Posted on

মুন্সীগঞ্জে পৌর মেয়রের বাসভবনে ‘রহস্যজনক’ বিস্ফোরণ, দগ্ধ ১৩


নিজস্ব প্রতিবেদক :
মুন্সীগঞ্জের মিরকাদিম পৌরসভার মেয়র হাজী আব্দুস সালামের বাসভবনে ‘রহস্যজনক’ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে ১৩ জন দগ্ধ হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

দগ্ধদের মধ্যে গুরুতর আহত ১২ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে (ঢামেক) আনা হয়েছে ইতোমধ্যে। বাকি একজনকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে জেলা সদরের মিরকাদিম পৌরসভার রামগোপালপুর এলাকায় পৌর মেয়রের বাসভবনে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

তবে কীভাবে এ বিস্ফোরণ ঘটেছে তা এখনও নিশ্চিতভাবে বলতে পারেননি কেউ-ই।
রহস্যজনক

বিস্ফোরণে পৌর মেয়র অক্ষত রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন মিরকাদিম পৌরসভার প্যানেল মেয়র কাউন্সিলর রহিম বাদশা।

ঢামেকে আনা আহতদের মধ‌্যে চার জন কাউন্সিলর রয়েছেন। তারা হলেন- মো. সোহেল, মো. আওলাদ, দীন ইসলাম ও রহিম বাদশা।

অপর আহতরা হলেন- মেয়রের স্ত্রী কানন বেগম, মো. মোশারফ, মনির হোসেন, শ্যামল দাস, পান্না, কালু, মো. ইদ্রিস আলী, মঈনউদ্দিন ও মো. তাজুল।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে মিরকাদিম পৌরসভার প্যানেল মেয়র কাউন্সিলর রহিম বাদশা সাংবাদিকদের বলেন, ‘পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে চার পৌর কাউন্সিলর নিয়ে নিজ বাস ভবনের তৃতীয়তলার একটি কক্ষে আলোচনা করছিলেন মেয়র । হঠাৎ করেই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তে কক্ষের ভেতর আগুন ধরে যায়। বিস্ফোরণে কক্ষের আসবাবপত্র, জানালার কাচ চুরমার হয়ে গেছে। বিস্ফোরণের শব্দ পেয়ে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে চার কাউন্সিলরসহ অন্তত ১৩ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।’

সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক ঘটনার সত‌্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘কীভাবে এ বিস্ফোরণ ঘটেছে তা এখনও নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গেছেন। তদন্তের পর বিস্ফোরণের কারণ তারা বলতে পারবেন।’

Posted on

বাংলাদেশ এ বছর ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে: আইএমএফ


নিজস্ব প্রতিবেদক :
২০২১ সালে বাংলাদেশের অর্থনীতি ৫ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।

বিশ্ব অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি অনুমান করে ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ শীর্ষক পূর্বাভাস সূচক প্রতিবেদন আজ মঙ্গলবার প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটনভিত্তিক দাতা গোষ্ঠীটি।

এবার বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সংস্থাটির বসন্তকালীন বৈঠকের আগে আউটলুক প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হলো। সেখানে ২০২২ সালে বাংলাদেশের অর্থনীতি আরেকটু শক্তিশালী হয়ে ৭.৫ শতাংশ হারে বাড়তে পারে বলে জানানো হয়।
বিশ্বের এক নম্বর অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্র চলতি বছর ৭.১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে বলে আইএমএফ জানিয়েছে। এ ছাড়া, ইউরো জোনে ৩.৩ এবং যুক্তরাজ্যে ৫.৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধির আভাস দিয়েছে সংস্থাটি।

২০২১ সালে দক্ষিণ এশিয়ার অপর দুই বড় অর্থনীতি ভারত ও পাকিস্তান যথাক্রমে ১২.৫ ও ১.৫ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে বলেও জানায় আইএমএফ। বিশ্বের প্রধান অর্থনীতিগুলোর মধ্যে গত বছর মহামারি স্বত্বেও ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির ধারায় ছিল শুধু চীন। এ বছরে দেশটি ৮.৬ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে, তবে ২০২২ সালে প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়াতে পারে ৫.৬ শতাংশে।

Posted on

স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে ডিএনসিসির মোবাইল কোর্ট


নিজস্ব প্রতিবেদক :
করোনা ভাইরাস থেকে জনগণকে সুরক্ষিত রাখতে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতকল্পে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) বিভিন্ন এলাকায় আজ মঙ্গলবার মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।

প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল হামিদ মিয়ার নেতৃত্বে গুলশান-২ নম্বর এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। ৩১৫টি দোকান, পার্লার, সবজি দোকান ইত্যাদি পরিদর্শন করেন তারা।

এসময় লাইসেন্সবিহীন এবং ফুটপাতের জায়গা অবৈধভাবে দখল করে ব্যবসা করা, মাস্ক না পরায় ৮ জনকে ৩৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এ সময় জাহিদ প্লাজায় অসামাজিক কার্যকলাপে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে অভিযান পরিচালনাকালে হিল্টন থাই স্পা এর সবাই পিছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যায়। গুলশান ১১৩ নম্বর রোডের ২৩/বি এর ষষ্ঠ তলায় হিল্টন থাই স্পা এর আরেকটি শাখায় অসামাজিক কার্যকলাপে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে ৩ জনকে পাওয়া গেলে তাদেরকে গুলশান থানায় প্রেরণ করা হয়।
মিরপুর-১০ অঞ্চলের আঞ্চলিক নিবার্হী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সালেহা বিনতে সিরাজের নেতৃত্বে দারুসসালাম এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। এ সময় মাস্ক ছাড়া রাস্তায় ঘোরাঘুরির অপরাধে ১০ জনকে মোট ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

হরিরামপুর অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাজিয়া আফরিনের নেতৃত্বে উত্তরা ১২ নম্বর ‌সেক্টরের সোনারগাঁও জনপদ রোড এবং ময়লার মোড় এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালে যথাযথভাবে মাস্ক না পরার কারণে ১০টি মামলায় মোট ১ হাজার ২৯০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এছাড়া ১টি হোটেলের ভিতরে লোকজনকে বসিয়ে খাবার পরিবেশনের অপরাধে হোটেল মালিককে ৫ হাজার জরিমানা করা হয়। এ সময় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন থেকে ৯০টি মাস্ক বিতরণ করা হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পারসিয়া সুলতানার নেতৃত্বে অঞ্চল ১০ এর ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। মাস্ক না থাকায়, সরকারের জারিকৃত আদেশ অমান্য করায় এবং ট্রেড লাইসেন্স না থাকায় ২টি মামলায় ১৩ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এছাড়া বাজার মনিটরিং করে, বাজার কমিটির সাথে কথা বলে সকল স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য এবং বাজার মূল্যের সঠিক ব্যবস্থাপনার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।

উত্তরখান অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবেদ আলীর নেতৃত্বে পরিচালিত মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। এসময় করোনা ভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা হয়।

সম্পত্তি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে ভাটারা অঞ্চলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এ সময় মোট ৮ টি মামলায় ৯ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয় এবং জনগণকে সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা প্রতিপালনে সচেতন করা হয়।

স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে ডিএনসিসির মোবাইল কোর্ট অব্যাহত থাকবে।

