Posted on

চট্টগ্রামে সন্ধ্যা ৬টার পর ফার্মেসি ও কাঁচাবাজার ছাড়া সব বন্ধ


নিজস্ব প্রতিবেদক :
করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় চট্টগ্রাম নগরীতে সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে সব ধরনের দোকানপাট বন্ধ থাকবে। শুধু ওষুধের দোকান ও কাঁচাবাজার খোলা থাকবে। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান শুক্রবার (২ এপ্রিল) ইত্তেফাককে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।

তিনি জানান, আজ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে চট্টগ্রাম নগরীতে ফার্মেসি ও কাঁচাবাজার ছাড়া রেস্টুরেন্ট, শপিং সেন্টারসহ সব ধরনের দোকানপাট বন্ধ রাখতে হবে।

বরিশালে স্বামী-স্ত্রী পাশাপাশি সিটে বসায় বাসচালককে জরিমানা!
তিনি আরও জানান, দোকানপাট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রাথমিকভাবে চট্টগ্রাম মহানগরী এলাকায় এ বিধিনিষেধ প্রযোজ্য। তবে অচিরেই পুরো জেলায় এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে। বিষয়টি মনিটরিং করতে জেলা প্রশাসনের চারটি ভ্রাম্যমাণ আদালত ইতোমধ্যে মাঠে নামানো হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করলে শাস্তি দেওয়া হবে।

Posted on

নিজস্ব প্রতিবেদক :

মহামারি করোনা ভাইরাসে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন আরও ৫০ জন।এনিয়ে দেশে মোট মৃতের সংখ্যা দাড়ালো ৯ হাজার ১৫৫ জনে।

এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৬ হাজার ৮৩০ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন।যা এযাবৎকালের সর্বোচ্চ। এ নিয়ে দেশে এখন পর্যন্ত মোট করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ২৪ হাজার ৫৯৪ জনে।

শুক্রবার (২ এপ্রিল) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এদিন সুস্থ হয়েছেন আরও ২ হাজার ৪৭৩ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৫ লাখ ৪৭ হাজার ৪১১ জন।নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ২৯ হাজার ৩৩৯টি।নমুনা পরীক্ষা অনুপাতে রোগী শনাক্তের হার ২৩.২৮ শতাংশ।
এর আগে বৃহস্পতিবার দেশে আরও ৬ হাজার ৪৬৯ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়। এছাড়া আক্রান্তদের মধ্যে মারা যান আরও ৫৯ জন।

এদিকে আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য অনুযায়ী, সারাবিশ্বে এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসে শনাক্ত রোগী বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ কোটি ১ লাখ ৫৭ হাজার ১৯১ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ২৮ লাখ ৩৯ হাজার ৯৮৭ জন। এখন পর্যন্ত এ ভাইরাস থেকে সুস্থ হয়েছেন ১০ কোটি ৪৮ লাখ ৮৩ হাজার ১৫১ জন।

Posted on

মহেশপুরে ভ্যানে ওড়না পেচিয়ে স্কুল ছাত্রীর করুণ মৃত্যু

রবিউল ইসলাম ,ঝিনাইদহ
ঝিনাইদহের মহেশপুরে গলায় ওরনার ফাঁস লেগে ১২ দিন পর যশোর সদর হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় মৃত্যু বরণ করল মহেশপুর পাইলট বালিকা বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী তিন্নি।

সে মহেশপুর পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের হঠাৎ পাড়ার বাসিন্দা। জানা গেছে মহেশপুর হাসপাতালের পিছনে হঠাৎ পাড়ার বাসিন্দা সুফিয়ার মেয়ে তিন্নি (১৪)। গত ১৮ মার্চ ২০২১ ইং তারিখ সকালে ভ্যান যোগে যাওয়ার সময় গলায় ওরনা জড়িয়ে গলায় ফাঁস লেগে মারাক্তক জখম হয়।

সাথে সাথে মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা নেয়, এসময় তার অবস্থা অবনতি হলে ঢাকায় রেফার করে সেখানে কিছুটা সুস্থতা অনুভব করলে আবারো মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করা হয়। এখানে তার অবস্থা অবনতি দেখা দেওয়ায় গত ৩১ মার্চ যশোর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সেখানে চিকিৎসারত অবস্থায় ১লা এপ্রিল বিকাল ৪.০০ ঘটিকায় সে মৃত্যু বরণ করে। ইন্না-লিল্লাহ ওয়া লিল্লাহি রাজিউন।

