• প্রচ্ছদ » আইন-আদালত » বরগুনায় রিফাত হত্যা মামলার ১৪ শিশুর রায় ঘোষণা এগার শিশুর বিভিন্ন মেয়াদে সাঁজা তিন জন খালাস


বরগুনায় রিফাত হত্যা মামলার ১৪ শিশুর রায় ঘোষণা এগার শিশুর বিভিন্ন মেয়াদে সাঁজা তিন জন খালাস

জয়যাত্রা ডট কম : 27/10/2020


এম আর অভি,বরগুনা: বরগুনা আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার এজাহারভূক্ত আইনের সহিত সংঘাতে জড়িত অ-প্রাপ্তবয়স্ক ১৪ শিশুর রায় করেছেন বরগুনা শিশু আদালতের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান। (২৭ অক্টোবর) মঙ্গলবার আলোচিত এই হত্যা মামলায় অ-প্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির মধ্যে ১১ আসামীর বিভিন্ন মেয়াদে সাঁজা ও ৩ আসামীকে খালাস প্রদান করা হয়েছে। বিভিন্ন মেয়াদে সাঁজা প্রাপ্ত অ-প্রাপ্তবয়স্ক ১১ আসামীর মধ্যে ১০ বছর করে দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন-(ছয় জন) রাশেদুল হাসান রিশান ফরাজী, রাকিবুল হাসান রিফাত হাওলাদার,আবু আব্দুল্লাহ রায়হান, ওয়ালিউল্লাহ্ ওলি, নাঈম ও তানভীর ও ৫ বছর করে দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন-(চার জন)চন্দন সরকার, নাজমুল হাসান, রাকিবুল হাসান নেয়ামত, মারুফ বিল্লাহ্ এবং প্রিন্স মোল্লা কে-৩ বছর কারাদন্ড দেয়া হয়। এছাড়া রাতুল সিকদার জয় ,মারুফ মল্লিক ও আরিয়ান হোসেন শ্রাবণকে বেকসুর খালাস দেয় আদালত।
এ হত্যা মামলার রায়ের প্রেক্ষিতে জেলা জজ আদালত প্রাঙ্গণে চার স্তর নিরাপত্তার চাদরে ডাকা ছিল। দুপুর সাড়ে ১২ টায় আদালতে রায় পড়া শুরু হয়। পরে দুপুর ১ টা ৫ মিনিটে বিচারক এজলাসে ওঠেন। দুপুর পৌনে ২ টায় বরগুনা শিশু আদালতের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান আদালতে আলোচিত এই হত্যা মামলার রায় ঘোষনা করেন।
এর পূর্বে এই মামলার অভিযোগ পত্রের দ্বিতীয় খন্ডের শিশু আসামীদের মধ্যে ৮ জন শিশু জামিনে ছিল। বাকি ৬ জন বরগুনা জেলা কারাগারের শিশু ওয়ার্ডে ছিল।
আদালত সূত্রে জানা যায়, রিফাত হত্যা মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির বিরুদ্ধে ৭৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহন শেষ হওয়ার পর সকল আসামীর পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।
এর পূর্বে বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বরগুনা নারী ও শিশু আদালতের (বিশেষ) পি.পি.(পাবলিক প্রসিকিউটর) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল উপস্থাপিত রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিখন্ডন শেষ করেন। এরপর আদালত এ মামলার রায়ের দিন ধার্য করেন।
এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বরগুনা নারী ও শিশু আদালতের (বিশেষ) পি.পি.(পাবলিক প্রসিকিউটর) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল বলেন, আজ ২৭ অক্টোবর এ মামলার রায়ের দিন ধার্য ছিল।দুপুর সাড়ে ১২ টায় আদালতে রায় পড়া শুরু হয় । পরে দুপুর ১ টা ৫ মিনিটে বিচারক এজলাসে ওঠেন। দুপুর পৌনে ২ টায় বরগুনা শিশু আদালতের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান আদালতে আলোচিত এই হত্যা মামলার রায় ঘোষনা করেন।
এ দিকে মামলার রায়ের দিন ধার্য থাকায় সকাল সাড়ে ৯ টায় কড়া নিরাপত্তায় বরগুনা কারাগার থেকে রাশেদুল হাসান রিশান ফরাজী, রাকিবুল হাসান রিফাত হাওলাদার, আবু আব্দুল্লাহ রায়হান, ওয়ালিউল্লাহ্ ওলি, নাঈম ও তানভীর এ ছয় আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। এছাড়াও এ মামলায় জামিনে থাকা অ-প্রাপ্তবয়স্ক চন্দন সরকার, নাজমুল হাসান, রাকিবুল হাসান নেয়ামত, প্রিন্স মোল্লা, মারুফ মল্লিক, মারুফ বিল্লাহ্, রাতুল সিকদার ও আরিয়ান হোসেন শ্রাবণ আট(৮) আসামি আদালতে হাজির হন।