Posted on

ইসলামিক ফাউন্ডেশন বগুড়ার ডিডি দায়িত্ব ফেলে তাবলীগে সময় কাটান বেশি


আব্দুল ওয়াদুদঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন বগুড়ার উপ-পরিচালক (ডিডি) আজমল হকের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। মসজিদের ইমামকে কানধরে ওঠাবসা করানো, সহকর্মীদের তাবলিগের চিল্লায় যাওয়া বাধ্যতামূলক করা, কোন কারণ ছাড়াই মসজিদ ভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রমের শিক্ষকদের চাকরিচ্যুৎকরাসহ অসংখ্য অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
ডিডি আজমল হকের বেশির ভাগ সময় কাটে তাবলিগের চিল্লায়। বর্তমানে তিনি বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার বিভিন্ন জামে মসজিদে চিল্লায় অবস্থান করছেন। ফাটল ধরা তাবলিগের দুইগ্রুপের একটি গ্রুপের নেতৃত্বদেন তিনি। জোবায়ের পন্থি হিসেবে পরিচিত এই সরকারি কর্মকর্তা অফিসে সময় না দিয়ে প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলের মসজিদগুলোতে সময় দিয়ে একটি গ্রুপের পক্ষে জনমত গড়ে তোলার কাজ করছেন। এর আগে বগুড়ায় সাদ এবং জোবায়ের পন্থিদের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনি জোবায়ের পন্থিদের নেতৃত্ব দিয়েছেন। পুলিশ এমন তথ্য নিশ্চিৎ করেছেন। এদিকে গত ৩ এপ্রিল সোনাতলা উপজেলার আগুনিয়াতাইড় মিয়াপাড়া জামে মসজিদে উস্কানিমূলক বক্তব্যের জের ধরে মুসল্লিদের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে রাতের আধারে তিনি ওই মসজিদ ত্যাগ করে পাশের গ্রামে সরদারপাড়া জামে মসজিদে চলে যান। বর্তমানে তিনি ওই মসজিদেই অবস্থান করছেন। এমন তথ্য জানিয়েছেন মসজিদে উপস্থিত একজন মুসল্লি সুমন মাস্টার। বগুড়ার শেরপুর উপজেলার মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের শিক্ষক হাফেজ আব্দুল ওয়াহাব অভিযোগ করে বলেন, কিছুদিন আগে সামান্য একটি বিষয় নিয়ে ডিডি আজমল স্যার লোকজনের উপস্থিতিতে তাকে কান ধরে ওঠাবসা করান। এই ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অবস্থান বেগতিক দেখে পরে বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে মিমাংসা করেন ডিডি আজমল। একই কার্যক্রমের শিক্ষক গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ির কোলারবাড়ি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের শিক্ষক সুলতানা ইয়াসমিন জানান, তিনি দীর্ঘদিন থেকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের শিক্ষক হিসেবে কাজ করে আসছেন। হঠাৎ করে গত বছরের জুলাই থেকে তার বেতন বন্ধ করে দিয়েছেন ডিডি আজমল। কারণ জানতে চাইলে তিনি ওই শিক্ষককে বলেন- কাগজপত্র ঠিক নেই। ওই শিক্ষক ডিডির চাহিদা অনুযায়ী কাগজপত্র জমা দিলেও আজঅবধী তার বেতন বন্ধ রেখেছেন। ফলে ওই শিক্ষক চরমভাবে দৈন্যদশার মধ্যে পতিত হয়েছেন।
হাফেজ মাওলানা কামল হোসেন নন্দীগ্রামের ভাটারা জামে মসজিদে শিক্ষকতা করে আসছেন ২০০৬ সাল থেকে। কিছু দিন আগে তিনি তার বাড়ির কাছের একটি কেন্দ্রে বদলির জন্য আবেদন দেন ডিডি বরাবর। সেই দরখাস্ত দেয়ার পর চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে তার বেতনও বন্ধ করেন তিনি। কেন তার বেতন বন্ধ করা হয়েছে জানতে চাইলে ডিডি ওই শিক্ষককে বলেন তোমার চাকরি নেই। অন্য একজনকে ওই কেন্দ্রে চাকরি দেয়া হয়েছে। এমন কথা শোনার পর ভেঙ্গে পরেন ওই শিক্ষক। অনেক আকুতি মিনতি করেও তার চাকরি ফেরৎ পাননি। কোন অপরাধে তিনি চাকরি হারালেন সেটিও তার জানা নেই। এর আগেও ২০১৭ সালে আজমল ডিডি হিসেবে বগুড়ায় আসেছিলেন। সে সময় বগুড়া সদরের সুপারভাইজার জিয়াউর রহমানকে শয়তানের বাচ্চা বলে গালি দেন তিনি। এই গালির প্রতিবাদ করায় তাকে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। ওই ফিল্ড অফিসার চাকরি এখনো ফেরত পাননি। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। বগুড়া জেলা প্রশিক্ষক শাহআলম জানান, কোন কারণ ছাড়াই তাকে ডিমোশন দিয়ে শিবগঞ্জ উপজেলায় প্রেরণ করেছেন। এছাড়াও বগুড়া অফিসের একাধিক কর্মকর্তা কর্মচারি বলেছেন ডিডি আজমল তাদের সাথে সব সময় দুব্যবহার করে থাকেন। ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে পারেনা। এদিকে ডিডি আজমল তার অধিনস্ত কর্মচারি এবং মসজিদ ভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রমের শিক্ষকদের বাড়িবাড়ি গিয়ে তাবলিগ জামাতে চিল্লায় অংশগ্রহনের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। যেতে না চাইলে ওই শিক্ষকদের চাকরি খাওয়ার হুমকিদেন। এমন অভিযোগও করেছেন অসংখ্য শিক্ষক। সোনাতলা উপজেলার দাউদপুর জামে মসজিদের শিক্ষক মাসুদ রানা বলেন, কিছু আগে ডিডি তার বাসায় আসেন। এসে তাকে বলেন তোমাকে চিল্লায় যেতে হবে। আগামী ১৮ এপ্রিল পরবর্তী চিল্লার তারিখ ঠিক করা হয়েছে সেই দিনের জন্য তুমি প্রস্তুত হও। ওই শিক্ষক আরো বলেন, আমার সদ্য জন্ম নেয়া সন্তানের কথা ডিডিকে জানানোর পরেও তিনি নাছোর বান্দা। চিল্লার জন্য তার থেকে উসুল (বুকিং মানি) আদায় করেছেন ডিডি আজমল। এছাড়াও সোনাতলা উপজেলার বিভিন্ন জামে মসজিদের শিক্ষক নূরুল আলম, মহসিন আলী, রেজাউল করিম, আশরাফুল আলমসহ অনেক শিক্ষকই জোর করে তাবলিগে যাওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টির এমন অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ করেছেন তাদের অনেকের থেকে অগ্রিম টাকা নেয়ারও।
এদিকে ডিডির বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগও উঠেছে। কাহালু ও নন্দীগ্রাম উপজেলার ফিল্ড সুপারভাইজার মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ পা ভেঙ্গে গতবছরে ২৪ ডিসেম্বর হাসপাতালে ভর্তি হন। দীর্ঘ দিন তিনি হাসপাতাল এবং বাড়িতে বিছানায় পড়ে ছিলেন। এজন্য তিনি ছুটি নেননি। অফিস না করলেও রীতিমত সব সুযোগ সুবিধা তিনি গ্রহণ করেছেন। শুধু কাহালু উপজেলায় তিনি ১৫ বছর ধরে কর্মরত আছেন। এসব বিষয় নিয়ে জানতে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বগুড়ার উপ-পরিচালক আজমল হকের কার্যালয়ে একাধিকবার গেলেও তার দেখা পাওয়া যায়নি। অফিস কর্মীরাও জানিয়েছেন তিনি তাবলিগ জামাতের চিল্লায় আছেন। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তার ফোন বরাবরই বন্ধ পাওয়া যায়। সহকর্মীরা জানান, চিল্লায় থাকলে তিনি ফোন রিসিভ করেন না।

