Posted on

করোনা নিয়ন্ত্রণে বিধিনিষেধ পালনে কঠোর হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী


নিজস্ব প্রতিবেদক :
করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের দেওয়া বিধিনিষেধ কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসব বিধিনিষেধ মানাতে প্রয়োজনে আইন প্রয়োগে কঠোর হতে বলেছেন তিনি। মাস্ক পরার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেছেন সরকারপ্রধান।

সোমবার গণভবনে মন্ত্রিসভার ভার্চুয়াল বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশ দেন। বৈঠকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২১-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন আইন, ২০২১-এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন, খেতাবপ্রাপ্ত, যুদ্ধাহত ও শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে উৎসবভাতা প্রদানের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে সচিবালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম এসব তথ্য জানান। গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী ও সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট সচিবরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে যোগ দেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, চলমান লকডাউনসহ বিভিন্ন বিধিনিষেধের বিষয়ে আগামী বৃহস্পতিবার পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বৈঠকে করোনার টিকাদান কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ৮ এপ্রিল থেকে ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে।

মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, লকডাউনের নির্দেশনা সবাইকে কঠোরভাবে মানতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন। করোনার সংক্রমণ রোধে মানুষের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করতে চাই। লকডাউন দেওয়ায় আগের চেয়ে মানুষের আনাগোনা কমেছে।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, বইমেলায় কঠোরভাবে নিয়ম মানা হচ্ছে। এর ব্যত্যয় হলে সরকার নতুনভাবে চিন্তা করবে। গণপরিবহনসহ অন্য কোথাও সরকারের নির্দেশনা অমান্য হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বছরে দুটি উৎসব ও বিজয় দিবসে ভাতা পাবেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা: খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ১০ হাজার টাকা হারে বছরে দুটি উৎসব ভাতা এবং একই সঙ্গে খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে বাংলা নববর্ষ ভাতা হিসেবে দুই হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।

এ ছাড়া খেতাবপ্রাপ্ত যুদ্ধাহত ও শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে জীবিতদের মহান বিজয় দিবস ভাতা হিসেবে পাঁচ হাজার টাকা দেওয়া হবে। এ-সংক্রান্ত প্রস্তাবনায় অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। ফলে এখন থেকে সকল শ্রেণির বীর মুক্তিযোদ্ধা উৎসব, নববর্ষ ও বিজয় দিবস ভাতার আওতায় আসবেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, বর্তমানে পাঁচ হাজার ২২২ জন যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাকে পঙ্গুত্বের মাত্রাভেদে চারটি (এ, বি, সি ও ডি) শ্রেণিতে মাসিক ৪৫ হাজার টাকা থেকে সর্বনিম্ন ২৫ হাজার টাকা। ৯৫২ জন মৃত-যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারকে মাসিক ২৫ হাজার টাকা, ৫৮১৬ জন শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সদস্যদের মাসিক ৩০ হাজার টাকা হারে সম্মানী ভাতা এবং বছরে ১০ হাজার টাকা হারে দুটি উৎসব ভাতা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যরা বাংলা নববর্ষ ভাতা এবং জীবিত যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধারা মহান বিজয় দিবস ভাতা পাচ্ছেন না।

তিনি জানান, সাত বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারকে মাসিক ৩৫ হাজার টাকা হারে, ৬৮ বীরউত্তম পরিবারকে মাসিক ২৫ হাজার টাকা হারে, ১৭৫ বীরবিক্রম পরিবারকে মাসিক ২০ হাজার টাকা হারে এবং ৪২৬ বীরপ্রতীক পরিবারকে মাসিক ১৫ হাজার টাকা হারে সম্মানী ভাতা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধারা কোনো উৎসব ভাতা, বাংলা নববর্ষ ভাতা এবং খেতাবপ্রাপ্ত জীবিত বীর মুক্তিযোদ্ধারা মহান বিজয় দিবস ভাতা পান না।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও জানান, বর্তমানে সাধারণ বীর মুক্তিযোদ্ধারা মাসিক ১২ হাজার টাকা হারে সম্মানী ভাতার পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা হারে দুটি উৎসব ভাতা, বাংলা নববর্ষ ভাতা হিসেবে দুই হাজার টাকা এবং জীবিত বীর মুক্তিযোদ্ধারা মহান বিজয় দিবস ভাতা হিসেবে পাঁচ হাজার টাকা পান।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী আফগান রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ: বাসস ও বিডিনিউজ জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সোমবার সকালে গণভবনে আফগানিস্তানের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত আবদুল কাইয়ুম মালিকজাদ সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের সম্পর্কের প্রশংসা করেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের বৈঠকের বিষয়ে জানান।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ আফগান ভাষায় অনূদিত হয়েছে বলে বৈঠকে আফগানিস্তানের দূত প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

