হেফাজতের ২ নেতাকে গ্রেপ্তার দাবি ৬৫ সংগঠনের

জয়যাত্রা ডট কম : 01/12/2020


নিজস্ব প্রতিবেদক :
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপন নিয়ে ‘ধৃষ্টতাপূর্ণ’ বক্তব্য দেওয়ায় হেফাজতে ইসলামের আমির জুনাইদ বাবুনগরী, যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকসহ তাদের সহযোগীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবীদের ৬৫টি সংগঠন।

আজ মঙ্গলবার (১ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পাশে সংগঠনগুলো একযোগে মানববন্ধন ও সমাবেশ করে এ দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি জামায়াত ও হেফাজতে ইসলামের মতো মৌলবাদী, সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিষিদ্ধসহ সাত দফা দাবি জানানো হয়েছে মানববন্ধন থেকে।

ঢাকার পাশাপাশি সারা দেশে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়েও একই সময়ে সংগঠনগুলোর স্থানীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধন ও সামবেশ শেষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের শিখা চিরন্তনীতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সংগঠনের নেতাকর্মী-সমর্থকরা।

সমাবেশে বক্তরা বলেন, ধর্মের নামে বাবুনগরী-মামুনুল হক গং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আদর্শ ও সম্প্রীতি ধ্বংসের পাঁয়তারা করছে। তারা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য বুড়িগঙ্গায় নিক্ষেপ করা হবে- এমন ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে সংবিধান এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার চরম অবমাননা করেছে। অথচ বিশ্বের যেসব ইসলামিক দেশে শরিয়া আইন রয়েছে সেখানেও ভাস্কর্য রয়েছে। তাই তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

সমাবেশে বক্তব্য দেন- মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, দক্ষিণ সিটি করপোরেশেন মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী, শ্রমিক-কর্মচারী-পেশাজীবী মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় পরিষদের আহ্বায়ক শাজাহান খান এমপি, ওয়াকার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা, জাসদের (একাংশ) সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার, গ্রাম থিয়েটারের সভাপতি সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, সম্প্রীতি বাংলাদেশের আহ্বায়ক পীযূষ বন্দোপাধ্যায়, পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের মহাসচিব ড. কামরুল হাসান খান, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজল দেবনাথ, অধ্যাপক উত্তম বড়ূয়া, প্রজন্ম ’৭১-এর সহসভাপতি আসীফ মুনীর তন্ময়।

নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবিরের সঞ্চালনায় সমাবেশের সাত দফা দাবি সম্বলিত ঘোষণাপত্র উপস্থাপন করেন রুখে দাঁড়াও বাংলাদেশের আহ্বায়ক সাংবাদিক আবেদ খান।

অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, ১ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধা দিবস ঘোষণা, ধর্মের নামে রাজনীতি বন্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শিক্ষানীতি, নারীনীতি ও সংস্কৃতিনীতি প্রণয়ন, সংবিধান ও জাতির পিতার বিরুদ্ধে বিষোদ্গারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি প্রদান ইত্যাদি।

সমাবেশে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, ‘দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ’৭২ সালে গাজীপুর চৌরাস্তায় মুক্তিযদ্ধের ভাস্কর্য স্থাপন করেছিলাম, তখন তো কোনো প্রশ্ন উঠেনি। সারাদেশে এমন হাজারও ভাস্কর্য এখনও আছে। তাহলে হঠাৎ করে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে মামুনুলরা কেন, কার স্বার্থে বক্তব্য দিয়েছেন, কীসের লক্ষণ, এটি কারও খামখেয়ালি উক্তি, না সুপরিকল্পিত তা ভালোভাবে সরকারকে খতিয়ে দেখতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, আমরাও ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী। দেশের ৯০ ভাগ মানুষ মুসলিম। এই ধর্ম কারও কাছে লিজ দেওয়া হয়নি। ধর্ম রক্ষার দায়িত্ব আমাদেরও। কিন্তু ধর্মের নামে অপরাজনীতি মেনে নেয়া হবে না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মানুষ কোনোদিনও মেনে নেয়নি। ভবিষ্যতেও মেনে নেবে না। এদের প্রতিহত করা হবে। এরাই তারা যারা ধর্মের নামে ১৯৫২ সালে রাষ্ট্রভাষা বাংলা প্রতিষ্ঠার আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচন ও একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে যে বক্তব্য (মামুনুল হক) দিয়েছেন তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। না হলে বাংলার মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী মানুষ জবাব দেবে। পরিণাম ভালো হবে না। মুজিববর্ষে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে সুনির্দিষ্ট বক্তব্য দেয়ার পরেও এখনও তাদের নিয়ে কিছু বলা হয়নি। এটাই আপনাদের সৌভাগ্য। দৃষ্টান্তমূলক পরিণামের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে মামুনুল হকদের বক্তব্যের সমালোচনা করে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, তাদের কথা শুনলে মনে হয় তারাই শুধু ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন! আর আমরা সবাই বিধর্মী।

এ সময় মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যে সব ভাস্কর্য রয়েছে, তা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, সব দেশেই জাতির স্থপতির ভাস্কর্য রয়েছে, কিন্তু আমরা এখনও আমাদের জাতির স্থপতির ভাস্কর্য স্থাপন করতে পারিনি। এটি আমাদের জন্য লজ্জাজনক। আমরা অবশ্যই ‘পদ্মাসেতুর পাড়ে’ বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপন করব। তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতেও সবাইকে আহ্বান জানিয়েছেন।

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে মামুনুল গংদের বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরি বলেন, সরকারে দৃষ্টিআকর্ষণ করছি-আইন ও সংবিধান অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। ধর্মের নামে অপরাজনীতি বন্ধ করতে হবে।

সামাজিক-সাংস্কৃতিক শক্তির দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে মৌলবাদী শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠে এখন প্রগতিশীলতার বিরুদ্ধে হুঙ্কার দিচ্ছে- মন্তব্য করে নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু বলেন, জাতির পিতার ভাস্কর্য ভেঙে নদীতে ছুঁড়ে ফেলার মতো বক্তব্য দেওয়ার ধৃষ্টতা তারা দেখিয়েছে। তারা কারা? তারা হচ্ছে একাত্তরের পরাজিত সৈনিক, একাত্তরের পরাজিত শত্রু, তাদেরই উত্তরসূরি, একেবারেই তাদের প্রতীকী রূপ।

সভাপতি ও সঞ্চালকের বক্তব্যে শাহরিয়ার কবির বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু এবং সংবিধান অবমাননাকারী হেফাজতে ইসলামের আমির জুনাইদ বাবুনগরী ও নতুন যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে গ্রেপ্তার করতে হবে। একইসঙ্গে আমরা সাত দফা দাবিও জানিয়েছি। এই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক - তোফাজ্জল হোসেন
Mob : 01712 522087
ই- মেইল : [email protected]
Address : 125, New Kakrail Road, Shantinagar Plaza (5th Floor - B), Dhaka 1000
Tel : 88 02 8331019