Posted on

গোবিন্দগঞ্জে বিধবাকে গণধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ মামলায় আটক যুবকের স্বীকারোক্তি

শামীম রেজা ডাফরুল গোবিন্দগঞ্জ(গাইবান্ধা) প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে রাতের আঁধারে অপহরণ করে এক বিধবাকে (৩৫) পালাক্রমে গণধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ অভিযোগের মামলায় হোসাইন শেখ (২৭) নামের এক যুবককে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। সে উপজেলার হাউসী পাড়া গ্রামের মোস্তাক আহমেদের ছেলে।
পুলিশ সোমবার (৫ এপ্রিল) দুপুরে গোবিন্দগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, আমলী আদালত গোবিন্দগঞ্জ (চৌকি) আদালতে আসামীকে সোপর্দ করে।
বৈরাগীর হাট পুলিশ তদস্তকেন্দ্রের অফিসার ইনচার্জ ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মিলন চ্যাটার্জী জানান, আটক আসামী হোসাইন শেখকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং সে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছে।
এর আগে বৈরাগীর হাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ৪ এপ্রিল দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে পাশ্ববর্তী বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার ময়দানহাট্টা ইউনিয়নের হাটগামী গ্রাম থেকে আসামী হোসাইন শেখকে গ্রেফতার করে ।
থানা সূত্রে জানা যায়, ধর্ষণের শিকার ওই বিধবা গত ১ এপ্রিল দুইজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো তিনজন মোট ৫ জনকে আসামী করে গোবিন্দগঞ্জ থানায় ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ মামলা দায়ের করে। মামলা নং-০২। অজ্ঞাতনামা আসামীদের মধ্যে একজন এই হোসাইন শেখ।
মামলা ও এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায়, সাপমারা ইউনিয়নের মেরী গ্রামের মরহুম আনোয়ার হোসেন প্রায় একযুগ আগে বিয়ে করে কৌচাকৃষ্ণপুর গ্রামের ওই বিধবাকে। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে ওই বিধবা কৌচাকৃষ্ণপুর গ্রামে তার বাবার বাড়িতে অবস্থান করত। ঘটনার রাতে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিয়ে ঘরের বাহির হলে ধর্ষক হাউসীপাড়া গ্রামের শুকুর আলীর ছেলে বাবু মিয়া (৩০) ও একই গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে শফিকুল ইসলাম (২৫) তাকে মুখ চেপে ধরে অপহরণ ও ধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ করে। পরে মুখ ঢেকে অপরিচিত আরো তিনজন তাকে ধর্ষণ করে।
এ ঘটনায় আসামীদের বিরুদ্ধে ৮(২) ২০১২ সালের পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন; তৎসহ ৯(৩) ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধনী ২০০৩ ধারায় গোবিন্দগঞ্জ থানায় দায়েরকৃত মামলা নম্বর ২।

Posted on

লকডাউনের প্রথম দিনে করোনায় আক্রান্ত ৮৮ জন বগুড়ায় দোকান খোলার দাবীতে ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ


বগুড়া প্রতিনিধি: লকডাউন ঘোষনার দ্বিতীয় দিনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকানপাট খোলার দাবীতে রাজপথে নেমেছে বগুড়ার ব্যবসায়ীরা। মঙ্গলবার দুপুরে বগুড়া ইলেক্ট্রিক, ইলেকট্রনিক্স ও কাপড় ব্যবসায়ী সমিতির নেতাকর্মি ও তাদের দোকান কর্মচারীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে। তারা শহরের জিরোপয়েন্ট সাতমাথায় জড়ো হয়ে মানববন্ধন করে। পরে তারা বিক্ষোভ মিছিল সহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যান। সেখানে বিক্ষোভ প্রদর্শন শেষে জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেন। এসময় ইলেকট্রিক ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম (মেলর), সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত চক্রবর্তি (বেবু), সহসভাপতি মতিয়ার রহমান (মানিক), সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম (সুমন), সদস্য জহুরুল ইসলাম (জহির), সোহাগ, জহুরুল, রুমন, স্বপন, রিপন, রাজ্জাক, কবির, ত্বোহা প্রমূখ। স্মারকলিপিতে ব্যবসায়ী নেতারা উল্লেখ করেন- ‘গত বছর লকডাউনে বগুড়ার ব্যবসায়ীরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এবারও দোকানপাট বন্ধ থাকলে তাদের পথে বসতে হবে। এমতাবস্থায় তারা সকল স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দোকানপাট খোলার দাবী জানাচ্ছে।থ
এদিকে, লকডাউনের দ্বিতীয় দিনে এসে করোনার প্রকোপ আরও বেড়েছে। গত চব্বিশ ঘন্টায় জেলায় নতুন করে আরও ৮৮জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন একজন। এনিয়ে জেলা মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ১০ হাজার ৫৮৭ জন, মোট মারা গেছে ২৬৫ জন।