স্পিকার ও বিরোধীদলীয় নেতাকে প্রধানমন্ত্রীর নবর্বষের শুভেচ্ছা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আসন্ন বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে কার্ড পাঠিয়ে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ এবং বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরকে শুভেচ্ছা জানান।

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব-১ এম এম ইমরুল কায়েস জানান, সোমবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তার প্রটোকল অফিসার-২ আবু জাফর রাজু স্পিকারের একান্ত সচিব এম এ কামাল বিল্লাহ, বিরোধীদলীয় নেতার একান্ত সচিব এ কে এম আব্দুর রহিম ভূঞা এবং বিরোধীদলীয় উপনেতার সহকারী একান্ত সচিব আবু তৈয়বের কাছে শুভেচ্ছা কার্ড পৌঁছে দেন।

Posted on

অর্ধেক জনবলে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের


নিজস্ব প্রতিবেদক :
শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর, সংস্থাসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৫০ শতাংশ জনবলে পরিচালনার নির্দেশ জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দুই সপ্তাহ এ আদেশ বলবত থাকবে।

রবিবার (৪ এপ্রিল) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করে।
এর আগে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন জানিয়েছিলেন, ছুটির সময় অর্ধেক জনবল দিয়ে পর্যায়ক্রমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অফিস চালু থাকবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটির সময় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও করোনার বিস্তার রোধে শিক্ষার্থীরা বাসা-বাড়িতে অবস্থান করবে।

রবিবার (৪ এপ্রিল) মন্ত্রণালয়ের জারি করা আদেশে বলা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, যুগ্মসচিব, উপসচিব, সিনিয়র সহকারী সচিব যথা নিয়মে অফিসে উপস্থিতি থাকবেন। উইং প্রধানরা পর্যালোচনা করে নিজ নিজ উইংয়ের অধিশাখা, শাখাগুলোর সাপোর্ট স্টাফদের দৈনিক উপস্থিতির সংখ্যা নিরূপণ করবেন। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া শাখা ও অধিশাখার কর্মরত স্টাফের শতকরা ৫০ শতাংশের বেশি হবে না। গর্ভবতী, অসুস্থ বয়স ৫৫ বছরের ঊর্ধ্বের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বাড়িতে অবস্থান করবেন।

আদেশে আরও বলা হয়, মন্ত্রণালয়ের অধিদফতর, দফতর ও অফিসে সভা সেমিনার, প্রশিক্ষণ, কর্মশালা যথাসম্ভব আয়োজন করতে হবে। দাফতরিক দায়িত্ব পালনকালে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন করতে হবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের আওতাধীন অধিদফতর, দফতর, সংস্থার প্রধানরা প্রয়োজনমতে স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দৈনিক উপস্থিতির সংখ্যা প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনার আলোকে নির্ধারণ করবেন। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দুই সপ্তাহ এ আদেশ বলবত থাকবে।