Posted on

ঝিনাইদহে গভীর রাতে অগ্নিকান্ডে ৫ দোকানের মালামাল পুড়ে ছাই


ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ-
ঝিনাইদহের কালিগঞ্জের পল্লীতে আগুন লেগে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পৌছানোর আগেই ৫টি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের কমপক্ষে ৫ লক্ষাধিক টাকার মালামাল পুড়ে ভস্মিভূত হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার দামোদরপুর বাজারে। বৈদ্যতিক সর্টসার্কিট থেকে এ অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত হয়েছে বলে ফায়ার সার্ভিসের সূত্রে জানাগেছে।
ক্ষতিগ্রস্থরা হলেন দামোদরপুর বাজারের সাইকেল পার্স ও মুদি দোকান মালিক নুর ইসলাম, মুদি মালামাল ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজ, স্যালো পার্সের দোকান মালিক আব্দুস সালাম, সিমেন্ট ব্যবসায়ী বিপ্লব হোসেন, ও মুদি দোকান মালিক লাটিম হোসেন ।

ক্ষতিগ্রস্থ বিপ্লব হোসেন জানান, গত ভোর সাড়ে ৩ টার দিকে হঠাৎ তাদের বাজারের আশপাশের লোকজন আগুন আগুন বলে চিৎকার দিলে ঘুম থেকে উঠে এলাকাবাসী বাজারের দিকে আগুন দেখতে পান। আমিও ছুটে গিয়ে বাজারের দিকে দৌড়ে আসি। পৌছে দেখি আমার দোকানসহ আশপাশের দোকানে আগুন দাউ দাউ করে জ্বলছে। এ সময় কালিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়া হয়। কিন্ত ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি বাজরে পৌছানোর আগেই ৫ টি দোকানের মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌছে বাকি আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে।

ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ী নুর ইসলাম জানান, আমার দোকানের সকল মালামাল ও ক্যাশে থাকা প্রায় ২০ হাজারের বেশি নগদ টাকা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আমি সর্বশান্ত হয়ে গেছি।
ইউপি সদস্য ওই গ্রামের বাসিন্দা জাফর ইকবাল জানান, রাতের শেষভাগে ঘুমন্ত মানুষ আগুন লাগার চিৎকারে প্রথমে হতভম্ব হয়ে সকলেই বাজারের দিকে ছুটে আসেন। সকলের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রনে আসলেও কয়েক লাখ টাকার মারামাল পুড়ে গেছে এতে ব্যবসায়ীরা চরম ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন।

কালীগঞ্জ ফায়ার স্টেশন কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ জানান, আগুনের খবর পেয়েই তারা ঘটনাস্থলে দিকে দ্রত রওনা দেন। কিন্ত বাজারটি স্টেশন এলাকা থেকে অনেক দুরে হওয়ায় তারা পৌছানোর আগেই অনেক মালামাল পুড়ে গেছে। বাকি আগুন গ্রামবাসীকে সাথে নিয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মিরা নিয়ন্ত্রনে আনতে সক্ষম হন।

Posted on

জাতীয় চিড়িয়াখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ


নিজস্ব প্রতিবেদক :
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়া রাজধানীর অন্যতম প্রধান বিনোদন কেন্দ্র মিরপুরের বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আজ থেকে এই নির্দেশনা কার্যকর হবে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. ইফতেখার হোসেন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

এ বিষয়ে জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. আব্দুল লতীফ বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে সরকারের নির্দেশনা পেয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইতিমধ্যে গেটের সামনে একটি সাইনবোর্ড টানিয়ে দেওয়া হয়েছে। আপাতত চিড়িয়াখানায় বন্ধ রাখা হচ্ছে। এটি আজকে থেকে কার্যকর করা হয়েছে।’

Posted on

ভয়াবহরূপে করোনা, কারফিউ জারির তাগিদ


নিজস্ব প্রতিবেদক :
দেশে ভয়াবহরূপে ছড়িয়ে পড়ছে প্রাণঘাতি বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ। দেশে গড় শনাক্তের হার ২৩ শতাংশে পৌঁছে গেছে। রাজধানীর কোনো কোনো আরটিপিসিআর ল্যাবে শনাক্তের হার ৬০ শতাংশ পর্যন্ত উঠেছে।