Posted on

লোন না নিয়েও ব্যাংকের নোটিশে হতাশ ব্যবসায়িরা


এম আর অভি, বরগুনা প্রতিনিধি:
উত্তরা ব্যাংক লিমিটেড বরগুনা শাখা থেকে ২৪ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ির নামে তোলা কৃষি লোনের টাকা কার পকেটে এ নিয়ে চলছে ত্রিমূখী দোষারোপ। এ দিকে লোন না নিয়েও লোনের টাকা পরিশোধে ব্যাংকের দ্বিতীয় নোটিশ পেয়ে এসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়িরা হতাশ।
ব্যাংক সূত্রে জানাগেছে, ২০১৪ সালের দিকে বরগুনা সদরের বাসার ষ্টোর ,কোওড়াবুনিয়া ,আশাখালী প্রোপাইটার আবুল বাসার এর স্বাক্ষরিত জামিনদার (গ্রান্টেড) রেখে শহরের ২৪ ব্যবসায়ি গ্রাহক হয়ে উত্তরা ব্যাংক লিমিটেড বরগুনা শাখা থেকে ১২ লাখ টাকা কৃষি লোন উত্তোলন করেন। যা বর্তমানে সুদে-আসলে প্রায় ১৯ লাখে পরিণত হয়েছে। সময় মত লোন পরিশোধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় উত্তরা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ঐ কৃষি লোন গ্রহিতা ২৪ ব্যবসায়িকে গত ১০ মার্চ দ্বিতীয় বারের মত নোটিশ দিয়েছেন ।
অপরদিকে ব্যাংকের নোটিশ প্রাপ্ত ব্যবসায়িদের দাবী কোন ধরনের কৃষি লোন তারা ওই ব্যাংক থেকে গ্রহন করিনি। শহরের বাসার স্টোর এর মালিক (প্রত্যাশা সমবায় সমিতির) সভাপতি আবুল বাসার আমাদের বাইনাতি ক্ষুদ্র ব্যবসায়িদের নিয়ে সমিতি করেছিল । সে সমিতিতে ঐ সব ব্যবসায়িদের জাতীয় পরিচয়পত্র (ভোটার কার্ড) ও ছবি জমা থাকত। ধারনা করা হচ্ছে সেসব কাগজপত্র জমা দিয়ে আমাদের স্বাক্ষর জ্বাল করে ব্যাংক কর্মকর্তাদের সাথে যোগসাজোশে এ কৃষি লোন উত্তোলণ করেছে আবুল বাসার।
ব্যাংকের নোটিশ প্রাপ্ত মো. শাহিন প্রতিবেদকে জানান, আমাদের বাইনাতি সমিতি ছিল ,আবুল বাসার সেই সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছিল । তার কাছে আমাদের ভোটার কার্ড ছিল । কারও কার্ড কারও ছবি ব্যবহার করে জালিয়াতি করে বাসার ব্যাংক থেকে আমাদের ২৪ জন ব্যবসায়ির নামে কৃষি লোন তুলেছে। আমি উত্তরা ব্যাংক চিনতাম না। নোটিশ পাওয়ায় চিনলাম। আমি উত্তরা ব্যাংক বরগুনা শাখা থেকে কোন কৃষি লোন তুলি নাই। বর্তমানে এ বিষয়ে মিমাংশার চেষ্টা চলছে। মিমাংশা না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেব।
বাসার স্টোর এর মালিক (প্রত্যাশা সমবায় সমিতির) সভাপতি আবুল বাসারের কাছে জানতে চাইলে তিনি তৎকালিন উত্তরা ব্যাংক লিমিটেড বরগুনা শাখার ব্যবস্থাপক আলমগীর হোসেন ও ঐ সময়কার লোন অফিসার হুমায়ুন কবিরকে দোষারোপ করেন এবং ঐ ব্যাংক কর্মকর্তারা আসল -নকল গ্রান্টার বানিয়ে বরগুনার অনেকের টাকা আতœসাৎ করেছে দাবী করে এ কৃষি লোনের বিষয় তিনি কিছুই জানেনা বলে জানান।
তবে উত্তরা ব্যাংক লিমিটেড বরগুনা শাখার তৎকালিন ব্যবস্থাপক আলমগীর হোসেন বর্তমানে ব্যাংকের হেড অফিসে ক্রেডিট আব্রবল ডিপারমেন্টে ও লোন অফিসার হুমায়ুন কবির পঞ্চগর শাখায় কর্মরত আছেন। এ বিষয়ে তাদের সাথে যোগাযোগ করা সম্বভ হয়নি।
এ ব্যাপারে উত্তরা ব্যাংক লিমিটেড বরগুনা শাখার ব্যবস্থাপক মি. মো. আব্দুল জলিল বলেন, ২০১৪ সালে কেওড়াবুনিয়া ,আশাখালী, বাসার স্টোর ঠিকানায় আবুল বাসার চলতি হিসাব নং ১৬৯৬ জামিনদার হয়ে স্বাক্ষর করে শহরের ২৪ জন ব্যবসায়ি গ্রাহক স্বাক্ষর করে এ ব্যাংক থেকে ১২ লাখ টাকা কৃষি লোন উত্তোলন করেন। যা বর্তমানে সুদে-আসলে ১৮ লাখের বেশি হয়েছে। কৃষি লোন ৫ বছর পর্যন্ত শিথিল থাকে। সময়মত এ লোন পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে গ্রাহকে আমরা ১ম ,২য় ও চ‚ড়ান্ত এবং উকিল নোটিশ পাঠাই। এতেও গ্রাহক পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে মামলা করি। তিনি আরও বলেন,যতটুকু দেখা যায় এখানে লোন গ্রাহক ও জামিনদারের স¦াক্ষর ছবি আইডি কার্ড রয়েছে। স্বাক্ষর জাল কি আসল সেটা তদন্তের পরেই জানাযাবে বা সংশ্লিষ্টরা বলতে পারবে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আইনের ব্যর্তয় ঘটেনা। যদিও ব্যর্তয় ঘটে থাকে তা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Posted on

গণপরিবহন চালুর ঘোষণা


জয়যাত্রা ডেস্ক :

দেশের কয়েকটি অঞ্চলে বুধবার (০৭ এপ্রিল) থেকে গণপরিবহন চলবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

মঙ্গলবার (০৬ এপ্রিল) বিকেলে মন্ত্রী তার নিজ বাসভবন থেকে ব্রিফিংকালে এ কথা জানান।

তিনি বলেন, লকডাউন পরিস্থিতিতে সরকারি-বেসরকারিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ও জনসাধারণের যাতায়াতে দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার গণপরিবহনে চলাচলের বিষয়টি শর্ত প্রতিপালন সাপেক্ষে পুনর্বিবেচনা করে অনুমোদন দিয়েছে।

ঢাকা, চট্টগ্রাম মহানগরসহ গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, রাজশাহী, খুলনা,সিলেট, বরিশাল, রংপুর ও ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন এলাকাধীন সড়কে সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অর্ধেক আসন খালি রেখে গণপরিবহন চলাচল করবে বলে জানান ওবায়দুল কাদের ।

তিনি জানান, প্রতি ট্রিপের শুরু এবং শেষে জীবাণুনাশক দিয়ে গাড়ি জীবাণুমুক্ত এবং পরিবহন সংশ্লিষ্ট ও যাত্রীদের বাধ্যতামূলক মাস্ক পরিধান, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

কোনোভাবেই সমন্বয়কৃত ভাড়ার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা যাবে না বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত দূরপাল্লায় গণপরিবহন চলাচল যথারীতি বন্ধ থাকবে বলেও জানান তিনি।

আগামীকাল ৭ এপ্রিল বুধবার থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত বলবৎ থাকবে বলে জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

সড়ক পরিবহন মন্ত্রী করোনা সংক্রমণ বিস্তাররোধে সরকারের নির্দেশনাসমূহ যথাযথভাবে প্রতিপালনে পরিবহন মালিক শ্রমিক ও যাত্রীসাধারণের সহযোগিতা কামনা করেন।

Posted on

ভালোবাসার ঘর সংসার

জয়যাত্রা ডেস্ক :
শত বাধা-বিপত্তি পার করেও প্রিয় মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কাটিয়ে দেয়া জীবনের নামই ভালোবাসা। যে ভালোবাসায় অটুট থাকে সব বন্ধন, যে ভালোবাসায় থাকে উদারতা কিংবা এক বুক আশার বার্তা- ঠিক তেমন ভালোবাসাই তো টিকে থাক যুগ থেকে যুগান্তরে। আমাদের শোবিজে তারকাদের মধ্যে রয়েছে তেমনই কিছু ভালোবাসার নজির।
আলমগীর-রুনা লায়লা
ভালোবাসার সুখি দৃষ্টান্ত!
এ দুই তারকা পরিচালক চাষী নজরুল ইসলামকে ধন্যবাদ দিতেই পারেন। ভাগ্যিস দুজনকে একসঙ্গে কাস্ট করেছিলেন তাঁর ‘শিল্পী’ ছবিতে! নইলে এ দুটি মনের মিলন ঘটত কি না সন্দেহ। ‘শিল্পী’ ছবির ভাগ্যে যা-ই ঘটুক না কেন, রুনা লায়লা আর আলমগীরের ভাগ্যে ধরা দিয়েছে ভালোবাসার জোড়া শালিক। এঁদের দেখলে এখন অনেকেরই ঈর্ষা হয়। ভালোবাসার সত্যিই অনেক ক্ষমতা! দুজনকে শোবিজে ভালোবাসার অনন্য এক দৃষ্টান্তও বলা যায়।

