Posted on

ভালোবাসার ঘর সংসার

জয়যাত্রা ডেস্ক :
শত বাধা-বিপত্তি পার করেও প্রিয় মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কাটিয়ে দেয়া জীবনের নামই ভালোবাসা। যে ভালোবাসায় অটুট থাকে সব বন্ধন, যে ভালোবাসায় থাকে উদারতা কিংবা এক বুক আশার বার্তা- ঠিক তেমন ভালোবাসাই তো টিকে থাক যুগ থেকে যুগান্তরে। আমাদের শোবিজে তারকাদের মধ্যে রয়েছে তেমনই কিছু ভালোবাসার নজির।
আলমগীর-রুনা লায়লা
ভালোবাসার সুখি দৃষ্টান্ত!
এ দুই তারকা পরিচালক চাষী নজরুল ইসলামকে ধন্যবাদ দিতেই পারেন। ভাগ্যিস দুজনকে একসঙ্গে কাস্ট করেছিলেন তাঁর ‘শিল্পী’ ছবিতে! নইলে এ দুটি মনের মিলন ঘটত কি না সন্দেহ। ‘শিল্পী’ ছবির ভাগ্যে যা-ই ঘটুক না কেন, রুনা লায়লা আর আলমগীরের ভাগ্যে ধরা দিয়েছে ভালোবাসার জোড়া শালিক। এঁদের দেখলে এখন অনেকেরই ঈর্ষা হয়। ভালোবাসার সত্যিই অনেক ক্ষমতা! দুজনকে শোবিজে ভালোবাসার অনন্য এক দৃষ্টান্তও বলা যায়।

শাবনাজ-নাঈম
সুখের সংসারের আনন্দে বসবাস
নব্বই দশকের বাংলা চলচ্চিত্রের সফল এবং জনপ্রিয় জুটি ছিল তারা। তাদের প্রথম ছবি ছিল এহতেশাম পরিচালিত ‘চাঁদনী’। তারপর কয়েক বছরের চলচ্চিত্রের ক্যারিয়ারে তাঁরা জুটি হয়ে অভিনয় করেন বিশটির মতো ব্যবসা সফল ছবিতে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- ‘জিদ’, ‘লাভ’, ‘চোখে চোখে’, ‘অনুতপ্ত’, ‘বিষের বাঁশি’,‘সোনিয়া’, ‘টাকার অহংকার’, ‘সাক্ষাৎ’ ও ‘ঘরে ঘরে যুদ্ধ’। একসঙ্গে চলচ্চিত্রে কাজ করার সুবাদে দুজনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং শেষ পর্যন্ত তারা বিয়ের গাটছড়া বাঁধেন। বর্তমানে এ জুটি সিনেমা নিয়ে ব্যস্ত না থাকলেও নিজেদের সংসার নিয়ে ব্যস্ত আছেন।

ফারুকী-তিশা
প্রেম ছিল মনে মনে…
নিজেদের কাজ দিয়ে দুজনেই শোবিজে বেশ আলোচিত তারকা। একজন তাঁর নির্মাণ দিয়ে, আর অন্যজন তার অভিনয় দিয়ে দর্শক হৃদয় জয় করে চলেছেন। নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী আর অভিনেত্রী তিশার মধ্যে প্রেম ছিল দীর্ঘ সাড়ে চার বছর। ২০০৫ সালের অক্টোবরে একটি নাটকের শুটিংয়ে ফারুকী তার মনের কথা তিশার কাছে প্রকাশ করেন। তবে প্রকাশ্যে তারা এই প্রেমের কথা স্বীকার করেননি কখনো, আবার অস্বীকারও করেননি। প্রেমের কথা উঠলেই তারা এড়িয়ে যেতেন। তবে শোবিজে তাদের দু’জনের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা ছিল বেশ। বন্ধুত্ব থেকে প্রেম। দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্ক পরিণতি পায় বিয়েতে। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ২০১০-এ দুই পরিবারের মধ্যস্থতায় তারা বিয়ের পিঁড়িতে বসেন। তাদের মধ্যে প্রেম নিয়ে শোবিজে কম আলোচনা হয়নি। বলা যায় এটা নিয়ে তাদের মধ্যে একপ্রকার লুকোচুরিও ছিল।

