শিবগঞ্জের শিশু স্বাধীন হত্যা মামলার অগ্রগতি নেই

মোঃ আব্দুল ওয়াদুদ, বগুড়া প্রতিনিধিঃ

৫ মাসেও অগ্রগতি নেই শিশু স্বাধীন হত্যা মামলার। ময়না তদন্তের রির্পোটেও মিলেছে শ্বাসরোধে হত্যার প্রমাণ। গত ১৬ জানুয়ারী সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার কিচক ইউনিয়নের বেলতলী হাফেজিয়া মাদ্রাসার মক্তব বিভাগের ছাত্র শেখ স্বাধীন (৯) কে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছিলো। মাদ্রাসার সংলগ্ন গাংনই নদীর দক্ষিণ তীরে মাদ্রাসা সীমানা প্রাচীরের পার্শ্বে নির্জন জায়গা থেকে ১৭জানুয়ারী সকালে স্বাধীনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

সে সময় পুলিশের পরামর্শে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছিলো শিশু স্বাধীনের বাবা শাহ আলম শেখ। সে সময় মামলাটির তদন্তভার দেওয়া হয় শিবগঞ্জ থানার এসআই তরিকুল ইসলামকে। সে প্রায় ২মাস মামলাটি তদন্ত করে কোন ক্লু উদঘাটন করতে পারেনি। গত ১৪মার্চ বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলাটি বগুড়া সিআইডিতে হন্তান্তর করা হয়। এদিকে ৫মাসেও মামলার কোন অগ্রগতি না হওয়ায় হতাশ হয়ে পরেছে স্বাধীনের পরিবার।

এরই মধ্যে আসে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট। রির্পোটে বলা হয়েছে, গলাটিপে (শ্বাসরোধ করে) হত্যা করা হয় শিশু স্বাধীনকে। শিশু স্বাধীনের সহপাঠী আরাফাত বলেন, স্বাধীন মাগরিবের নামাজ পর মক্তবে পড়ছিলো। সে টয়লেটে গেলে হুজুরও বাহিরে যায়। অপর সহপাঠী জিহাদ বলেন, হুজুর বাহির থেকে আসলেও স্বাধীন আর আসেনি। স্বাধীন কোথায় এমন প্রশ্ন করলে হুজুর আমাদের ধমক দিয়ে থামিয়ে দেয়। বর্তমানে মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির ইন্সপেক্টর ফুয়াদ রুহানি গণমাধ্যমকে জানান, প্রায় ৩মাস হলো মামলাটি সিআইডিতে এসেছে। আমরা গুরুত্বসহ হত্যা রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করছি। প্রায় ১০জনের কাছ থেকে স্বাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে।

শিশু স্বাধীনের বাবা শাহ আলম শেখ গণমাধ্যমেকে বলেন, আজও আমার ছেলে হত্যার বিচার পাচ্ছিনা। ময়নাতদন্তের রির্পোট এসেছে। আশা করি সিআইডি এখন সঠিক তদন্তের মাধ্যমে আমার ছেলের হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসবে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ঐ দিন কাজের বুয়া রহিমা রান্না করার জন্য মাদ্রাসায় এসেছিলো এবং ঐ মাদ্রাসার কোষাধ্যক্ষ বুলু মিয়া রাত ১০টা পর্যন্ত মাদ্রাসায় অবস্থান করছিলো। বর্তমানে ঐ মাদ্রাসাটি বন্ধ আছে এবং মাদরাসার মুহতামিম শহিদুল ইসলাম গা ঢাকা দিয়েছে।