Posted on

ঝিনাইদহে লকডাউনের প্রথমদিন

রবিউল ইসলাম , ঝিনাইদহঃ
লকডাউনের প্রথম দিনে ঝিনাইদহ শহরে অনেকটা আগের মতই বের হয়েছে মানুষ। তাদের কারো মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা দেখা যায়নি। সোমবার সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে লকডাউন উপেক্ষা করে মানুষের অবাধ চলাচল। এসব মানুষদের মধ্যে বেশরিভাগেরই মুখে নেই মাস্ক, হাতে নেই হ্যান্ড গøাফস। কেউবা সঠিক নিয়মে মাস্ক ব্যবহার করছে না, থুতমিতে নামিয়ে রাখছে, কেউবা আবার পুলিশ দেখে পকেট থেকে মাস্ক বের করে মুখে লাগাচ্ছে। শহরে দোকানপাট বন্ধ ছিল। মানুষের চলাচলও ছিল আগের চেয়ে কম। অন্যদিকে লকডাউন প্রত্যাহারের দাবীতে জেলার কালীগঞ্জ শহরে বিক্ষোভ দেখিয়েছে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তারা লকডাউন প্রত্যাহারের দাবী জানান। অন্যদিকে ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে দুরপাল্লা ও স্থানীয় রুটের কোন যানবাহন ছেড়ে যেতে দেখা না গেলেও শহর সহ বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কে একাধীক যাত্রী নিয়ে অবাধে চলাচল করছে রিক্সা, ইজি বাইক, ভ্যান, থ্রি-হুইলার, ভ্যান, মটর সাইকেলসহ ভ্যক্তিগত বাহন। লকডাউনের মধ্যে যারা বাইরে ঘোরাফেরা করছে তাদের ঘরে ফেরাতে পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের অভিযান চলছে জেলা জুড়ে। তবে খুব একটা কাজে আসছে না। অভিযানের সম্মুখ পড়লেই বিভিন্ন অজুহাত দেখাচ্ছেন বাইরে বের হাওয়া মানুষ। এক রিক্সায় উঠেছে তিন যাত্রী তাদেরই একজন আফসানুর রহমান সেতু। তিনি বলেন, লকডাউন তাই রাতে ঢাকা থেকে এসেছি। এক পরিবারের তিনজন, তাই একসাথে বাড়ি ফিরছি রিক্সায় করে। শহরে বের হওয়া রোকন উদ্দীন জানান, শরীর খারাপ তাই স্ত্রীকে সাথে নিয়ে ডাক্তারের কাছে এসেছিলাম। লকডাউন জানি কিন্তু কি করবো ডাক্তারতো দেখাতেই হবে। ইজি বাইক চালক সোনা মিয়া একাধিক যাত্রী উঠিয়েছেন কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভাই ভুল হয়ে গেছে, এমনটি আর কখনও হবে না। লকডাউন মনিটরিংয়ের জন্য বের হওয়া জেলা প্রশাসক মজিবর রহমান জানান, শহরের প্রতিটি মোড়ে, হাটে-বাজারে জেলা প্রশাসনের অভিযান ও তদারকি চলছে। প্রথম দিনে সকালের দিকে কিছু মানুষ হয়তো অসচেতন ছিল। আমরা চেষ্টা করছি সকলকেই ঘরে রাখার জন্য। অপরদিকে পুলিশ সুপার মুনতাসিরুল ইসলাম জানান, শহরের প্রতিটি প্রবেশ মুখ, সড়ক-মহাসড়কে পুলিশের চেকপোস্ট চলছে। কোন যানেই একাধীক যাত্রী বহন করতে দেওয়া হচ্ছে না।

Posted on

ঝিনাইদহে লকডাউন কার্যকরে মাঠে পুলিশ


রবিউল ইসলাম,ঝিনাইদহঃ
সারাদেশের ন্যায় ঝিনাইদহেও শুরু হয়েছে ১ সপ্তাহের লকডাউন। সকাল থেকেই বন্ধ রয়েছে স্থানীয় ও দুরপাল্লার সকল প্রকার গণপরিবহন। বন্ধ রাখা হয়েছে ঔষধ, মুদিখানা, কাঁচাবাজার ও খাদ্যের দোকান ব্যতিত সকল দোকান-পাট।
সোমবার সকাল থেকে লকডাউন কার্যকরে মাঠে রয়েছে পুলিশ। জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও জেলা শহরের পোস্ট অফিস মোড়, আরাপপুর, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালসহ বিভিন্ন স্থানে পুলিশের চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। সরকারের ১৮ দফা নির্দেশনা কার্যকর ও সর্বস্তরের মানুষকে সচেতন করতে সকালে পুলিশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। পুলিশ সুপার মুনতাসিরুল ইসলাম নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল আবুল বাশার, ডিবি ওসি আনোয়ার হোসেন, সদর থানার ওসি মোঃ মিজানুর রহমানসহ জেলা পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। এই লকডাউনে অযথা শহরে ঘোরাঘুরি না করতে ও জরুরী প্রয়োজনে বাইরে বের হওয়া মানুষকে মুখে মাস্ক পরতে ও স্বাস্থ্য বিধি মানতে নানা পরামর্শ দেন।