মৌসুমী-ওমর সানী
বন্ধুত্ব, প্রেম এবং সংসার…
ঢাকার চলচ্চিত্রে অন্যতম জনপ্রিয় নাম মৌসুমী। নব্বই দশকে চলচ্চিত্রে নাম লেখান খুলনার এই গুণী মেয়ে। প্রয়াত সালমান শাহ্-এর সঙ্গে জুটি বেঁধে চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন তিনি। একসময় ওমর সানীর সঙ্গে জুটিও গড়েন মৌসুমী। ওমর সানীর সঙ্গেও মৌসুমী জুটি বেঁধে অভিনয় করেন। একসাথে কাজ করতে গিয়ে দু’জনের মধ্যে একটা বন্ধুত্ব তৈরি হয়। এই বন্ধুত্ব কখন যে ভালোবাসায় পরিণত হলো তা নিজেরাও জানেন না। ভালোবাসার সেই সূত্র ধরেই ১৯৯৬ সালে দু’জনে বিয়েটা সেরে ফেলেন। বর্তমানে ওমর সানীকে আবারো অভিনয়ে নিয়মিত পাওয়া যাচ্ছে। মৌসুমীও ব্যস্ত রয়েছেন অভিনয় নিয়ে। মাঝে মৌসুমীকে পরিচালক হিসেবেও দেখা গিয়েছিল। একাধিক চলচ্চিত্র পরিচালনা করেছেন এই গ্ল্যামার কন্যা। এই তারকা দম্পতির ছেলে স্বাধীন এরইমধ্যে পরিচালকের খাতায় নাম লিখিয়েছেন। তাদের একটি মেয়েও রয়েছে। দুজনের গড়া ‘স্বাধীন’ নামে একটি প্রযোজনা হাউজও রয়েছে।

সুবর্ণা মুস্তাফা-বদরুল আনাম সৌদ
প্রেমটা একটু চ্যালেঞ্জই ছিল!
আশির দশকে গুণী অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফার জন্য অনেক যুবকের মনে একটা হাহাকার তৈরি হয়েছিল। সেই সুবর্ণা মালা পরালেন গুণী অভিনেতা ফরীদির গলায়! না, হুমায়ূন ফরীদিকে ছোট করে দেখা নয়, বরং সুবর্ণার ভক্তকুলের এমন আক্ষেপ শুনতে হতো প্রায়ই। অন্য অনেককে দূরে ঠেলে সুবর্ণা ফরীদিকে বরণ করে নেন ‘ভালোবাসা’র কাছে আত্মসমর্পণ করেই। সে যাই হোক। সুবর্ণার জীবনে প্রেম আসে আবারো। নির্মাতা বদরুল আনাম সৌদ তার প্রেমে পড়েন। সৌদের ধারাবাহিক ‘ডলস হাউজ’-এর ইউনিটে বেড়ে ওঠে সেই প্রেমের বীজ। সৌদের ভালোবাসার কাছে আরো একবার আত্মসমর্পণ করলেন সুবর্ণা। এই প্রেম অনেক বেশি চ্যালেঞ্জের ছিল। এত দিনের গড়ে ওঠা ইমেজে নিন্দুকের নিন্দার কালি পড়ল, সুবর্ণা তবু ভালোবাসাকেই বেছে নিলেন।

জাহিদ হাসান-মৌ
অতঃপর তাহাদের সংসার শুরু
টিভি মিডিয়ায় আলোচিত ও জনপ্রিয় জুটি জাহিদ হাসান ও সাদিয়া ইসলাম মৌ। দু’জনই দু’জনের কাজ খুব পছন্দ করেন। টিভি পর্দায় দু’জনই দু’জনের কাজ দেখে দূর থেকে এক প্রকার ভালোলাগা তৈরি হয়। তবে কখনোই একসাথে কাজ করা হয়নি দু’জনের। অবশেষে একবার বিটিভির জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদির মাধ্যমে দু’জনে একসাথে পারফর্ম করেন। ভাওয়াইয়া গান ‘আমার ভাঙা গাড়িতে বউ সাজিয়ে, তু তু তু সানাই বাজিয়ে, যাব তোমায় শ্বশুরবাড়ি নিয়ে…’ গানটির চিত্রায়ণ হয়। অনুষ্ঠানটির গানে অংশ নেন এ দুই তারকা। অনুষ্ঠানটি প্রচারের পর ব্যাপক আলোচিতও হন তারা। প্রথম দেখাতেই দু’জন দু’জনকে পছন্দ করে ফেলেন। একসাথে উঠাবসা হতে হতে একের অন্যের প্রতি ভালোবাসার সম্পর্ক তৈরি হয়। এক সময় তারা সংসার গড়েন। তাদের ঘর আলো করে আছে দুই সন্তান। মেয়ে পুষ্পিতা আর ছেলে পূর্ণর কোমল মুখচ্ছবি তাদের জীবনের পরিপূর্ণতা। বিয়ের কয়েক মাস পর সাংসারিক ব্যস্ততার জন্য মৌ শোবিজ থেকে নিজেকে কিছুটা গুটিয়ে নিলেও বর্তমানে অভিনয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। জাহিদ হাসানও নিয়মিত দাপটের সাথে অভিনয় করে যাচ্ছেন।