শাবনাজ-নাঈম
সুখের সংসারের আনন্দে বসবাস
নব্বই দশকের বাংলা চলচ্চিত্রের সফল এবং জনপ্রিয় জুটি ছিল তারা। তাদের প্রথম ছবি ছিল এহতেশাম পরিচালিত ‘চাঁদনী’। তারপর কয়েক বছরের চলচ্চিত্রের ক্যারিয়ারে তাঁরা জুটি হয়ে অভিনয় করেন বিশটির মতো ব্যবসা সফল ছবিতে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- ‘জিদ’, ‘লাভ’, ‘চোখে চোখে’, ‘অনুতপ্ত’, ‘বিষের বাঁশি’,‘সোনিয়া’, ‘টাকার অহংকার’, ‘সাক্ষাৎ’ ও ‘ঘরে ঘরে যুদ্ধ’। একসঙ্গে চলচ্চিত্রে কাজ করার সুবাদে দুজনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং শেষ পর্যন্ত তারা বিয়ের গাটছড়া বাঁধেন। বর্তমানে এ জুটি সিনেমা নিয়ে ব্যস্ত না থাকলেও নিজেদের সংসার নিয়ে ব্যস্ত আছেন।

ফারুকী-তিশা
প্রেম ছিল মনে মনে…
নিজেদের কাজ দিয়ে দুজনেই শোবিজে বেশ আলোচিত তারকা। একজন তাঁর নির্মাণ দিয়ে, আর অন্যজন তার অভিনয় দিয়ে দর্শক হৃদয় জয় করে চলেছেন। নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী আর অভিনেত্রী তিশার মধ্যে প্রেম ছিল দীর্ঘ সাড়ে চার বছর। ২০০৫ সালের অক্টোবরে একটি নাটকের শুটিংয়ে ফারুকী তার মনের কথা তিশার কাছে প্রকাশ করেন। তবে প্রকাশ্যে তারা এই প্রেমের কথা স্বীকার করেননি কখনো, আবার অস্বীকারও করেননি। প্রেমের কথা উঠলেই তারা এড়িয়ে যেতেন। তবে শোবিজে তাদের দু’জনের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা ছিল বেশ। বন্ধুত্ব থেকে প্রেম। দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্ক পরিণতি পায় বিয়েতে। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ২০১০-এ দুই পরিবারের মধ্যস্থতায় তারা বিয়ের পিঁড়িতে বসেন। তাদের মধ্যে প্রেম নিয়ে শোবিজে কম আলোচনা হয়নি। বলা যায় এটা নিয়ে তাদের মধ্যে একপ্রকার লুকোচুরিও ছিল।

মৌসুমী-ওমর সানী
বন্ধুত্ব, প্রেম এবং সংসার…
ঢাকার চলচ্চিত্রে অন্যতম জনপ্রিয় নাম মৌসুমী। নব্বই দশকে চলচ্চিত্রে নাম লেখান খুলনার এই গুণী মেয়ে। প্রয়াত সালমান শাহ্-এর সঙ্গে জুটি বেঁধে চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন তিনি। একসময় ওমর সানীর সঙ্গে জুটিও গড়েন মৌসুমী। ওমর সানীর সঙ্গেও মৌসুমী জুটি বেঁধে অভিনয় করেন। একসাথে কাজ করতে গিয়ে দু’জনের মধ্যে একটা বন্ধুত্ব তৈরি হয়। এই বন্ধুত্ব কখন যে ভালোবাসায় পরিণত হলো তা নিজেরাও জানেন না। ভালোবাসার সেই সূত্র ধরেই ১৯৯৬ সালে দু’জনে বিয়েটা সেরে ফেলেন। বর্তমানে ওমর সানীকে আবারো অভিনয়ে নিয়মিত পাওয়া যাচ্ছে। মৌসুমীও ব্যস্ত রয়েছেন অভিনয় নিয়ে। মাঝে মৌসুমীকে পরিচালক হিসেবেও দেখা গিয়েছিল। একাধিক চলচ্চিত্র পরিচালনা করেছেন এই গ্ল্যামার কন্যা। এই তারকা দম্পতির ছেলে স্বাধীন এরইমধ্যে পরিচালকের খাতায় নাম লিখিয়েছেন। তাদের একটি মেয়েও রয়েছে। দুজনের গড়া ‘স্বাধীন’ নামে একটি প্রযোজনা হাউজও রয়েছে।

সুবর্ণা মুস্তাফা-বদরুল আনাম সৌদ
প্রেমটা একটু চ্যালেঞ্জই ছিল!
আশির দশকে গুণী অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফার জন্য অনেক যুবকের মনে একটা হাহাকার তৈরি হয়েছিল। সেই সুবর্ণা মালা পরালেন গুণী অভিনেতা ফরীদির গলায়! না, হুমায়ূন ফরীদিকে ছোট করে দেখা নয়, বরং সুবর্ণার ভক্তকুলের এমন আক্ষেপ শুনতে হতো প্রায়ই। অন্য অনেককে দূরে ঠেলে সুবর্ণা ফরীদিকে বরণ করে নেন ‘ভালোবাসা’র কাছে আত্মসমর্পণ করেই। সে যাই হোক। সুবর্ণার জীবনে প্রেম আসে আবারো। নির্মাতা বদরুল আনাম সৌদ তার প্রেমে পড়েন। সৌদের ধারাবাহিক ‘ডলস হাউজ’-এর ইউনিটে বেড়ে ওঠে সেই প্রেমের বীজ। সৌদের ভালোবাসার কাছে আরো একবার আত্মসমর্পণ করলেন সুবর্ণা। এই প্রেম অনেক বেশি চ্যালেঞ্জের ছিল। এত দিনের গড়ে ওঠা ইমেজে নিন্দুকের নিন্দার কালি পড়ল, সুবর্ণা তবু ভালোবাসাকেই বেছে নিলেন।

জাহিদ হাসান-মৌ
অতঃপর তাহাদের সংসার শুরু
টিভি মিডিয়ায় আলোচিত ও জনপ্রিয় জুটি জাহিদ হাসান ও সাদিয়া ইসলাম মৌ। দু’জনই দু’জনের কাজ খুব পছন্দ করেন। টিভি পর্দায় দু’জনই দু’জনের কাজ দেখে দূর থেকে এক প্রকার ভালোলাগা তৈরি হয়। তবে কখনোই একসাথে কাজ করা হয়নি দু’জনের। অবশেষে একবার বিটিভির জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদির মাধ্যমে দু’জনে একসাথে পারফর্ম করেন। ভাওয়াইয়া গান ‘আমার ভাঙা গাড়িতে বউ সাজিয়ে, তু তু তু সানাই বাজিয়ে, যাব তোমায় শ্বশুরবাড়ি নিয়ে…’ গানটির চিত্রায়ণ হয়। অনুষ্ঠানটির গানে অংশ নেন এ দুই তারকা। অনুষ্ঠানটি প্রচারের পর ব্যাপক আলোচিতও হন তারা। প্রথম দেখাতেই দু’জন দু’জনকে পছন্দ করে ফেলেন। একসাথে উঠাবসা হতে হতে একের অন্যের প্রতি ভালোবাসার সম্পর্ক তৈরি হয়। এক সময় তারা সংসার গড়েন। তাদের ঘর আলো করে আছে দুই সন্তান। মেয়ে পুষ্পিতা আর ছেলে পূর্ণর কোমল মুখচ্ছবি তাদের জীবনের পরিপূর্ণতা। বিয়ের কয়েক মাস পর সাংসারিক ব্যস্ততার জন্য মৌ শোবিজ থেকে নিজেকে কিছুটা গুটিয়ে নিলেও বর্তমানে অভিনয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। জাহিদ হাসানও নিয়মিত দাপটের সাথে অভিনয় করে যাচ্ছেন।