Posted on

মোরেলগঞ্জ বাজারে রমজানকে সামনে রেখে নিত্যপন্যের দাম উর্ধ্বগতি


শামীম আহসান মল্লিক, বাগেরহাট প্রতিনিধি:
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে খুচরা ও পাইকারি বাজারে সবজির দাম কমলেও চাল ও অনন্য দ্রব্যাদী দাম বেড়েছে অনেক গুন । বিক্রেতারা বলছেন, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রচুর সবজিবাহী ট্রাক আসায় সবজির মূল্য কমেছে বলে দাবি বিক্রেতাদের।
পবিত্র রমজান মাসের শুরুর আগেই নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় দিশাহারা হয়ে পড়েছে এখানকার সাধারণ মানুষ। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোজ্যতেল, পিয়াজ, রসুন, বেগুন, চিনিসহ প্রায় সকল পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় দিশাহারা হয়ে পড়েছে মোরেলগঞ্জের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ সোমবার সকালে বাজার ঘুরে দেখা যায়, সপ্তাহের ব্যবধানে কিছু সবজির দাম কমেছে কেজি প্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা।
কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ৩০ টাকা কমে ২৫ টাকা, বেগুন ১০ টাকা কমে ৪০ টাকা, শিম ২০ থেকে ১৫ টাকা, , চিচিঙ্গা ১০ টাকা কমে ৫০ টাকা, করলা ৪০ টাকা, ঢেঁড়স ৩০ টাকা, পেঁপে ৫ টাকা কমে ২০ টাকা, কচুর লতি ৩০ টাকা, বরবটি ৩০ টাকা, হাইব্রিড টমেটো ১২ টাকা, দেশি টমেটো ১৫ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৩০ থেকে ৪০ টাকা ও লাউ প্রতি কেজি ৩০ টাকা, জালি কুমড়া ৩০ থেকে ৩৫ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে বাজারে শবজির দাম কমলেও চাল,ডাল,ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে অনেক গুন। মোরেলগঞ্জ বাজারের পাইকারি একজন ব্যাবসায়ী জানান, বাজারে সবজির সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দাম কমেছে।
সবজির দাম কমলেও খুচরা বাজারে সব ধরনের চালের কেজি অনেক গুন বেড়েছে। আর পাইকারি বাজারে বস্তা প্রতি বেড়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা।

বাজার ঘুরে জানা যায়, কেজি প্রতি নাজির শাইল বিক্রি হচ্ছে ৫৯ থেকে ৬০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৫৮ টাকা। মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ৪৯ থেকে ৫০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৪৮ টাকা। এছাড়া স্বর্ণা ৩৮, লতা ৪০, পাইজাম ৪০, বিআর ৪৩ এবং পারিজা ৩৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজারের চালের ব্যবসায়ীরা জানান, বস্তাপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ টাকা দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় কেজি চালের দাম একটু বেশি নেওয়া হচ্ছে।
বাজারের খুচরা চালের একজন ব্যাবসায়ী জানালেন, ২৮ চাল মণ প্রতি ৩০ টাকা বেশি দিয়ে পাইকারি বাজার থেকে কিনেছেন। এ কারণে কেজি প্রতি বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এদিকে চালের দামের পাশাপাশি বেড়েছে ডাল ও তেলের দামও।ডালের দাম কেজি প্রতি ২০ টাকা বেড়ে ৭০ টাকা,ভোজ্যতেলের দাম কেজি প্রতি ছিল ৯০ টাকা যেটা এখন ৪০ টাকা বেড়ে ১৪০ টাকা
বাজারে নিত্য প্রোয়জনীয় জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধির কারনে সাধারণ মানুষের জীবিকা নির্বাহ করতে হিমসিম খেতে হচ্ছে, পেঁয়াজসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির ঘটনায় মোরেলগঞ্জের সাধারণ মানুষের উদ্বিগ্ন হওয়াটাই স্বাভাবিক। বাজারে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ক্রয়ক্ষমতা না বাড়ায় সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে, নিম্ন আয়ের শ্রমজীবীরা অসহায় বোধ করেন। দাম বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে মোরেলগঞ্জের কয়েকজন খুচরা ব্যাবসায়ী বলেন বাজারের বড় ব্যবসায়ীরা এর জন্য দায়ী।
আমরা অতীতে বহুবার দেখেছি রমজান মাস আসলেই মোরেলগঞ্জের কিছু আসাধু ব্যাবসায়ীরা সময় ও সুযোগের সদ্ব্যবহার করে নিত্যপণ্যসহ অন্যান্য পণ্যের বাজার অস্থিতিশীল করার অপপ্রয়াস চালায়। যোগসাজশের মাধ্যমে বাজার ব্যবস্থার স্বাভাবিক গতি যদি বাধা গ্রস্তকরা হয়, তাহলে একদিকে যেমন ভোক্তাস্বার্থের হানি ঘটে, অন্যদিকে সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে পড়ে এর বিরূপ প্রভাব।

