Posted on

মাদকের অন্য “রুপ” ফেসবুক


উজ্জ্বল মজুমদার,স্টাফ রিপোর্টার :

ফেইসবুক সত্যিই একটা আসক্তির জায়গা। মনের সাথে অনেক যুদ্ধ করে পরিপূর্ণভাবে চারটি দিন বিরত থাকতে পেরেছিলাম। পাঁচ নম্বর দিনে মনের সাথে আর পেরে উঠলাম না। একটু উঁকি দিয়েই ফেললাম,মনে হচ্ছিল কি যেন মিস্ হয়ে যাচ্ছে। বাসার বাইরে যাওয়ার সময় ভুলে মোবাইলটা ফেলে গেলে যেমন নিজেকে অনেক কিছু থেকে বিচ্ছিন্ন মনে হয় ঠিক সেরকমই। কি যে করি? দীর্ঘ দিনের অভ্যাস টাকে এত সহজেই কি একেবারে বাদ দেওয়া যায়? অবশ্য কোন কাজে প্রচন্ড ব্যস্ত থাকলে সেই মুহূর্তে ফেইস বুকের কথা মনেই থাকেনা। আবার একটু ফ্রি হলেই সেটাকে কতই না আপন মনে হয়। এই অনুভূতি কি শুধুই আমার? এই যে মেসেন্জ্ঞার-এতে কি শুধুই পরিচিত মানুষের সাথে তথ্য বিনিময় হয়? অপরিচিত অনেকের সাথেই তো পরিচয় হয়।
এটাও তো অলস সময় কাটানোর একটা মাধ্যম? সব কথাই কি আমরা সিরিয়াসলি গ্রহন করি? অনেক নিকটাত্মীয়ের সাথে কথা বলা,খরচ বাঁচানো,বিদেশে অতি সহজে যোগাযোগ এগুলো তো প্রয়োজন। অনেক প্রশ্ন ভীড় করে মনের মাঝে। এমন অনেক হাই প্রোফাইল ব্যক্তিত্ব আছেন যাদের সাথে বাস্তব ক্ষেত্রে যোগাযোগ সম্ভব না হলেও ফেইসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হয় , দ্রুততার সাথে যোগাযোগ সম্ভব হয়। এর কি কোনই পজিটিভ দিক নেই? সব কিছুতেই কি অন্যরকম বিকৃত মানে থাকে?
তবে এমন অনেকেই আছেন যারা একদমই এসব ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্হায় অভ্যস্ত নন। তাদের দিন ও থেমে থাকেনা। প্রগতিশীল মানুষদের আজকাল এসব ছাড়া চলেই না। আসলে আমরা কেউই আসক্তির উর্ধ্বে নই। কেউ মদ-গাঁজা, বিড়ি সিগারেট, পান জর্দা,গুল, কেউবা সিনেমা, সিরিয়াল নাটক,গেইম খেলা কেউবা খেলা-ধূলা,জুয়া খেলা
আবার কেউ বা ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারে।
অনেক এলোমেলো ভাবনারা চলে আসে মনের মাঝে।
কোন সমাধান খুঁজে পাইনা,কারন ব্যক্তি বিশেষ তার সুবিধা অনুযায়ী আসক্তির সংজ্ঞা নির্ধারণ করে।
ধর্মীয় আচার,উপাসনা এর সমাধান দিতে পারে কিন্তু বেশি ভালো কিছু তো আবার বেশি সময় সহ্য হয়না , তাই নয় কি?
অলস মস্তিস্ক কত কিছুই না ভাবে?
যাই হোক আসক্তিকে নিয়ন্ত্রন করতে চাই,এর জন্য প্রচন্ড মনের জোর দরকার এটুকু বুঝতে পেরেছি। পারব কি?