যথাসময়ে স্কুলে সব বই যাচ্ছে না এবার!

জয়যাত্রা ডট কম : 24/12/2020


নিজস্ব প্রতিবেদক :
নিয়ম অনুযায়ী ১ জানুয়ারির আগেই দেশের সব স্কুলে সব শ্রেণির বিনা মূল্যের সব পাঠ্যবই পৌঁছে যাওয়ার কথা। কিন্তু বাস্ততা ভিন্ন। যেসব মালিকের প্রেসে বই ছাপা হচ্ছে তারা বলছেন, ১ জানুয়ারির আগে ৬০ ভাগের বেশি বই দেওয়া সম্ভব হবে না। আর জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) বলছে, ৮০ ভাগ সম্ভব হবে। দুই প্রতিষ্ঠানের ব্যবধান যাই হোক না কেন, এটা পুরোপুরি নিশ্চিত যে যথাসময়ে কোনোভাবেই সব শিক্ষার্থীর হাতে বই পৌঁছে দেওয়া সম্ভব নয়।

বই ছাপার কাজ করে থাকেন বেসরকারি প্রেস মালিকেরা। আর দরপত্রের মাধ্যমে বই ছাপার কাজ বণ্টন ও তাদরক করে থাকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন সরকারি প্রতিষ্ঠান জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। বিতরণের জন্য এ বছর সর্বমোট সাড়ে ৩৪ কোটি বই মুদ্রণ করছে সরকার। এর মধ্যে মাধ্যমিকের বই প্রায় ২৪ কোটি ৩৪ লাখ। বাকিটা প্রাথমিক স্তরের।

একদিকে কাগজের সংকট, অন্যদিকে প্রেস মালিকদের লোকসানের ভয়—এ দুই কারণে এখন বই ছাপার কাজ চলছে ধীরগতিতে। বই ছাপার কাজ ধীরগতি ও বর্তমান সংকটের দায় দুই প্রতিষ্ঠানেরই। শুরুতে প্রেস মালিকদের সিন্ডিকেটের লাগাম টেনে না ধরায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আর এখন অসহায় এনসিটিবি। এখন প্রেস মালিকদের অনুনয়-বিনয়ের মাধ্যমে কাজ আদায়ের চেষ্টা করছেন সরকারি এই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা। আবার দ্রুত কাগজ পেতে মিল মালিকদেরও অনুরোধ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বই ছাপতে আরো ১৫ হাজার টন কাগজ লাগবে। এই কাগজ দিয়ে অন্তত ৬ কোটি বই ছাপা যাবে। অর্থাত্, এই কাগজের সংস্থান যত দিন না হবে, এতসংখ্যক বই পাওয়ার অনিশ্চয়তা তত দিন থাকবে। মিলের মালিকেরা বলেছেন, করোনার কারণে উত্পাদন বন্ধ ছিল। এছাড়া কাগজ উত্পাদনের মূল উপকরণ পাল্পের মূল্যও বেড়ে গেছে বলে এনসিটিবিকে জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের শঙ্কা, শেষ মুহূর্তে বইয়ের প্রয়োজনের তাগিদে নিম্নমানের কাগজে বই ছেপে দিতে পারে প্রেস মালিকেরা। কারণ, প্রেস মালিকেরা জানেন এ সময় বই এবং কাগজের মান দেখার সুযোগ থাকবে না এনসিটিবির। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যবই ছাপার জন্য যখন এনসিটিবি প্রতি টন ৬২ হাজার টাকারও বেশি দরে কাগজ ক্রয় করে, একই সময়ে প্রেস মালিকেরা প্রতি টন কাগজের মূল্য ৫০ হাজার টাকা দরে দরপত্র জমা দেন। ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কম দরে দরপত্র জমা দেওয়ার বিষয়ে তখন থেকেই এনসিটিবির সতর্ক থাকা উচিত ছিল।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যবসায়ীরা একচেটিয়া কাজ পেতেই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কম দর দেন। করোনার কারণে যখন মিলের মালিকেরা শ্রমিকদের বেতন-ভাতা দিতে পারছিলেন না, তখন অনেক মালিক বাধ্য হয়ে লোকসান দিয়ে হলেও কাগজ বিক্রি করেন। মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের মালিকেরা এই অস্বাভাবিক দরটি বিবেচনায় নেন। এটা ছিল প্রেস মালিকদের অপকৌশল। এখন একই মানের কাগজে বই ছাপতে হলে কোটি টাকা গচ্চা দিতে হবে ব্যবসায়ীদের।

মুদ্রণ শিল্প সমিতির সাবেক চেয়ারম্যান এবং পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ ও বিপণন সমিতির সভাপতি তোফায়েল খান বলেন, শুরুতেই এনসিটিবি ভুল করেছে। আবার অনেক প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতার চেয়েও বেশি পরিমাণে কাজ পেয়েছে। এ কারণে তারা যথাসময়ে বই সরবরাহ করতে পারছে না। তিনি জানান, ১ জানুয়ারির আগে ৬০ শতাংশ বই দেওয়া সম্ভব হতে পারে।

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, এখন বেশি মূল্যে কাগজ কিনে বই ছাপলে কোটি টাকা গচ্চা দিতে হবে প্রেস মালিকদের। এ কারণে বই ছাপার গতি কমিয়ে দিয়েছেন। এখন মুদ্রণ মালিকেরা রিসাইক্লিং করা কাগজ দিয়ে বই ছাপতে এনসিটিবিকে রাজি করানোর চেষ্টা করছেন।

তোফায়েল খান বলেন, এনসিটিবি রিসাইক্লিং কাগজ ব্যবহারের অনুমতি দিলে মামলার মুখে পড়তে হবে তাদের। এনসিটিবির বিতরণ নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মো. জিয়াউল হক বলেন, ১ জানুয়ারির আগে ৮০ ভাগ পৌঁছাবে। পরবর্তী ১ সপ্তাহের মধ্যেই বাকি সব বই পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক - তোফাজ্জল হোসেন
Mob : 01712 522087
ই- মেইল : [email protected]
Address : 125, New Kakrail Road, Shantinagar Plaza (5th Floor - B), Dhaka 1000
Tel : 88 02 8331019