Posted on

বাস চাপায় পথচারির মৃত্যু


মো.নজরুল ইসলাম,গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সোমবার দুপুরে সড়ক দূঘর্টনায় জাহিদুল ইসলাম (৫৪) নামের এক ভাঙ্গারী ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে।সে উপজেলার রাখালবুরুজ ইউনিয়নের মৃত ইছাব উদ্দিনের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, রংপুর-বগুড়া মহাসড়কের গোবিন্দগঞ্জের কাটাখালী ব্রীজ সংলগś এলাকায় দুপুর ১২ টার দিকে রংপুরগামী একটি দ্রুতগামী ট্রাক (নং ঢাকা-মেট্রো-ট-১৬-৩৮৩২) রাস্তা পার হওয়ার সময় জাহিদুলকে চাপা দেয়।এতে জাহিদুল গুরুতর আহত হলে তাকে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষনা করেন।গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে থানার এসআই বাবুল মিয়া ঘটনা নিশ্চিত করে জানান, ঘাতক ট্রাকটি আটক করা হয়েছে। তবে ড্রইিভার পালিয়ে গেছে।

Posted on

গোবিন্দগঞ্জে কালবৈশাখী ঝড়ে নববধূর মৃত্যু


মো.নজরুল ইসলাম,গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে কালবৈশাখী ঝড়ে গাছ চাপায় আহত শারমিন বেগমের (২০) মৃত্যু হয়েছে।রোববার মধ্যরাতে তিনি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

মৃত শারমিন বেগম গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের রামপুরা গ্রামের নাজমুল হোসেনের স্ত্রী।তিনি পাশ্ববর্তী সাঘাটা উপজেলার রাঘবপুর গ্রামের সাইদুল ইসলামের মেয়ে।

স্থানীয়রা জানান, মাস ছয়েক আগে নাজমুলের সঙ্গে শারমিনের বিয়ে হয়।ঝড়ের মধ্যে এই নববধূ গাছের শুকনা ডাল কুড়াতে গেলে তার গায়ের ওপর ইউক্লিপটার্স গাছ ভেঙ্গে পড়ে গুরুতর আহত হন।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শাহজাহান আলী জানান, তাকে মুমূর্ষ অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়।সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত ঘটে।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আবু মুসা এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান,ওই গৃহবধূর বাবার বাড়ী পাশ্ববর্তী সাঘাটার রাঘবপুর গ্রামে তার দাফন সম্পর্ন হয়েছে।

Posted on

গাইবান্ধায় কালবৈশাখীর ঝড়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ জন

মো.নজরুল ইসলাম,গাইবান্ধা প্রতিনিধি

গাইবান্ধা জেলা সদরসহ সাত উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রচ- কালবৈশাখী ঝড়ে পড়া গাছের নিচে, ঘরের চাপা ও উড়ে আসা ঘরের টিনের চালায় চাপা পড়ে আহতদের মধ্য থেকে এখন মৃতের সংখ্যা বেড়ে এখন দাঁড়িয়েছে ১০ জন।
নতুন করে যে ৬ জনের মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া গেছে তারা হলো- সদর উপজেলার বাদিয়াখালী ইউনিয়নের সরকারটারি রিফাইতপুর গ্রামের খগেন্দ্র নাথের স্ত্রী জোসনা রাণী (৬৫), রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের হরিণসিংহা তিনগাছেরতল গ্রামের হিরু মিয়ার শিশু পুত্র মনির হোসেন (৫) ও আরজি বাসুদেবপুর গ্রামের রিজু মিয়ার স্ত্রী আরজিনা বেগম (২৮), মালিবাড়ি ইউনিয়নের ঢনঢনিপাড়ার মিঠু মিয়ার স্ত্রী সাহেরা বেগম (৪০), ফুলছড়ি উপজেলার এরেন্ডাবাড়ি ইউনিয়নের ডাকাতিয়ার চর গ্রামের হাফিজ উদ্দিন (৬৫), পলাশবাড়ি উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের কুমিদপুর গ্রামের মৃত আব্দুল কাদেরের স্ত্রী মমতা বেগম (৬৪)।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, রোরবার দুপুর আড়াইটায় এক ঘন্টার কালবৈশাখী ঝড়ে ভেঙ্গে পড়া গাছের নিচে চাপা পড়ে যাদের মৃত্যু হয়, তারা হলো পলাশবাড়ী উপজেলার ডাকেরপাড়া গ্রামের ইউনুস আলীর স্ত্রী জাহানারা বেগম (৪৯), মোস্তফাপুর গ্রামের আবźাস আলীর ছেলে গোফফার আলী (৩৮), সুন্দরগঞ্জ উপজেলার আমেনা বেগম (৪৫) ও ফুলছড়ি উপজেলার কাতলামারী গ্রামের শিমুলী বেগম (২৫)।

