Posted on

বসতবাড়ী ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদের উদ্যোগ অভিযোগ


মো.নজরুল ইসলাম,গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
আদালতের স্থিতাবস্থা থাকা সত্ত্বেও গাইবান্ধা শহরের বাসটার্মিনাল থেকে ১নং রেলগেট পর্যন্ত ১ কি.মি. সড়কের দু’পাশে শহর ফোরলেন প্রকল্পের আওতায় ক্ষতিপূরণ না দিয়েই একশ’টি পরিবারের বসতবাড়ী ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদের উদ্যোগ নিয়েছে গাইবান্ধা সড়ক ও জনপদ বিভাগ। এতে অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়েছে ওইসব পরিবার।
শনিবার গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ভূক্তভোগীরাএসবঅভিযোগ করেন ফোরলেন রাস্তা বাস্তবায়নের জন্য রেলগেটের পূর্ব থেকে পুরাতন বাজার পর্যন্ত যেভাবে হুকুম দখল করে ভূমিমালিক ও ভাড়াটিয়াদের প্রাপ্য টাকা পরিশোধ করা হয়েছে, সেভাবে তাদের সংশ্লিষ্ট জায়গা ও স্থাপনা নিয়মমাফিক হুমুক দখল করে ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানান। এব্যাপারে তারা প্রধানমন্ত্রী এবং সড়ক ও সেতু মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীদের পক্ষে আব্দুর রশিদ লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন, গাইবান্ধা সড়ক ও জনপথ বিভাগ ১৯৬৫ সালের ৩৭/৬৫-৬৬ নং প্রস্তাবিত এল.এ কেস মূলে বাস টার্মিনাল থেকে রেলগেট পর্যন্ত ১ কি.মি রাস্তা অধিগ্রহণ হয়েছে বলে দাবী করে ২০০২ সালে রাস্তার দু’পাশের বসতবাড়ী-ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লাল দাগ দিয়ে চিহ্ন দেয়। সেই সময় মালিক ও ভাড়াটিয়ারা প্রতিকার ও ন্যায় বিচার চেয়ে সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে ২৫৩/০২ নং মামলা করেন। পরবর্তীতে ২০০৫ সালে তারা চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার রায় পায়। এরপর ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী বাদী হয়ে ওই নিষেধাজ্ঞা ডিক্রি রদ চেয়ে গাইবান্ধা সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে ১৬৯/১৭ নং মামলা দায়ের করেন। মামলাটি ৩ বছর চলার পর ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে আদালত সড়ক ও জনপথ বিভাগের পক্ষে রায় দেন। ভুক্তভোগীরা দায়রা জজ আদালতে আপিল করলে সেটিও খারিজ হয়ে যায়। পরে তারা উচ্চ আদালতে আপিল এ্যাডমিশন আবেদন করে যা প্রক্রিয়াধীন আছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, তাদের মধ্যে ১৬ জন হাইকোর্টের বিচারপ্রতি মো. আসফাকুল ইসলাম ও বিচারপ্রতি মোহাম্মদ আলীর বেঞ্চে ২০২০ সালের ১২ অক্টোবর রিট পিটিশন দাখিল করেন। ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত স্থিতাবস্থার (ঝঃধঃঁং-ছঁড়) আদেশ দেন, যা এখনও বহাল রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সাবেক পৌর মেয়র মো. শামছুল আলমসহ এএম মাজেদুল ইসলাম, মো. জাহেদুল ইসলাম, মো. রফিকুল ইসলাম, মাহফুজার রহমান, শহিদুর রহমান, একেএম শাসুľোহা, খন্দকার ওমর জাহিদ, মাসুদুর রহমান খন্দকার, আব্দুল নুর আল সাঈদ শাহীন, মো. শহিদুর রহমান মিঠু, আলী আহমেদ রওশন, আলী আহমেদ রেজওয়ান, আবু সাদাত মো. সিয়ামুল আলম, আবু সালেহ মো. মুসা প্রমুখ।