আজিজুল হাকিম ও জিনাত হাকিম
অটোগ্রাফ থেকে প্রেম
আজিজুল হাকিম ও জিনাত হাকিম। সব বিশেষণ-ই কেমন যেন ফিকে হয়ে যায় এই দম্পত্তির নামের পাশে। তাই নাম দুটি বলার পর আর বেশি কিছু বলা লাগে না। এদেশের সব শ্রেণির দর্শকদের কাছে আকাশচুম্বি জনপ্রিয়তা রয়েছে এই দু’জনার। একজন (জিনাত হাকিম) বাস্তবধর্মী নাটক লিখেন, অন্যজন অসাধারণ অভিনয়গুণে (আজিজুল হাকিম) সেটিকে দর্শকদের সামনে তুলে ধরেন। বাংলা নাটককে অন্য একটি মাত্রা দিয়েছেন তারা।
দেশের টিভি নাটক ও মঞ্চ অভিনয়ে একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র আজিজুল হাকিম। মঞ্চে অভিনয় দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করলেও টিভি নাটকে তার দাপট ছিল কয়েক যুগ ধরে। অন্যদিকে জিনাত হাকিম একজন সফল নাট্যকার, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টেও রয়েছে সমান বিচরণ। এক সময় তিনি ছিলেন আজিজুল হাকিমের অনেক বড় ভক্ত। ইউনিভার্সিটিতে অটোগ্রাফ নিতে গিয়ে বন্ধুত্ব, তারপর জানাশোনা, অল্প দিনের প্রেম। অতপর দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে। সেই থেকে একসঙ্গে প্রাণবন্ত পথচলা। জীবন সঙ্গী বলেন, আর বন্ধু বলেন তারা সবই একে অপরের।

তৌকির আহমেদ-বিপাশা হায়াত
সেদিনই পরিচয় দুজনের!
এই দম্পতি ভালোবাসার অনন্য এক উদাহরণ। বিপাশা হায়াত তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চারুকলা অনুষদে পড়েন। আঁকাআঁকি এবং ক্যানভাস নিয়েই তার যত ব্যস্ততা। আর তৌকীর আহমেদ তখন বুয়েটে পড়াশোনা করতেন। ঢাকার মঞ্চে চুটিয়ে অভিনয় করছিলেন তৌকীর। মঞ্চে তখন তৌকীর ব্যাপক জনপ্রিয়। একদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে এক বন্ধুর আমন্ত্রণে তৌকীর বেড়াতে আসেন। সেখানে বিপাশা হায়াতের ছবি আঁকা দেখে থমকে যান তিনি। সেদিনই বিপাশার সঙ্গে পরিচয় হয় তৌকীরের। এরপর বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানে তাদের দেখা হয়। মূলত ‘রূপনগর’ নাটকে অভিনয় করার সময় দু’জনের মধ্যে একটা ভালো বন্ধুত্ব তৈরি হয়। সেই ভালোলাগা থেকেই তাদের মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্কের শুরু। একদিন লেকের ধার দিয়ে হাঁটার সময় তৌকীর তার ভালোবাসার কথাটা জানালেন বিপাশাকে। যদিও বিপাশা মনে মনে তৌকীরকে খুব পছন্দই করতেন। ব্যস ভালোবাসার ভেলায় দুজনে ভাসতে শুরু করলেন। তাদের প্রেমের সফল পরিণতি হয় ১৯৯৯ সালের ২০ জুলাই। বিয়ের পরও দু’জনই মিডিয়ায় সমান তালে কাজ করছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি তৌকির আহমেদ নির্মাতা হিসেবেও সফল।

