রাজধানী গুলশান-২ নম্বর সড়কের ফুটপাতে ছন্দে ছন্দে নিজের বর্তমান অবস্থার কথা বর্ণনা করছিলেন বাউল শামসু

অন্যরকম ডেষ্ক:

‘সবাই শোনে গান, কেউ করে না দান/ কেউ দেয় না টাকা, ক্যামনে থাকমু ঢাকা।’ রাজধানী গুলশান-২ নম্বরের একটি সড়কের ফুটপাতে বসে এভাবেই ছন্দে ছন্দে নিজের বর্তমান অবস্থার কথা বর্ণনা করছিলেন বাউল শামসু। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন নারী বাউল মাজেদা।
জীবনের ৪০ বছর গানের সঙ্গে কাটানো বাউল শামসু বিটিভির তালিকাভুক্ত শিল্পী। বিটিভিতে প্রচারিত ‘হিজলতমাল’ অনুষ্ঠানের প্রায় নিয়মিত শিল্পী তিনি। এর পাশাপাশি বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মঞ্চে গান গেয়ে পাওয়া সম্মানী দিয়ে সচ্ছলভাবে জীবন কাটাতেন শামসু। স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে সুখেই দিন কাটছিল তার। মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার পর নাতি-নাতনিরও মুখ দেখেছেন। ছেলে পড়ছে রাজধানীর হারুন মোল্লা কলেজে। কিন্তু সেই সুখের দিন আর নেই বাউল শামসুর। করোনা তাকে গানের মঞ্চ থেকে পথে নামিয়েছে।
বাউল শামসু জানান, তার জন্ম বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার রায়েন্দাবাজার গ্রামে। বর্তমানে থাকেন রাজধানীর কড়াইলে। ৪০ বছর ধরে সংগীতসাধনা করছেন তিনি। কিন্তু এর আগে কখনোই এমন শোচনীয় অবস্থায় পড়তে হয়নি তাকে।
তিনি বলেন, আগে এত গানের অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ পেতেন যে, অন্যকিছু করারই সময় হতো না। এখন জীবন চালাতে পথে পথে গান গেয়ে বেড়াচ্ছেন। গান শুনে খুশি হয়ে যে যা দেয় তা দিয়ে অনেক কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন তিনি। অথচ আগে প্রতি মাসে কয়েকটি অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার দাওয়াত পেতেন। সেই সম্মানী দিয়ে নিজে চলার পাশাপাশি শিষ্যদেরও একটা ব্যবস্থা হয়ে যেত। এখন নিজের সংসারই চালাতে পারছেন না।
বাউল শামসু বলেন, করোনার কারণে এখন আর মানুষের মনে সুখ নেই। মানুষ জীবন চালাতে পারছে না, সেখানে গানের অনুষ্ঠান করবে কীভাবে? তাই বাধ্য হয়ে পথে নেমেছেন। সরকারের উচিত তাদের দিকেও নজর দেওয়া। কারণ অন্য অনেক পেশার মানুষের মতো তাদেরও আয়-রোজগার বন্ধ।
জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং মাধ্যম ইউটিউবেও তার কয়েকটি গান আছে জানিয়ে শামসু বলেন, ‘অনেকেই আমার গান ভিডিও করে ইউটিউবে ছেড়েছেন। শুনেছি সেসব গান নাকি অনেক মানুষ দেখে। কিন্তু আমার তো কোনো লাভ হয় না, আমি তো কোনো টাকা পাই না। ওসব গানের জন্য কিছু টাকা দিলেও তো আমার কষ্টটা অনেক কমত।’
বাউল মাজেদা জানান, তার বাড়ি যশোরে। বর্তমানে বনানীর বউবাজারে থাকেন তিনি। তিনি বলেন, প্রতিদিন সকালে আমরা একসঙ্গে বের হয়ে সারাদিন পথচারীদের গান শোনাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই গান শুনে টাকা দেয় না কেউ। আর দেবেই বা কীভাবে? পথচারীদের বেশিরভাগই খেটে খাওয়া মানুষ। আমাদের

মতো তারাও অসহায় হয়ে পড়েছে। তাই কারও কাছে টাকা চাই না আমরা। কেউ নিজের ইচ্ছায় কিছু দিলে নিই।