৩ বছরেও পিতা হত্যার বিচার পায়নি সন্তানরা

মো. নজরুল ইসলাম,গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার এরেন্ডাবাড়ি ইউনিয়নে নিহত আকতার হোসেন গাদমের হত্যাকারীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। হত্যাকারীদের হুমকির মুখে তার দুই অসহায় পুত্র নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। ঘটনার তিনবছর পরেও সন্তানরা তাদের পিতা হত্যার বিচার পায়নি। গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে বুধবার নিহতের দুই সন্তান এক সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার, হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু বিচার এবং তাদের নিরাপত্তার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নিহতের বড় ছেলে নাছির খান উল্লেখ করেন, গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের ডাকাতিয়া চরের বাসিন্দা তারা। তাদের পিতা আকতার হোসেন গাদমের সাথে একই এলাকার আবদুস ছামাদ ও তার ছেলে হামিদের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে ২০১৮ সালের ২৬ নভেম্বর সন্ধ্যায় আকতার হোসেন গাদম ও তার ভাই বেলাল হোসেন বালাসীঘাট থেকে বাড়ি ফেরার সময় চর চৌমহন এলাকায় পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা আবদুস ছামাদ ও তার আত্মীয়-স্বজন চরাঞ্চলের ডাকাত দলের সদস্যদের নিয়ে তাদেরকে ঘিরে ফেলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে দুই ভাইকে এলোপাথারি মারপিট করে। ফলে ঘটনাস্থলেই গাদম মারা যান এবং তার ভাই বেলাল হোসেন মারাত্মক আহত হয়েও প্রাণে বেঁচে যান। পরদিন ২৭ নভেম্বর নিহতের ছোট ছেলে তাছির খান বাদী হয়ে ফুলছড়ি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওইসময় চার আসামী- একামত, ছানু, মনির ও মাসুদকে গ্রেফতার করে থানা পুলিশ। পরে এজাহারনামীয় বেশকয়েকজন আসামীকে বাদ দিয়ে ২০১৯ সালের ২৯ মে আদালতে চার্জশিট দেয় পুলিশ। এতে বাদী নারাজী আবেদন করলে আদালত মামলাটি সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে ২০২০ সালের ২২ মার্চ মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে সিআইডির এএসআই আনিছ। তিনিও এজাহারনামীয় মূল আসামীদের বাদ দিয়ে ১৯ জনের নামে ২০২০ সালের ৩ নভেম্বর চার্জশিট দেন। এতে বিক্ষুব্ধ হয়ে বাদী আবার নারাজী উত্থাপন করলে আদালত মামলাটির তদন্তে পিবিআইকে নির্দেশ দেন। পিবিআই মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে ২০২১ সালের ২৬ আগস্ট। এরপর দীর্ঘ পাঁচ মাস অতিক্রান্ত হলেও হত্যাকারীদের গ্রেফতার বা আদালতে চার্জশিট দাখিল করেনি পিবিআই। মামলাটি বর্তমানে তদন্ত করছেন পিবিআই-এর এসআই হুমায়ুন। তার বিরুদ্ধে তদন্তে গাফিলতি এবং উল্টো বাদীকে হয়রানির অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, হত্যাকান্ডের হুকুমদাতা এরে-াবাড়ি ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার শফিকুল ইসলাম শফি প্রশাসনে তদবির ও প্রভাব বিস্তার করে চার্জশিট থেকে তার নামসহ অনেকের নাম বাদ দেয়ার ব্যবস্থা করে। পুলিশি তৎপরতা না থাকায় আসামীরা এলাকায় এসে প্রকাশ্যে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন এবং বাদীকে বিভিন্নভাবে জীবননাশের হুমকি দিচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে নিহত আকতার হোসেন গাদমের এতিম দুই সন্তান নাছির খান ও তাছির খান আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করে সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানান। এ ব্যাপারে পিবিআইয়ের তদন্তকারি কর্মকর্তা এস.আই হুমায়ুনের সাথে কথা বললে তিনি জানান, তার বিরুদ্ধে বাদীর অভিযোগ সত্য নয়। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া মেনেই মামলার তদন্তের চলছে।