শাহেদ-নাতাশা
এক পলকেই ভালোবাসা
তখন নাতাশা কর্পোরেট জগতের একজন মানুষ। চাকুরী করছেন। বাবার কথায় কয়েকটি নাটকে অভিনয়ও করেছেন। আর শাহেদ তো রীতিমত তারকা। ২০০৪ সালের ঘটনা। একটি বিয়ের অনুষ্ঠান। ঘরভর্তি মানুষ। চারদিকে হৈচৈ। সেই অনুষ্ঠানে গিয়েছিল শাহেদ। নাতাশাও সেই অনুষ্ঠানে গিয়েছিল তার এক আত্মীয়র সঙ্গে। দূর থেকে অনুষ্ঠানে নাতাশাকে দেখে শাহেদ। ক্ষণিকের সেই দেখায় নাতাশাকে ভালো লেগে যায় শাহেদের। এরপর কারো মাধ্যমে ফোন নাম্বার জোগাড় করে শাহেদ। শুধু কি তাই, ভালোবাসার অনুভূতি প্রকাশের পাশাপাশি রীতিমত বিয়ের প্রস্তাবও দিয়ে বসেন তিনি। শাহেদকে এক পলকে দেখে নাতাশারও ভালো লেগে যায়। অনুষ্ঠানে প্রথম দেখা হওয়ার পর দু’জন দু’জনের কাছে আসতে থাকে। দু’বছরের ভালোবাসার পর্ব শেষে বিয়ের মালা গলে পড়লেন দুজনে। তবে শাহেদ সেই বিয়ের অনুষ্ঠানে তাকে দেখে নিজের ভেতর ভালোলাগা এবং ভালোবাসার কথা মনের মধ্যে পুষে রেখেছিলেন। নিজের ভালোবাসার কথাটি বলার জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে বেশ কয়েকদিন। অন্যদিকে শাহেদের পরিবার তার বিয়ে নিয়ে বেশ তোড়জোড় চালাচ্ছিল। ব্যস মোক্ষম সময়ে, মনের চাহিদা পরিবারের সবাইকে জানিয়ে দেন বুদ্ধিমান শাহেদ। এভাবেই পারিবারিকভাবে বিয়ের সানাই বেজে উঠে শাহেদ-নাতাশার জীবনে ২০০৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি। আজ তাদের কোলজুড়ে দুটি ছেলেমেয়ে শ্রিসা ও সাবিব।

তানিয়া আহমেদ-এস আই টুটুল
গল্পে গল্পে প্রেম
১৯৯১ সালের ১৯ জুলাই বিয়ে তারা করেছেন দুই পরিবারের সম্মতিক্রমেই। সেদিন বিয়ের সময় কোনো কিছুই নববধূকে দিতে পারলেন না তিনি। স্রেফ ভালোবাসাকেই সম্বল করে সংসার যাত্রা শুরু করেছিলেন তারা। এখন তাদের সংসারে আছে আদরের দুটি সন্তান। আজ তাদের যশ-খ্যাতি কিংবা ভালোবাসা- কোনো কিছুরই কমতি নেই। বলছি তারকা দম্পতি তানিয়া আহমেদ ও এসআই টুটুল এর কথা। তানিয়া আহমেদ র‌্যাম্প মডেলিং করতেন। মাঝে মাঝে কোরিগ্রাফিও। অন্যদিকে এলআরবি ব্যান্ডের কী- বোর্ড বাদক হিসেবে কাজ করতেন টুটুল। একটি শো করতে এসেছেন তানিয়া আর সেখানে এলআরবির সঙ্গে পারফর্ম করতে এসেছেন টুটুল। এই আয়োজনেই তারা দুজন দুজনের পরিচিত হলেন। বলতে গেলে অনুষ্ঠানের আলো আঁধারিতে পরস্পরের মুখটা চিনে নিলেন। এরপর নানা অনুষ্ঠানে তাদের দেখা হতে থাকলো। গল্পে গল্পে দুজনের আড্ডা জমতে লাগলো। সেই আড্ডা যে কখন ভালোবাসার পথ মাড়িয়ে ফেললো তা তারা নিজেরাও জানতে পারলেন না। দুজনের ভালোলাগার কথাগুলো বলা হলো কোনো একটা সময়ে। কাছে এলেন তারা। কিছুদিন প্রেমও চললো চুটিয়ে। এরপর বিয়ে এবং সংসার।