এ রায়কে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই আদালত প্রাঙ্গনের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আদালতে আসা সকল বিচার প্রার্থীকে তল্লাসি করে পুলিশ আদালতের ভেতরে ঢুকান।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বরগুনা নারী ও শিশু আদালতের পি.পি.(পাবলিক প্রসিকিউটর) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল আরও বলেন, আমরা আদালতের কাছে সকল অসামির বিরুদ্ধে তথ্যপ্রমান উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছি। এ মামলা রায়ে আমরা সন্তোষ্ট।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আসাদুজ্জামান। এরপর ৮ জানুয়ারী থেকে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহন শুরু করেন আদালত। এ মামলায় মোট ৭৬ জন স্বাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহন করা হয়।
১৬ সেপ্টেম্বর এ মামলার দুই পক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আসাদুজ্জামান রায়ের জন্য ৩০ সেপ্টেম্বর(বুধবার) দিন ধার্য করেন।
এরপর ৩০ সেপ্টেম্বর(বুধবার) রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় নিহত রিফাত শরীফের স্ত্রীআয়েশা ছিদ্দিকা মিন্নিসহ ৬ জন আসামীর ফাঁসি এবং ৪ আসামীকে বেকসুর খালাস দিয়ে রায় ঘোষনা করেন বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালত।। আসামীদের এছাড়াও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নির্দেশ দেয় আদালত।
গত বছরের ২৬ জুন বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি বিশ্ব-বিদ্যালয় কলেজের মূল গেটে স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির উপস্থিতিতে নয়ন বন্ড , রিফাত ও রিশান ফরাজীসহ কয়েক যুবক রিফাত শরীফের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে রিফাত শরীফকে উপর্যুপরি কোপাতে থাকে। রিফাত শরীফকে কুপিয়ে রক্তাক্ত করে তারা চলে যায়। রিফাতকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে রিফাত শরীফের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহত রিফাত শরীফের বাবা আব্দুল হালিম দুলাল শরীফ পরের দিন ২৭জুন ১২ জনসহ অজ্ঞাত ৫/৬ জনকে আসামী করে বরগুনা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ঔই বছরের (১ সেপ্টেম্বর) রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় রিফাতের স্ত্রী মিন্নিসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দুই ভাগে (প্রাপ্ত-অ প্রাপ্ত বয়স্ক) বিভক্ত অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে পুলিশ। একই সঙ্গে রিফাত শরীফ হত্যা মামলার ১ নম্বর আসামি নয়ন বন্ড পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়। তাছাড়া এ মামলার চার্জশিটভুক্ত প্রাপ্তবয়স্ক আসামি মো. মুসা পলাতক ছিল।
আদালতে এ রায়ের পর্যবেক্ষনে বিচারক একটি কথাই বলেছেন যে, কিশোর আপরাধ বেড়ে গেছে ,এই হামলা কিশোরা প্রাপ্তবয়স্ক বয়স্কদের সহযোগীতা করেছে। কিশোর আইনে শাস্তি কম বিধায় সমাজে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। এ মামলার রায় এর বিশেষ বিশেষ দিক আদালতে পড়ে শোনানো হয়। উভয়পক্ষের আইনজীবিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষনা করেন ।
রিফাত হত্যা মামলায় ফাঁসিরদন্ড প্রাপ্তরা হলেন ১.রাকিবুল হাসান রিফাত ফরাজী, ২.আল-কাইউম ওরফ্ েরাব্বি আকন, ৩.মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত, ৪.রেজওয়ান আলী খান হ্রদয় ওরফে টিকটক হ্রদয় ৫.মো. হাসান,৬ .আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি এবং রাফিউল ইসলাম রাব্বি, মো. সাগর ও কামরুল ইসলাম সাইমুন ,মুছা ও পলাতক আসামি মুছা বন্ড (২২) খালাস পায়।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক - তোফাজ্জল হোসেন
Mob : 01712 522087
ই- মেইল : [email protected]
Address : 125, New Kakrail Road, Shantinagar Plaza (5th Floor - B), Dhaka 1000
Tel : 88 02 8331019