আজিজুল হাকিম ও জিনাত হাকিম
অটোগ্রাফ থেকে প্রেম
আজিজুল হাকিম ও জিনাত হাকিম। সব বিশেষণ-ই কেমন যেন ফিকে হয়ে যায় এই দম্পত্তির নামের পাশে। তাই নাম দুটি বলার পর আর বেশি কিছু বলা লাগে না। এদেশের সব শ্রেণির দর্শকদের কাছে আকাশচুম্বি জনপ্রিয়তা রয়েছে এই দু’জনার। একজন (জিনাত হাকিম) বাস্তবধর্মী নাটক লিখেন, অন্যজন অসাধারণ অভিনয়গুণে (আজিজুল হাকিম) সেটিকে দর্শকদের সামনে তুলে ধরেন। বাংলা নাটককে অন্য একটি মাত্রা দিয়েছেন তারা।
দেশের টিভি নাটক ও মঞ্চ অভিনয়ে একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র আজিজুল হাকিম। মঞ্চে অভিনয় দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করলেও টিভি নাটকে তার দাপট ছিল কয়েক যুগ ধরে। অন্যদিকে জিনাত হাকিম একজন সফল নাট্যকার, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টেও রয়েছে সমান বিচরণ। এক সময় তিনি ছিলেন আজিজুল হাকিমের অনেক বড় ভক্ত। ইউনিভার্সিটিতে অটোগ্রাফ নিতে গিয়ে বন্ধুত্ব, তারপর জানাশোনা, অল্প দিনের প্রেম। অতপর দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে। সেই থেকে একসঙ্গে প্রাণবন্ত পথচলা। জীবন সঙ্গী বলেন, আর বন্ধু বলেন তারা সবই একে অপরের।

তৌকির আহমেদ-বিপাশা হায়াত
সেদিনই পরিচয় দুজনের!
এই দম্পতি ভালোবাসার অনন্য এক উদাহরণ। বিপাশা হায়াত তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চারুকলা অনুষদে পড়েন। আঁকাআঁকি এবং ক্যানভাস নিয়েই তার যত ব্যস্ততা। আর তৌকীর আহমেদ তখন বুয়েটে পড়াশোনা করতেন। ঢাকার মঞ্চে চুটিয়ে অভিনয় করছিলেন তৌকীর। মঞ্চে তখন তৌকীর ব্যাপক জনপ্রিয়। একদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে এক বন্ধুর আমন্ত্রণে তৌকীর বেড়াতে আসেন। সেখানে বিপাশা হায়াতের ছবি আঁকা দেখে থমকে যান তিনি। সেদিনই বিপাশার সঙ্গে পরিচয় হয় তৌকীরের। এরপর বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানে তাদের দেখা হয়। মূলত ‘রূপনগর’ নাটকে অভিনয় করার সময় দু’জনের মধ্যে একটা ভালো বন্ধুত্ব তৈরি হয়। সেই ভালোলাগা থেকেই তাদের মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্কের শুরু। একদিন লেকের ধার দিয়ে হাঁটার সময় তৌকীর তার ভালোবাসার কথাটা জানালেন বিপাশাকে। যদিও বিপাশা মনে মনে তৌকীরকে খুব পছন্দই করতেন। ব্যস ভালোবাসার ভেলায় দুজনে ভাসতে শুরু করলেন। তাদের প্রেমের সফল পরিণতি হয় ১৯৯৯ সালের ২০ জুলাই। বিয়ের পরও দু’জনই মিডিয়ায় সমান তালে কাজ করছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি তৌকির আহমেদ নির্মাতা হিসেবেও সফল।

শাহেদ-নাতাশা
এক পলকেই ভালোবাসা
তখন নাতাশা কর্পোরেট জগতের একজন মানুষ। চাকুরী করছেন। বাবার কথায় কয়েকটি নাটকে অভিনয়ও করেছেন। আর শাহেদ তো রীতিমত তারকা। ২০০৪ সালের ঘটনা। একটি বিয়ের অনুষ্ঠান। ঘরভর্তি মানুষ। চারদিকে হৈচৈ। সেই অনুষ্ঠানে গিয়েছিল শাহেদ। নাতাশাও সেই অনুষ্ঠানে গিয়েছিল তার এক আত্মীয়র সঙ্গে। দূর থেকে অনুষ্ঠানে নাতাশাকে দেখে শাহেদ। ক্ষণিকের সেই দেখায় নাতাশাকে ভালো লেগে যায় শাহেদের। এরপর কারো মাধ্যমে ফোন নাম্বার জোগাড় করে শাহেদ। শুধু কি তাই, ভালোবাসার অনুভূতি প্রকাশের পাশাপাশি রীতিমত বিয়ের প্রস্তাবও দিয়ে বসেন তিনি। শাহেদকে এক পলকে দেখে নাতাশারও ভালো লেগে যায়। অনুষ্ঠানে প্রথম দেখা হওয়ার পর দু’জন দু’জনের কাছে আসতে থাকে। দু’বছরের ভালোবাসার পর্ব শেষে বিয়ের মালা গলে পড়লেন দুজনে। তবে শাহেদ সেই বিয়ের অনুষ্ঠানে তাকে দেখে নিজের ভেতর ভালোলাগা এবং ভালোবাসার কথা মনের মধ্যে পুষে রেখেছিলেন। নিজের ভালোবাসার কথাটি বলার জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে বেশ কয়েকদিন। অন্যদিকে শাহেদের পরিবার তার বিয়ে নিয়ে বেশ তোড়জোড় চালাচ্ছিল। ব্যস মোক্ষম সময়ে, মনের চাহিদা পরিবারের সবাইকে জানিয়ে দেন বুদ্ধিমান শাহেদ। এভাবেই পারিবারিকভাবে বিয়ের সানাই বেজে উঠে শাহেদ-নাতাশার জীবনে ২০০৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি। আজ তাদের কোলজুড়ে দুটি ছেলেমেয়ে শ্রিসা ও সাবিব।