বৃন্দাবন দাস ও শাহনাজ খুশি
চড়াই-উতরাই পেরিয়ে সুখের সংসার শুরু
খুশির বড় ভাই বজলুল করিম আফসার ছিলেন বৃন্দাবন দাসের বন্ধু। সেই সুবাদে খুশিদের বাড়িতে বৃন্দাবনের যাওয়া-আসা। তখন বৃন্দাবন কলেজে পড়তেন আর খুশি স্কুলে। বন্ধুর ছোট বোনকে ভালো লাগে বলেই বেশি বেশি আসতেন বন্ধুর বাড়িতে। এদিকে খুশিরও একই অবস্থা। যা কিছু তাঁর ভালো লাগে, সব গুণই আছে বড় ভাইয়ের বন্ধু বৃন্দাবনের মধ্যে। স্কুলবালিকার মন, মানে না বারণ! এরপর কেটে গেছে বেশ কয়েকটি বছর। বৃন্দাবন উচ্চশিক্ষার জন্য ঢাকায় আসেন। খুশি স্কুল পাস করে ভর্তি হন কলেজে। এর মধ্যে তাঁদের ভালোবাসার কথা জেনে যান দুই পরিবারের সদস্যরা। পারিবারিকভাবে শুরু হলো খুশির বিয়ের তোড়জোড়। কিন্তু তিনি বৃন্দাবনকে ছাড়া আর কাউকে বিয়ে করতে রাজি নন। তাই একদিন কলেজ পড়ুয়া খুশি পরিবারের সবাইকে ছেড়ে রওনা দেন ঢাকায় বৃন্দাবনের কাছে। দিনটি ছিল ১৯ জানুয়ারি ১৯৯৪। সেদিন জার্মান কালচারাল সেন্টারে বৃন্দাবনের ‘আদিম’ নাটকটির মঞ্চায়ন ছিল। মামুনুর রশীদ আরণ্যকের কার্যালয়ে নিয়ে বিয়ে পড়িয়ে দেন দুজনের। শুরু হলো তাদের সংসার। দুই পরিবারের কেউ মেনে নিলেন না তাঁদের বিয়ে। অনেক বাধা বিপত্তির মাঝে চলতে থাকে তাঁদের সংসার। নানান চড়াই-উতরাই পেরিয়ে তাদের আজো সুখের সংসার বয়ে চলেছে।

রিয়াজ-তিনা
একটি গানের দৃশ্য অতঃপর প্রেম!
হৃদয়ের কথা সিনেমার একটি গানের নাচের দৃশ্যে প্রথম পরিচয় হয় তাদের। সে সময় রিয়াজ প্রধান নায়ক হলেও তিনা ছিলেন সাধারণ একজন সহকর্মী। সেই গানের একটি দৃশ্য ছিল তিনা ঘুরে এসে নিচে বসে রিয়াজের দিকে হাত বাড়িয়ে দেবে, আর রিয়াজ তার হাত ধরে তাকে টেনে তুলবে। শুটিং শুরু হওয়ার পর তিনা রিয়াজের দিকে তার হাতটি বাড়িয়ে দেয় এবং রিয়াজ তার হাতটি ধরে তাকে টেনে তোলার জন্য। ঠিক এই সময়টাতেই ঘটে যায় অঘটন। পুরো শুটিং ইউনিটের সামনে রিয়াজ তিনাকে টেনে না তুলে বেশ কিছুক্ষণ তিনার হাত ধরে তার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকেন। সেই গানের শুটিং এর পর থেকেই রিয়াজের মনে বাসা বেঁধে নেয় তিনা। তবে সে সময়ে তিনার মনে বাসা বাঁধতে পারেননি রিয়াজ। তিনার মনে রিয়াজের বাসা বাঁধতে আরও অনেকটা সময় লেগেছে। বিভিন্ন সময় শুটিং বিষয়ক বিভিন্ন পরামর্শ ও উপদেশের জন্য তিনা রিয়াজকে ফোন দিতে থাকেন এবং ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে তাদের দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা। এভাবে বেশ কিছুদিন চলার পর রিয়াজই প্রথম তিনাকে সরাসরি প্রেমের প্রস্তাব দেন। অনেক অপেক্ষার পর ২০০৭ সালের ১৮ ডিসেম্বর বাজে তাদের বিয়ের সানাই।