Posted on

বগুড়া আজিজুল হক কলেজে যুবককে কুপিয়ে হত্যা দুদিন আগে পুলিশ কর্মকর্তা ছুরিকাহত


মোঃ আব্দুল ওয়াদুদ,বগুড়া প্রতিনিধিঃ
বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ ক্যাম্পাসে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে বিশু মিয়া (৩২) নামে এক যুবক খুন হয়েছেন। রোববার রাত ৯টার দিকে এ হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়। সে আজিজুল হক কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ও শিবগঞ্জ উপজেলার দেউলী ইউনিয়নের পাকুড়িয়া গ্রামের মৃত জাহিদুল ইসলামের ছেলে। বিশু আজিজুল হক কলেজে ২০১৬-১৭ বর্ষের একাউন্টিং বিভাগ থেকে মাস্টার্স পাশ করেছেন। ঘটনার পর পরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পুলিশ কর্মকতার্গন। এ ঘটনার দুদিন আগে শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ ক্যাম্পাসের বিজ্ঞান ভবনের পিছনে এসআই রবিউল ইসলামকে (৩০) দুর্বৃত্তরা ছুরিকাঘাত করে। বর্তমানে তিনি বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পাশের জহুরুল নগর এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুস সামাদ জানান, তার এলাকার এক ছেলে দৌড়ে গিয়ে তাকে জানায় কলেজের মধ্যে এক যুবক রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে সদর থানার উপশহর পুলিশ ফাঁড়িতে খবর দেন।
নিহতের ছোট বোন জাহানারা খাতুন জানান, তার ভাই বাড়ী থেকে ৪ হাজার টাকা নিয়ে তার ছাত্রাবাসে এসেছিল। তিনি শহরের জামিলগর এলাকায় একটি ছাত্রাবাসে থাকতেন এবং চাকরির পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার ভাইয়ের সাথে মোবাইলে সর্বশেষ কথা হয়। এসময় তার ভাই তাকে জানায়, সে মুন হলের সামনে আছে। ছাত্রাবাসে গিয়ে তাকে মোবাইলে কল করে জানাবে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। লাশের পাশে মানিভ্যাগ ও মোবাইল ফোন পাওয়া গেলেও ৪হাজার টাকা পাওয়া যায়নি। পুলিশের ধারনা , ছিনতাইকারীরা টাকা কেড়ে নিয়ে হত্যা করেছে।
বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ জানান, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়। কি কারণে ঘটনাটি ঘটল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে বগুড়া সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ জানান, ধারনা করা হচ্ছে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে সে খুন হয়েছে।

Posted on

গোবিন্দগঞ্জে সড়ক দূঘর্টনায় নিহত ০১


শামীম রেজা ডাফরুল, গোবিন্দগঞ্জ(গাইবান্ধা)প্রতিনিধি
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সোমবার দুপুরে সড়ক দূঘর্টনায় জাহিদুল ইসলাম (৫৪)নামের এক ভাঙ্গারী ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। সে উপজেলার রাখালবুরুজ ইউনিয়নের মৃত ইছাব উদ্দিনের ছেলে।
জানা গেছে, রংপুর- বগুড়া মহাসড়কের গোবিন্দগঞ্জের কাটাখালী ব্রীজ সংলগ্ন এলাকায় দুপুর সোয়া ১২ টার দিকে রংপুরগামী একটি দ্রুতগামী ট্রাক (নং ঢাকা-মেট্রো-ট-১৬-৩৮৩২) রাস্তা পার হওয়ার সময় জাহিদুলকে চাপা দেয়। গুরুতর আহত জাহিদুলকে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষনা করেন।
গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে থানার এসআই বাবুল মিয়া ঘটনা নিশ্চিত করে জানান, ঘাতক ট্রাকটি আটক করা হয়েছে- তবে ড্রইিভার পালিয়ে গেছে।