Haque Milk Chocolate Digestive Biscuit
ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ৩০ জেলাকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে চিহ্নিত করেছে। এসব জেলায় সংক্রমণের হার ১০ থেকে ৩০ শতাংশ। শনাক্ত ও মৃত্যুর হার প্রতিদিন নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করছে।

দেশের করোনা পরিস্থিতি আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠার আগেই কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, দেশ ও দেশের মানুষকে বাঁচাতে হলে এখনই, এই মুহূর্তে কমপক্ষে দুই সপ্তাহের জন্য ঢাকাসহ সর্বোচ্চ সংক্রমণ প্রবণ ৫টি শহরে কারফিউ (লকডাউনের আদলে) জারি করতে হবে।

বাকি ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে কঠোরভাবে সরকার নির্দেশিত ১৮ দফা বিধিনিষেধ প্রতিপালন করতে হবে। অন্যথায় আসছে সপ্তাহে দৈনিক আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে গেলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

তাদের আরও অভিমত, রোগতত্ত্ববিদ এবং জনস্বাস্থ্যবিদরা করোনা পরিস্থিতি আগেই আঁচ করতে পেরেছিলেন। ফলে গত ১৬ তারিখে একটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে এ সংক্রান্ত একটি সভা করে ১২ দফা সুপারিশ প্রদান করেন। কিন্তু সেই সুপারিশ সরকার আমলে নেয়নি। এরপর সংক্রমণ পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটতে শুরু করলে ২৮ মার্চ অধিক সংক্রমিত এলাকার জন্য কঠোর বিধিনিষেধসহ ২২ দফা এবং অপেক্ষাকৃত কম সংক্রমণপ্রবণ এলাকার জন্য ১৮ দফা সুপারিশ প্রদান করেন তারা।

সরকারের সংশ্লিষ্টরা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতামত আমলে না নিয়ে সারা দেশের জন্য ১৮ দফা নির্দেশনা প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করেন। এমনকি মেলা, বিপণিবিতান, খেলা, পাবলিক পরীক্ষা ইত্যাদি স্বাভাবিক নিয়মে চালানোর সিদ্ধান্তও পরিবর্তন করেনি সরকার। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের এ ধরনের আচরণে হতবিহবল হয়ে পড়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

এদিকে বৃহস্পতিবার (১ এপ্রিল) দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সভায় রোগীর সেবা বাড়ানো, বিনোদন কেন্দ্র, বইমেলা ও অন্যান্য মেলা বন্ধ করাসহ পাঁচ দফা গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করেছে।

এ প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশে লকডাউন দেওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।

বিশেষ সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ৫টি জেলায় (ঢাকা, চট্টগ্রাম, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও মৌলভীবাজার) কারফিউর আদলে লকডাউন দিতে হবে। লকডাউন ঘোষণা-পরবর্তী ১৪ দিন কঠোরভাবে সেটি প্রতিপালন করতে হবে। দিনের একটি নির্দিষ্ট সময় এক বা দুই ঘণ্টার জন্য কারফিউ শিথিল করা হবে। যখন সবাই তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যগুলো কিনতে পারে।

অধ্যাপক সায়েদুর বলেন, এছাড়া উচ্চ সংক্রমণপ্রবণ ৩০টি জেলায় সরকারি নির্দেশিত ১৮ দফা কঠোরভাবে প্রতিপালন করতে হবে। অন্যথায় আগামী সপ্তাহে দেশে দৈনন্দিন আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বর্তমানের দ্বিগুণ হয়ে যাবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ অব্যাহত বৃদ্ধির ধারায় গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত রোগীর নতুন রেকর্ড হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৬ হাজার ৪৬৯ জনের মধ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। এই সময়ে মৃত্যু হয়েছে আরও ৫৯ জনের।

বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, যেভাবে প্রতিদিন করোনা সংক্রমণের হার বাড়ছে, এভাবে চলতে থাকলে দেশে কোনো হাসপাতালেই রোগী রাখার জায়গা থাকবে না।

এজন্য করোনার বৃদ্ধি ঠেকাতে দলমত নির্বিশেষে সবাইকেই এগিয়ে আসতে হবে এখনই। প্রধানমন্ত্রীর ১৮টি নির্দেশনার যথাযথ বাস্তবায়নসহ সব স্থানে স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মেনে চলতে না পারলে আগামীতে এই প্রকোপ ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ডা. একেএম শামছুজ্জামান বলেন, আমাদের পিসিআর ল্যাবে গত বছরের মধ্যে গত চব্বিশ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪৫৫৬ (চার হাজার পাঁচশ ছাপ্পান্ন)টি কোভিড-১৯ আরটি পিসিআর পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে।