শহীদুজ্জামান সেলিম ও রোজী সিদ্দিকী
বোঝাপড়ার সুখি সংসার
একসাথে কাজের সূত্র ধরে কাছে আসা, ভালোবাসার বন্ধনে জড়ান তারা। ভালোবাসার স্বীকৃতি দিতেই সম্পর্ক গড়ায় বিয়েতে। তারপর থেকেই দু’জনে বয়ে নিয়ে চলেছেন বোঝাপড়ার সুখি সংসার। বলছি তারকা দম্পতি শহীদুজ্জামান সেলিম ও রোজী সিদ্দিকীর কথা। এই নিয়ম ও শৃঙ্খলার মারপ্যাঁচের ক্লান্তি যাতে অনুভূতি থেকে আনন্দ-উপভোগ কেড়ে নিতে না পারে, তার জন্য দারুণ এক টনিক আছে এই দম্পতির। তা হলো ঘুরে বেড়ানো। বিয়ের প্রথম দিনটি থেকে আজ অবধি ভালোবাসার এতটুকু কমতি নেই তাদের কাছে। দুজনই শোবিজে কাজ নিয়ে ব্যস্ত আছেন। যদিও শহীদুজ্জামান সেলিমের তুলনায় রোজী সিদ্দিকী কিছুট কম কাজ করছেন।

মোশাররফ করিম ও জুঁই করিম
ভালোবাসার কোচিং সেন্টার!
১৯৯৭ সালের কথা। ই হক কোচিং সেন্টারে মোশাররফ করিম শিক্ষকতা করতেন। সেই কোচিং সেন্টারে আবার এসএসসি ও এইচএসসি’র সময় জুঁই কোচিং করতেন। তার ক্লাসের শিক্ষক ছিলেন মোশাররফ করিম। একটা সময় সেই কোচিং সেন্টারে জুঁই শিক্ষকতাও শুরু করেন। একসাথে ক্লাস নেয়া, টিউটোরিয়াল নিয়ে কথা বলা এবং আসা-যাওয়ার মাঝে দুজনের মধ্যে ভালোলাগার একটা সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ধীরে ধীরে সেই ভালোলাগা ভালোবাসার রূপ নেয়। কোচিং সেন্টারে ক্লাস নেয়ার সময় থিয়েটারের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ঠিকই ছিল মোশাররফের। থিয়েটার, কোচিং আর টিউশনি এ নিয়েই ছিল তার ব্যস্ততা। একটা সময় দুজনের পারিবারিক সম্মতিতে তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। ১৯৯৭ সালে পরিচয় এবং ২০০১ সালে বিয়ে-এই লম্বা জার্নিতে দুজনই দুজনকে বুঝেছেন এবং জেনেছেন। বর্তমানে মোশাররফ করিমের পাশাপাশি জুঁই করিমও অভিনয় করছেন। এমনকি দুজনে জুটি বেঁধেও অনেকগুলো নাটকে অভিনয় করছেন। ভালোবাসার এই তারকা দম্পতির সংসারে রুবেন রায়ান করিম নামে একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

