Posted on

লোন না নিয়েও ব্যাংকের নোটিশে হতাশ ব্যবসায়িরা


এম আর অভি, বরগুনা প্রতিনিধি:
উত্তরা ব্যাংক লিমিটেড বরগুনা শাখা থেকে ২৪ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ির নামে তোলা কৃষি লোনের টাকা কার পকেটে এ নিয়ে চলছে ত্রিমূখী দোষারোপ। এ দিকে লোন না নিয়েও লোনের টাকা পরিশোধে ব্যাংকের দ্বিতীয় নোটিশ পেয়ে এসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়িরা হতাশ।
ব্যাংক সূত্রে জানাগেছে, ২০১৪ সালের দিকে বরগুনা সদরের বাসার ষ্টোর ,কোওড়াবুনিয়া ,আশাখালী প্রোপাইটার আবুল বাসার এর স্বাক্ষরিত জামিনদার (গ্রান্টেড) রেখে শহরের ২৪ ব্যবসায়ি গ্রাহক হয়ে উত্তরা ব্যাংক লিমিটেড বরগুনা শাখা থেকে ১২ লাখ টাকা কৃষি লোন উত্তোলন করেন। যা বর্তমানে সুদে-আসলে প্রায় ১৯ লাখে পরিণত হয়েছে। সময় মত লোন পরিশোধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় উত্তরা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ঐ কৃষি লোন গ্রহিতা ২৪ ব্যবসায়িকে গত ১০ মার্চ দ্বিতীয় বারের মত নোটিশ দিয়েছেন ।
অপরদিকে ব্যাংকের নোটিশ প্রাপ্ত ব্যবসায়িদের দাবী কোন ধরনের কৃষি লোন তারা ওই ব্যাংক থেকে গ্রহন করিনি। শহরের বাসার স্টোর এর মালিক (প্রত্যাশা সমবায় সমিতির) সভাপতি আবুল বাসার আমাদের বাইনাতি ক্ষুদ্র ব্যবসায়িদের নিয়ে সমিতি করেছিল । সে সমিতিতে ঐ সব ব্যবসায়িদের জাতীয় পরিচয়পত্র (ভোটার কার্ড) ও ছবি জমা থাকত। ধারনা করা হচ্ছে সেসব কাগজপত্র জমা দিয়ে আমাদের স্বাক্ষর জ্বাল করে ব্যাংক কর্মকর্তাদের সাথে যোগসাজোশে এ কৃষি লোন উত্তোলণ করেছে আবুল বাসার।
ব্যাংকের নোটিশ প্রাপ্ত মো. শাহিন প্রতিবেদকে জানান, আমাদের বাইনাতি সমিতি ছিল ,আবুল বাসার সেই সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছিল । তার কাছে আমাদের ভোটার কার্ড ছিল । কারও কার্ড কারও ছবি ব্যবহার করে জালিয়াতি করে বাসার ব্যাংক থেকে আমাদের ২৪ জন ব্যবসায়ির নামে কৃষি লোন তুলেছে। আমি উত্তরা ব্যাংক চিনতাম না। নোটিশ পাওয়ায় চিনলাম। আমি উত্তরা ব্যাংক বরগুনা শাখা থেকে কোন কৃষি লোন তুলি নাই। বর্তমানে এ বিষয়ে মিমাংশার চেষ্টা চলছে। মিমাংশা না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেব।
বাসার স্টোর এর মালিক (প্রত্যাশা সমবায় সমিতির) সভাপতি আবুল বাসারের কাছে জানতে চাইলে তিনি তৎকালিন উত্তরা ব্যাংক লিমিটেড বরগুনা শাখার ব্যবস্থাপক আলমগীর হোসেন ও ঐ সময়কার লোন অফিসার হুমায়ুন কবিরকে দোষারোপ করেন এবং ঐ ব্যাংক কর্মকর্তারা আসল -নকল গ্রান্টার বানিয়ে বরগুনার অনেকের টাকা আতœসাৎ করেছে দাবী করে এ কৃষি লোনের বিষয় তিনি কিছুই জানেনা বলে জানান।
তবে উত্তরা ব্যাংক লিমিটেড বরগুনা শাখার তৎকালিন ব্যবস্থাপক আলমগীর হোসেন বর্তমানে ব্যাংকের হেড অফিসে ক্রেডিট আব্রবল ডিপারমেন্টে ও লোন অফিসার হুমায়ুন কবির পঞ্চগর শাখায় কর্মরত আছেন। এ বিষয়ে তাদের সাথে যোগাযোগ করা সম্বভ হয়নি।
এ ব্যাপারে উত্তরা ব্যাংক লিমিটেড বরগুনা শাখার ব্যবস্থাপক মি. মো. আব্দুল জলিল বলেন, ২০১৪ সালে কেওড়াবুনিয়া ,আশাখালী, বাসার স্টোর ঠিকানায় আবুল বাসার চলতি হিসাব নং ১৬৯৬ জামিনদার হয়ে স্বাক্ষর করে শহরের ২৪ জন ব্যবসায়ি গ্রাহক স্বাক্ষর করে এ ব্যাংক থেকে ১২ লাখ টাকা কৃষি লোন উত্তোলন করেন। যা বর্তমানে সুদে-আসলে ১৮ লাখের বেশি হয়েছে। কৃষি লোন ৫ বছর পর্যন্ত শিথিল থাকে। সময়মত এ লোন পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে গ্রাহকে আমরা ১ম ,২য় ও চ‚ড়ান্ত এবং উকিল নোটিশ পাঠাই। এতেও গ্রাহক পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে মামলা করি। তিনি আরও বলেন,যতটুকু দেখা যায় এখানে লোন গ্রাহক ও জামিনদারের স¦াক্ষর ছবি আইডি কার্ড রয়েছে। স্বাক্ষর জাল কি আসল সেটা তদন্তের পরেই জানাযাবে বা সংশ্লিষ্টরা বলতে পারবে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আইনের ব্যর্তয় ঘটেনা। যদিও ব্যর্তয় ঘটে থাকে তা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।