‘কেউ অপরাধ করলে তার কঠোর শাস্তি হোক’

জয়যাত্রা ডট কম : 13/08/2020

নিজস্ব প্রতিবেদক :

করোনাভাইরাসের নমুনা সংগ্রহ ও চিকিৎসার বিষয়ে রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চুক্তির ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দ্বিতীয় দিনের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের বলেছেন, কেউ অপরাধ করলে তার কঠোর শাস্তি হোক, এটা আমি চাই। এ বিষয়ে তদন্তে আমি প্রয়োজনীয় সব সহযোগিতা প্রদান করব।

প্রথম দিনের মতো বৃহস্পতিবারেও (১৩ আগস্ট) পাঁচ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তাকে।

বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, রিজেন্ট হাসপাতালের প্রতারণার অভিযোগ নিয়ে দুদক তদন্ত করছে। সাবেক মহাপরিচালক হিসেবে এ বিষয়ে শোনার জন্য তদন্ত কর্মকর্তারা আমাকে আসতে অনুরোধ করেছিলেন। আমি যা জানি, তাঁদের বলেছি। বিষয়টি তদন্তাধীন। তাই এ বিষয়ে বেশি কিছু বলা সমীচীন নয়।

এরপর দীর্ঘ বক্তব্যে আগের দিনের মতো নিজেকে দক্ষ ও মেধাবী দাবি করে আবুল কালাম আজাদ ইউরোপ ও আমেরিকায় কোভিড–১৯ সংক্রমণ ও মৃত্যুসংখ্যা উল্লেখ করে বাংলাদেশে এটি নিয়ন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেন।

লিখিত বক্তব্যের শুরুতেই তিনি প্রধানমন্ত্রীকে শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ দিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং কৃতজ্ঞতা জানাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে আমাকে কাজ করার সুযোগ দেয়ার জন্য। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন পদে আমার দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতা, সততা ও যোগ্য নেতৃত্ব বিবেচনা করে তার সরকার আমাকে দায়িত্বটি দেয়। পরে নিয়মিত মেয়াদ শেষে তিনি আমাকে আরো দু’বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেন।

স্বাস্থ্যখাতের দুর্নীতির অভিযোগের মুখে পদত্যাগ করলেও আবুল কালাম আজাদ তার বক্তব্যে বিষয়টিকে ‘আত্মসম্মান রক্ষা’র জন্য পদত্যাগ দাবি করেন।

তিনি বলেন, আমি যখন আমার সুনাম নষ্ট করার অপপ্রয়াস লক্ষ্য করেছি, তখন আত্মসম্মানকেই বড় করে দেখেছি। তাই বিবেকের তাড়নায় মেয়াদপূর্তির নয় মাস আগেই গত ২১ জুলাই স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছি।

নিজের বক্তব্যে তিনি নিজেকে আবারো নানা বিশেষণে ভূষিত করে বলেন, চাকরি জীবন আমি সব সময় কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা ও সততা নিয়ে কাজ করেছি।

উল্লেখ্য, রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমের বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, আয়কর ফাঁকি, ভুয়া নাম ও পরিচয়ে ব্যাংকঋণ গ্রহণ করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎসহ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ নিয়েও অনুসন্ধান করছে দুদক।

আগের দিন বুধবার করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে নিম্নমানের মাস্ক, পিপিই ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সরঞ্জাম কেনায় দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে দুদক পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলীর নেতৃত্বে একটি দল আজাদকে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক - তোফাজ্জল হোসেন
Mob : 01712 522087
ই- মেইল : [email protected]
Address : 125, New Kakrail Road, Shantinagar Plaza (5th Floor - B), Dhaka 1000
Tel : 88 02 8331019