হিল্লোল ও নওশীন
প্রকাশ্যে প্রেম গোপনে বিয়ে!
নাটকে অভিনয় করতে গিয়েই দুজনের পরিচয়। একসাথে জুটি বেঁধে অনেকগুলো নাটকে অভিনয়ও করেছেন তারা দু’জন। সেসব নাটক দর্শকপ্রিয়তা পাওয়ার পর অনেক নির্মাতাই তাদের নিয়ে নতুন নতুন নাটক নির্মাণ শুরু করলেন। এভাবেই দুজনের মধ্যে ভালোবাসার আদান-প্রদান শুরু হয়ে যায়। তবে হিল্লোল অভিনেত্রী তিন্নীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার পর নওশীনের সঙ্গে উঠাবসা করায় একপ্রকার ভালোলাগা কাজ করে। আর সেই ভালোলাগায় সায়ও দেন নওশীন। কারণ তিনিও মনের মানুষ খুঁজছিলেন মনের মতো করে।
বিয়ে নিয়ে শুরুতে স্বভাবতই ছিল লুকোচুরি। এরপর একসাথে উঠাবসা ও ঘুরে বেড়ানো এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালু করা- সবকিছুই করেন একসাথে। পথচলা যেহেতু শুরু হয়েছে একসাথে কবুল বলাটা শুধু সময়ের ব্যাপার-ই ছিল। সেই সময়টাকেও দৌঁড়াতে দেয়নি তারা। বলা হয়ে গেছে কবুল। তবে ছাদনাতলার কাজটা সারলেন অনেকটা গোপনেই হিল্লোল ও নওশীন। মিডিয়ার কাউকে না জানিয়ে একান্ত ঘরোয়াভাবে বিয়ে করেন এই তারকা দম্পতি।

নাদিয়া-নাঈম
প্রেমের জোয়ারে ভেসে বিয়ে!
নাদিয়ার মা ও নাঈমের পিতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠী ছিলেন। দীর্ঘদিন পর দুজনের দেখা হলে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হয় দুই পরিবারের মধ্যে একটি সম্পর্ক স্থাপনের। আর এদিকে নাটকে অভিনয়ের সুবাদে আগেই নাদিয়া ও নাঈম আগে থেকেই দুজনের মধ্যে একটা ভালো লাগা তৈরি হয়ে যায়। বলা যায় দুজনই প্রেমের সাগরে ভেসে যাচ্ছিল অবিরত। সবমিলিয়ে দুই পরিবারের সম্মতিতেই বিয়েটা সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর দুজনই নাটকে অভিনয় করছেন নিয়মিত। নাদিয়া বলেন, সবকিছুই আসলে সৃষ্টিকর্তার অসীম দয়া। একজন মানুষ হিসেবে নাঈমকে যতদূর জানি, বুঝি তাতে আমার জীবন চলার পথে সে আমার পাশে থেকে আমাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে আগামীর পথে। আমরা একে অন্যকে যেন বুঝে ভালোভাবে চলতে পারি, সংসার করতে পারি এ দোয়াই চাই সবার কাছে।

প্রাণ রায়-শাহনেওয়াজ কাকলী
রঙের খেলা খেলতে গিয়ে…
আর দশজন সাধারণ মানুষের প্রেমের গল্প যেমন হয় প্রাণ রায় এবং শাহনেওয়াজ কাকলী প্রেমের গল্পও ঠিক একই রকম। খানিকটা বাংলা সিনেমার মতো। সংঘাতের পর প্রেম এবং অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে অবশেষে বিয়ে। প্রাণ রায় বলেন, ‘কাকলী আমার ছিল ক্লাসমেট। আমরা একসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগে পড়াশোনা করেছি। সে সময় আমরা এক সঙ্গে ক্লাস করতাম, ছবি আঁকতাম। ঘুরে বেড়াতাম। কিন্তু একদিন বুঝতে পারলাম… প্রহর শেষে দিনের আলোয় সে দিন চৈত্রমাস, আর আমি কাকলির চোখে দেখেছিলাম আমার সর্বনাশ। কাকুলীর কথা আমি জানি না, জানতে চাইওনি। আমি ওকে ভালোবাসি এটাই হলো বড় কথা।’ এভাবেই শুরু হয়েছিল প্রাণ রায় এবং কাকলীর প্রেম। ছবি আর ছবি আঁকাই প্রাণ রায়ের পণ। সব সময় ছবি আঁকতে পছন্দ করেন তিনি। এই পছন্দের সঙ্গে যোগ হলো নতুন এক ভালোলাগা। এই দুই ভালোলাগার সমন্বয় করতে গিয়েই সবাই জেনে গেল তাদের প্রেমের ব্যাপারটা। প্রথমেই দুই পরিবার থেকে বাঁধা আসল। তারপর একটা সময় এসে প্রেমেরই জয় হলো। তারা বিয়ে করলেন। সুখ-দুঃখকে সঙ্গী করে তারা সংসার করছেন। তাদের ঈদেও যেমন উৎসব হয়, তেমনি পূজাতেও করা হয় উৎসবের আয়োজন।