তার মধ্যে ১০৮৭ জনের পজিটিভ পাওয়া গেছে। যা মোট পরীক্ষিত নমুনার ২৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় তিনি সবাইকে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে গত বছর ৮ মার্চ করোনা ভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ার এক বছর পর গত সোমবার প্রথমবারের মতো এক দিনে পাঁচ হাজারের বেশি নতুন রোগী শনাক্তের খবর আসে।

তার মধ্য দিয়ে দেশে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছয় লাখ ছাড়িয়ে যায়। প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর গত বছরের ১৮ মার্চ দেশে করোনা ভাইরাসে প্রথম মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছিল সরকার, বুধবার তা নয় হাজার ছাড়িয়ে যায়।

পরামর্শক কমিটির সুপারিশ : দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সভায় পাঁচ দফা সুপারিশ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ এপ্রিল) কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. শহিদুল্লা কমিটির পক্ষে সুপারিশগুলো গণমাধ্যমে পাঠান।

এগুলো হচ্ছে-

০১. প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সম্প্রতি করোনা সংক্রমণ কমানোর লক্ষ্যে ১৮ দফা নির্দেশনা জারি করেছে। পরামর্শক কমিটি এই নির্দেশনা জারিকে স্বাগত জানায় এবং ধন্যবাদ জানায়। তবে এগুলো কার্যকর করার জন্য বাস্তবায়ন কর্মসূচি বা প্রস্তুতি বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রয়োজন।

০২. হাসপাতালসমূহে যথাসম্ভব কোভিড-১৯ রোগীর শয্যা সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন। আইসিইউতে শয্যা বাড়ানো দরকার। ঢাকার বাইরে মেডিকেল কলেজগুলোর সক্ষমতা বাড়িয়ে সেখানে এলাকার রোগীর চিকিৎসা করা দরকার।

০৩. কোভিড-১৯ এর জন্য টেস্ট করতে আসা মানুষ যাতে সহজে সেবা পায় তার ব্যবস্থা করা দরকার। আগামী দিনগুলোতে করোনা টেস্ট করার চাহিদা বাড়তে পারে, সেটি মাথায় রেখে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি প্রয়োজন।

০৪. রোগ প্রতিরোধের জন্য অবিলম্বে সামাজিক অনুষ্ঠান, বিনোদন কেন্দ্র, বইমেলা ও অন্যান্য মেলা বন্ধ করা দরকার। পরিবহণে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, মাস্ক পরা। এ সম্পর্কে ইতোমধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সব নির্দেশনা যাতে পালন করা হয় তার ব্যবস্থা নিতে হবে। ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে দিকনির্দেশনা নেওয়া যেতে পারে।

০৫. টিকাদান-পরবর্তী সার্ভিলেন্সের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি একটি ভালো উদ্যোগ। বর্তমান পরিস্থিতিতে সংক্রমণের গতিপ্রকৃতি বোঝার জন্য জেনেটিক সিকুয়েন্সিং করা দরকার। এজন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও আর্থিক সংস্থানের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

Posted on

সচিব আব্দুল মান্নান ও স্বাস্থ্যের এডিজি করোনায় আক্রান্ত


নিজস্ব প্রতিবেদক :
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সেবা বিভাগের সচিব মো. আব্দুল মান্নান ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।
শুক্রবার (২ এপ্রিল) তাকে রাজধানীর শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে সচিব মান্নানকে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সবিচ মো. আব্দুল মান্নান গত বছরের ৪ জুন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সেবা বিভাগের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পান। এর আগে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১০ লাখ রোহিঙ্গার সার্বিক কার্যক্রম তদারকি ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে গঠিত জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের ডেপুটি টিম লিডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

শুক্রবার (২ এপ্রিল) রাতে করোনা আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি তিনি নিজেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে জানিয়েছেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘বিরতিহীনভাবে একটানা ৩৬৫ দিনের বেশি অফিস করার পর উপসর্গসহ করোনায় আক্রান্ত হলাম। মহান আল্লাহ এই মহামারি থেকে মানবজাতিকে, বাংলাদেশের মানুষকে রক্ষা করুন। আমিন।’

মান্নান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।

গত ২৭ জানুয়ারি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে টিকা নেয়ার প্রায় দুই মাস পর করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।