নদীর ডান তীরে অবস্থিত দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স, লক্ষ্মীবাউর ও বেতুরা এলাকায় নদীর তীর সংরক্ষণ, মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলায় আড়িয়ালখাঁ নদের তীর সংরক্ষণ ও ড্রেজিং এবং পদ্মা নদীর ভাঙন হতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার চর বাগডাঙ্গা ও শাহাজানপুর এলাকা রক্ষা প্রকল্প। সূত্র: যুগান্তর




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক - তোফাজ্জল হোসেন
Mob : 01712 522087
ই- মেইল : [email protected]
Address : 125, New Kakrail Road, Shantinagar Plaza (5th Floor - B), Dhaka 1000
Tel : 88 02 8331019