তানিয়া আহমেদ-এস আই টুটুল
গল্পে গল্পে প্রেম
১৯৯১ সালের ১৯ জুলাই বিয়ে তারা করেছেন দুই পরিবারের সম্মতিক্রমেই। সেদিন বিয়ের সময় কোনো কিছুই নববধূকে দিতে পারলেন না তিনি। স্রেফ ভালোবাসাকেই সম্বল করে সংসার যাত্রা শুরু করেছিলেন তারা। এখন তাদের সংসারে আছে আদরের দুটি সন্তান। আজ তাদের যশ-খ্যাতি কিংবা ভালোবাসা- কোনো কিছুরই কমতি নেই। বলছি তারকা দম্পতি তানিয়া আহমেদ ও এসআই টুটুল এর কথা। তানিয়া আহমেদ র‌্যাম্প মডেলিং করতেন। মাঝে মাঝে কোরিগ্রাফিও। অন্যদিকে এলআরবি ব্যান্ডের কী- বোর্ড বাদক হিসেবে কাজ করতেন টুটুল। একটি শো করতে এসেছেন তানিয়া আর সেখানে এলআরবির সঙ্গে পারফর্ম করতে এসেছেন টুটুল। এই আয়োজনেই তারা দুজন দুজনের পরিচিত হলেন। বলতে গেলে অনুষ্ঠানের আলো আঁধারিতে পরস্পরের মুখটা চিনে নিলেন। এরপর নানা অনুষ্ঠানে তাদের দেখা হতে থাকলো। গল্পে গল্পে দুজনের আড্ডা জমতে লাগলো। সেই আড্ডা যে কখন ভালোবাসার পথ মাড়িয়ে ফেললো তা তারা নিজেরাও জানতে পারলেন না। দুজনের ভালোলাগার কথাগুলো বলা হলো কোনো একটা সময়ে। কাছে এলেন তারা। কিছুদিন প্রেমও চললো চুটিয়ে। এরপর বিয়ে এবং সংসার।

বৃন্দাবন দাস ও শাহনাজ খুশি
চড়াই-উতরাই পেরিয়ে সুখের সংসার শুরু
খুশির বড় ভাই বজলুল করিম আফসার ছিলেন বৃন্দাবন দাসের বন্ধু। সেই সুবাদে খুশিদের বাড়িতে বৃন্দাবনের যাওয়া-আসা। তখন বৃন্দাবন কলেজে পড়তেন আর খুশি স্কুলে। বন্ধুর ছোট বোনকে ভালো লাগে বলেই বেশি বেশি আসতেন বন্ধুর বাড়িতে। এদিকে খুশিরও একই অবস্থা। যা কিছু তাঁর ভালো লাগে, সব গুণই আছে বড় ভাইয়ের বন্ধু বৃন্দাবনের মধ্যে। স্কুলবালিকার মন, মানে না বারণ! এরপর কেটে গেছে বেশ কয়েকটি বছর। বৃন্দাবন উচ্চশিক্ষার জন্য ঢাকায় আসেন। খুশি স্কুল পাস করে ভর্তি হন কলেজে। এর মধ্যে তাঁদের ভালোবাসার কথা জেনে যান দুই পরিবারের সদস্যরা। পারিবারিকভাবে শুরু হলো খুশির বিয়ের তোড়জোড়। কিন্তু তিনি বৃন্দাবনকে ছাড়া আর কাউকে বিয়ে করতে রাজি নন। তাই একদিন কলেজ পড়ুয়া খুশি পরিবারের সবাইকে ছেড়ে রওনা দেন ঢাকায় বৃন্দাবনের কাছে। দিনটি ছিল ১৯ জানুয়ারি ১৯৯৪। সেদিন জার্মান কালচারাল সেন্টারে বৃন্দাবনের ‘আদিম’ নাটকটির মঞ্চায়ন ছিল। মামুনুর রশীদ আরণ্যকের কার্যালয়ে নিয়ে বিয়ে পড়িয়ে দেন দুজনের। শুরু হলো তাদের সংসার। দুই পরিবারের কেউ মেনে নিলেন না তাঁদের বিয়ে। অনেক বাধা বিপত্তির মাঝে চলতে থাকে তাঁদের সংসার। নানান চড়াই-উতরাই পেরিয়ে তাদের আজো সুখের সংসার বয়ে চলেছে।

রিয়াজ-তিনা
একটি গানের দৃশ্য অতঃপর প্রেম!
হৃদয়ের কথা সিনেমার একটি গানের নাচের দৃশ্যে প্রথম পরিচয় হয় তাদের। সে সময় রিয়াজ প্রধান নায়ক হলেও তিনা ছিলেন সাধারণ একজন সহকর্মী। সেই গানের একটি দৃশ্য ছিল তিনা ঘুরে এসে নিচে বসে রিয়াজের দিকে হাত বাড়িয়ে দেবে, আর রিয়াজ তার হাত ধরে তাকে টেনে তুলবে। শুটিং শুরু হওয়ার পর তিনা রিয়াজের দিকে তার হাতটি বাড়িয়ে দেয় এবং রিয়াজ তার হাতটি ধরে তাকে টেনে তোলার জন্য। ঠিক এই সময়টাতেই ঘটে যায় অঘটন। পুরো শুটিং ইউনিটের সামনে রিয়াজ তিনাকে টেনে না তুলে বেশ কিছুক্ষণ তিনার হাত ধরে তার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকেন। সেই গানের শুটিং এর পর থেকেই রিয়াজের মনে বাসা বেঁধে নেয় তিনা। তবে সে সময়ে তিনার মনে বাসা বাঁধতে পারেননি রিয়াজ। তিনার মনে রিয়াজের বাসা বাঁধতে আরও অনেকটা সময় লেগেছে। বিভিন্ন সময় শুটিং বিষয়ক বিভিন্ন পরামর্শ ও উপদেশের জন্য তিনা রিয়াজকে ফোন দিতে থাকেন এবং ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে তাদের দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা। এভাবে বেশ কিছুদিন চলার পর রিয়াজই প্রথম তিনাকে সরাসরি প্রেমের প্রস্তাব দেন। অনেক অপেক্ষার পর ২০০৭ সালের ১৮ ডিসেম্বর বাজে তাদের বিয়ের সানাই।

শহীদুজ্জামান সেলিম ও রোজী সিদ্দিকী
বোঝাপড়ার সুখি সংসার
একসাথে কাজের সূত্র ধরে কাছে আসা, ভালোবাসার বন্ধনে জড়ান তারা। ভালোবাসার স্বীকৃতি দিতেই সম্পর্ক গড়ায় বিয়েতে। তারপর থেকেই দু’জনে বয়ে নিয়ে চলেছেন বোঝাপড়ার সুখি সংসার। বলছি তারকা দম্পতি শহীদুজ্জামান সেলিম ও রোজী সিদ্দিকীর কথা। এই নিয়ম ও শৃঙ্খলার মারপ্যাঁচের ক্লান্তি যাতে অনুভূতি থেকে আনন্দ-উপভোগ কেড়ে নিতে না পারে, তার জন্য দারুণ এক টনিক আছে এই দম্পতির। তা হলো ঘুরে বেড়ানো। বিয়ের প্রথম দিনটি থেকে আজ অবধি ভালোবাসার এতটুকু কমতি নেই তাদের কাছে। দুজনই শোবিজে কাজ নিয়ে ব্যস্ত আছেন। যদিও শহীদুজ্জামান সেলিমের তুলনায় রোজী সিদ্দিকী কিছুট কম কাজ করছেন।

