• প্রচ্ছদ » জাতীয় » করোনার থাবায় চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে অনিশ্চয়তার মেঘ


করোনার থাবায় চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে অনিশ্চয়তার মেঘ

জয়যাত্রা ডট কম : 02/08/2020

নিজস্ব প্রতিবেদক :

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) নির্বাচনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৫ আগস্ট। কিন্তু নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। করোনাভাইরাসের কারণে কখন কীভাবে নির্বাচন করবে তা এখনও চূড়ান্ত করেনি ইসি। শূন্য হয়ে যাওয়া সংসদীয় আসনগুলো ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হলেও চসিক নিয়ে কত দেরি জানা নেই কারও।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনের দিনক্ষণ শেষ হয়ে যাচ্ছে জানিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগকে চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গত ২৯ মার্চ চট্টগ্রামের পাশাপাশি বগুড়া-১, যশোর-৬ সংসদীয় আসনে উপনির্বাচনও হওয়ার কথা ছিল।

করোনার থাবায় চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে অনিশ্চয়তার মেঘ
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) নির্বাচনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৫ আগস্ট। কিন্তু নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। করোনাভাইরাসের কারণে কখন কীভাবে নির্বাচন করবে তা এখনও চূড়ান্ত করেনি ইসি। শূন্য হয়ে যাওয়া সংসদীয় আসনগুলো ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হলেও চসিক নিয়ে কত দেরি জানা নেই কারও।

কিন্তু পরে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে বগুড়া-১, যশোর-৬ সংসদীয় আসনে উপনির্বাচন করে ইসি। কিন্তু চসিক আটকে আছে। করোনাভাইরাসের সঙ্গে এখন যুক্ত হয়েছে চট্টগ্রামে অতিবৃষ্টি ও পাহাড় ধসের সম্ভাবনা।

এর আগে নির্বাচন কমিশন জানায়, করোনাভাইরাস পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় এবং পাহাড় ধসের কারণে ৫ আগস্টের মধ্যে সেখানে নির্বাচন করা সম্ভব নয়। এ সংক্রান্ত ইসির পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়, ‘বর্তমানে করোনার প্রাদুর্ভাব অব্যাহত থাকায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবং অতিবৃষ্টি ও পাহাড় ধ্বসের সম্ভাবনা বিবেচনায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়াদকালের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হবে না মর্মে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত দিয়েছেন’।
সূত্র জানায়, চসিকের মেয়াদ শেষ সংক্রান্ত ইসির চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে শিগগিরই সারসংক্ষেপ পাঠানো হবে। মেয়াদ শেষে বর্তমান মেয়রের বদলে একজন প্রশাসক নিয়োগ করবে সরকার। নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসক দায়িত্ব পালন করবেন। তবে সরকার চাইলে বর্তমান মেয়রকে দায়িত্ব দিতে পারেন।

স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. হেলালুদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘চসিক সিটি নির্বাচন নিয়ে আমরা একটি চিঠি পেয়েছি। চিঠির পরিপ্রেক্ষিতেই সিটির কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একজন প্রশাসক নিয়োগ দিতে চাই। এজন্য একটি সারসংক্ষেপ তৈরি করে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতির জন্য পাঠানো হবে। তিনি সম্মতি দিলে একজন প্রশাসক নিয়োগ করা হবে। করোনাকালীন সংকট কেটে গেলে সুবিধাজনক সময়ে এই নির্বাচন করা হবে’।

ইসির সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর বলেন, ‘আগামী ৫ আগস্ট সিটির মেয়াদোত্তীর্ণ হচ্ছে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী দেখা দিয়েছে করোনার থাবা। অন্যদিকে এ নির্বাচন শেষ করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নেই। তাই চসিক নির্বাচন আপাতত হচ্ছে না। তবে কবে হবে তাও সিদ্ধান্ত হয়নি’।

স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরশেন) আইন-২০০৯ এর ৩৮ (১) এর ‘ক’ ধারায় বলা আছে, কর্পোরেশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। সেই হিসাবে আগামী ৮ আগস্ট চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পাঁচ বছর পূর্ণ হবে। করোনায় নির্বাচন না করতে পারায় প্রশাসক নিয়োগ করবে সরকার।

নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন না হলে বর্তমান মেয়র-কাউন্সিলরদের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে স্থানীয় সরকার আইনে। সিটি কর্পোরেশন আইন- ২০০৯ এর ২৫ (১)-এ উল্লেখ রয়েছে ‘নতুন সিটি কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠা করা হলে অথবা কোনো সিটি কর্পোরেশন বিভক্ত করা হলে অথবা কোনো সিটি কর্পোরেশনের মেয়াদোত্তীর্ণ হলে সরকার সিটি কর্পোরেশন গঠিত না হওয়া পর্যপ্ত তার কার্যাবলি সম্পাদনের উদ্দশ্যে একজন উপযুক্ত ব্যক্তি বা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত কর্মকর্তাকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করতে পারবেন।

এ বিধানবলে মন্ত্রণালয় প্রশাসক নিয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। অথবা সরকার চাইলে বর্তমান মেয়রকে স্বপদে নিয়োগ দিতে পারেন। এতে কোনো আইনি জটিলতা নেই।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক - তোফাজ্জল হোসেন
Mob : 01712 522087
ই- মেইল : [email protected]
Address : 125, New Kakrail Road, Shantinagar Plaza (5th Floor - B), Dhaka 1000
Tel : 88 02 8331019