মোশাররফ করিম ও জুঁই করিম
ভালোবাসার কোচিং সেন্টার!
১৯৯৭ সালের কথা। ই হক কোচিং সেন্টারে মোশাররফ করিম শিক্ষকতা করতেন। সেই কোচিং সেন্টারে আবার এসএসসি ও এইচএসসি’র সময় জুঁই কোচিং করতেন। তার ক্লাসের শিক্ষক ছিলেন মোশাররফ করিম। একটা সময় সেই কোচিং সেন্টারে জুঁই শিক্ষকতাও শুরু করেন। একসাথে ক্লাস নেয়া, টিউটোরিয়াল নিয়ে কথা বলা এবং আসা-যাওয়ার মাঝে দুজনের মধ্যে ভালোলাগার একটা সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ধীরে ধীরে সেই ভালোলাগা ভালোবাসার রূপ নেয়। কোচিং সেন্টারে ক্লাস নেয়ার সময় থিয়েটারের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ঠিকই ছিল মোশাররফের। থিয়েটার, কোচিং আর টিউশনি এ নিয়েই ছিল তার ব্যস্ততা। একটা সময় দুজনের পারিবারিক সম্মতিতে তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। ১৯৯৭ সালে পরিচয় এবং ২০০১ সালে বিয়ে-এই লম্বা জার্নিতে দুজনই দুজনকে বুঝেছেন এবং জেনেছেন। বর্তমানে মোশাররফ করিমের পাশাপাশি জুঁই করিমও অভিনয় করছেন। এমনকি দুজনে জুটি বেঁধেও অনেকগুলো নাটকে অভিনয় করছেন। ভালোবাসার এই তারকা দম্পতির সংসারে রুবেন রায়ান করিম নামে একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

হিল্লোল ও নওশীন
প্রকাশ্যে প্রেম গোপনে বিয়ে!
নাটকে অভিনয় করতে গিয়েই দুজনের পরিচয়। একসাথে জুটি বেঁধে অনেকগুলো নাটকে অভিনয়ও করেছেন তারা দু’জন। সেসব নাটক দর্শকপ্রিয়তা পাওয়ার পর অনেক নির্মাতাই তাদের নিয়ে নতুন নতুন নাটক নির্মাণ শুরু করলেন। এভাবেই দুজনের মধ্যে ভালোবাসার আদান-প্রদান শুরু হয়ে যায়। তবে হিল্লোল অভিনেত্রী তিন্নীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার পর নওশীনের সঙ্গে উঠাবসা করায় একপ্রকার ভালোলাগা কাজ করে। আর সেই ভালোলাগায় সায়ও দেন নওশীন। কারণ তিনিও মনের মানুষ খুঁজছিলেন মনের মতো করে।
বিয়ে নিয়ে শুরুতে স্বভাবতই ছিল লুকোচুরি। এরপর একসাথে উঠাবসা ও ঘুরে বেড়ানো এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালু করা- সবকিছুই করেন একসাথে। পথচলা যেহেতু শুরু হয়েছে একসাথে কবুল বলাটা শুধু সময়ের ব্যাপার-ই ছিল। সেই সময়টাকেও দৌঁড়াতে দেয়নি তারা। বলা হয়ে গেছে কবুল। তবে ছাদনাতলার কাজটা সারলেন অনেকটা গোপনেই হিল্লোল ও নওশীন। মিডিয়ার কাউকে না জানিয়ে একান্ত ঘরোয়াভাবে বিয়ে করেন এই তারকা দম্পতি।

নাদিয়া-নাঈম
প্রেমের জোয়ারে ভেসে বিয়ে!
নাদিয়ার মা ও নাঈমের পিতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠী ছিলেন। দীর্ঘদিন পর দুজনের দেখা হলে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হয় দুই পরিবারের মধ্যে একটি সম্পর্ক স্থাপনের। আর এদিকে নাটকে অভিনয়ের সুবাদে আগেই নাদিয়া ও নাঈম আগে থেকেই দুজনের মধ্যে একটা ভালো লাগা তৈরি হয়ে যায়। বলা যায় দুজনই প্রেমের সাগরে ভেসে যাচ্ছিল অবিরত। সবমিলিয়ে দুই পরিবারের সম্মতিতেই বিয়েটা সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর দুজনই নাটকে অভিনয় করছেন নিয়মিত। নাদিয়া বলেন, সবকিছুই আসলে সৃষ্টিকর্তার অসীম দয়া। একজন মানুষ হিসেবে নাঈমকে যতদূর জানি, বুঝি তাতে আমার জীবন চলার পথে সে আমার পাশে থেকে আমাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে আগামীর পথে। আমরা একে অন্যকে যেন বুঝে ভালোভাবে চলতে পারি, সংসার করতে পারি এ দোয়াই চাই সবার কাছে।

প্রাণ রায়-শাহনেওয়াজ কাকলী
রঙের খেলা খেলতে গিয়ে…
আর দশজন সাধারণ মানুষের প্রেমের গল্প যেমন হয় প্রাণ রায় এবং শাহনেওয়াজ কাকলী প্রেমের গল্পও ঠিক একই রকম। খানিকটা বাংলা সিনেমার মতো। সংঘাতের পর প্রেম এবং অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে অবশেষে বিয়ে। প্রাণ রায় বলেন, ‘কাকলী আমার ছিল ক্লাসমেট। আমরা একসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগে পড়াশোনা করেছি। সে সময় আমরা এক সঙ্গে ক্লাস করতাম, ছবি আঁকতাম। ঘুরে বেড়াতাম। কিন্তু একদিন বুঝতে পারলাম… প্রহর শেষে দিনের আলোয় সে দিন চৈত্রমাস, আর আমি কাকলির চোখে দেখেছিলাম আমার সর্বনাশ। কাকুলীর কথা আমি জানি না, জানতে চাইওনি। আমি ওকে ভালোবাসি এটাই হলো বড় কথা।’ এভাবেই শুরু হয়েছিল প্রাণ রায় এবং কাকলীর প্রেম। ছবি আর ছবি আঁকাই প্রাণ রায়ের পণ। সব সময় ছবি আঁকতে পছন্দ করেন তিনি। এই পছন্দের সঙ্গে যোগ হলো নতুন এক ভালোলাগা। এই দুই ভালোলাগার সমন্বয় করতে গিয়েই সবাই জেনে গেল তাদের প্রেমের ব্যাপারটা। প্রথমেই দুই পরিবার থেকে বাঁধা আসল। তারপর একটা সময় এসে প্রেমেরই জয় হলো। তারা বিয়ে করলেন। সুখ-দুঃখকে সঙ্গী করে তারা সংসার করছেন। তাদের ঈদেও যেমন উৎসব হয়, তেমনি পূজাতেও করা হয় উৎসবের আয়োজন।

Posted on

করোনায় শনাক্ত ও মৃত্যুর নয়া রেকর্ড


নিজস্ব প্রতিবেদক :
দেশে করোনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এই ভাইরাসটি ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করছে। প্রতিদিনই নতুন রেকর্ড তৈরি করছে। আজ মঙ্গলবার আবারও রেকর্ড সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। ২৪ ঘণ্টায় দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ২১৩ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ নিয়ে দেশে এখন পর্যন্ত মোট করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৫১ হাজার ৬৫২ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৬৬ জন। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৯ হাজার ৩৮৪ জনে। মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এদিন সুস্থ হয়েছেন আরো ২ হাজার ৯৬৯ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৫ লাখ ৫৮ হাজার ৩৮৩ জন।

এর আগে জুনের ৩০ তারিখে ৬৪ জন মারা যান, যা একদিনে মৃতের সংখ্যায় এতদিন সর্বোচ্চ ছিল। গত কয়েকদিন ধরে প্রতিদিনই ৫০ জনের ওপরে মারা যাচ্ছেন। এর আগে সোমবার (৫ এপ্রিল) দেশে আরও ৭ হাজার ৭৫ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়। এ ছাড়া আক্রান্তদের মধ্যে মারা যান আরও ৫২ জন।