রতন বালো, নিজস্ব প্রতিনিধি: পাঁচ কৃষিবিদদের অপকর্মের আতঙ্ক বিরাজ করছে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি)। তাদের অপকর্মে দেশের ৬৬ জেলার কৃষিবিদদের মধ্যে এখন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
কৃষিবিদরা হলেন- রবিউল ইসলাম রবি, মো. ইকবাল, ড. শফিক, ইয়ার মাহমুদ ও মো. আদনান। অবিলম্বে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে সরকারের এই সেক্টরে নেমে আসতে পারে সীমাহীন স্থবিরতা।
রাজধানীর খারমারবাড়ি এলাকায় কৃষিবিদদের জন্য গড়া কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি)-এর পাঁচ কৃষিবিদের অপতৎপরতায় অনেকটাই কৃষিবিদদের ভিতরে অসন্তোষ বিরাজ করছে।
যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাদের নামটিও প্রকাশ পেয়েছে। এই পাণ্ডবের দল প্রতিষ্ঠানের ৬ষ্ঠ তলার ডরমেটরির রিসিপশনে অনধীকার প্রবেশ করে রীতিমতো নিজেদের সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে, অসন্তোষ বিরাজ করছে।
তারা নিজেদের দাপট দেখাতে ডরমেটরি নিজেদের দখলের নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তাদের এহেন অনিয়মতান্ত্রিক কাজে বাধা দিতে গিয়ে লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন কৃষিবিদ শ্যামল।
এ সময় শ্যামলকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। উল্লেখিত তাদের দাপটে অতীষ্ঠ হয়ে শান্তিপ্রিয় কৃষিবিদরা রাজধানীর তেজগাঁও থানায় গত ২১ জানুয়ারি ১৪৩, ৪৪৮,৩২৩, ৩০৭ ও ৫০৬ ধারায় (পেনাল কোড ১৮৬০) একটি মামলাও দায়ের করেছেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে উল্লেখিত কৃষিবিদসহ বেশকিছু বহিরাগত বেআইনি জনতা দলবদ্ধভাবে তেজগাঁও থানার খামারবাড়ির পাশে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) হামলা চালায়।
এ সময় তারা কেআইবি নর্থ ব্লকের ৬ তলায় অবস্থিত ডরমেটরির রিসিপশনে অনধিকার প্রবেশ করে ম্যানেজার মো. মিজানুর রহমানকে হুমকি দেয়। এ সময় তারা বলে, একটি রুমের চাবি দাও আমরা রুমে আড্ডা দিব।
ম্যানেজার তাদের জানায়, ডরমেটরিতে কোন রুম ফাঁকা নাই। এই কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে কৃষিবিদ রবিউল চিৎকার চেচামেচি ও গালাগাল করতে থাকেন।
তার গালাগাল শুনে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা কৃষিবিদ শ্যামল রবিউলকে গালাগাল করতে নিষেধ করলে রবিউল ১টি বাঁশের লাঠি নিয়ে শ্যামলকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার মাথায় আঘাত করে মারাত্মক জখম করে।
অভিযোগ সূত্র বলছে, উল্লেখিত কৃষিবিদরা শ্যামলকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় ও কিলঘুষি মেরে জখম করে তাকে মারাত্মকভাবে আহত করে।
খবর পেয়ে তেজগাঁও থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পঞ্চপাণ্ডবের দল নানান হুমকি ধামকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
উপস্থিত কৃষিবিদরা এ বিষয়ে তেজগাঁও থানার সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) মো. আসাদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি।
ঘটনার বিষয়ে কেউ বাদী হতে আগ্রহী না থাকায় কেআইবির মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ভবিষ্যতে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার সৃষ্টি না হয় এ সংক্রান্তে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সংশ্লিষ্ট থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়।
যার মামলা নং-২৪। মামলাটির তদন্তের দায়িত্বে আছেন তেজগাঁও থানার সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) মো. গিয়াস উদ্দিন। তিনিই তদন্ত করবেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আসাদুর রহমান জানান।
তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. গিয়াস উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, গ্রুপিং-এর বিষয়ে ওরা মারামারি করেছে। মামলা করতে বলেছিলাম, কেউ রাজি হয়নি।
সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ এসেছিল। তার নির্দেশে মামলাটা করা হয়। তবে কেউ হাসপাতালে ভর্তি হয়নি। সারাদেশের ৬৬টি জেলা শাখার কৃষিবিদদের প্রতিষ্ঠান কেআইবি। এখানে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে সেজন্যই মামলাটা করা হয়।
এই ঘটনার কথা স্বীকার করে প্রত্যক্ষদর্শী প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন বলেন, দেশের উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ঘটনা দুঃখজনক।
নিজেদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার করাকে কেন্দ্র গত ১৭ জানুয়ারি সন্ধ্যায় মারামারির ঘটনাটি ঘটে। কৃষিবিদদের মধ্যে এ ধরনের ঘটনা কারও কাম্য নয়।
কেআইবি’র ডরমেটরির ম্যানেজার মো. মিজানুর রহমান এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, নিজেদের মধ্যে এ ধরনের ঘটনা যা খুবই দুঃখজনক। ইতিপূর্বে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেনি।
এই প্রথম ঘটনার পর সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। উপদেষ্টার নির্দেশে তেজগাঁও থানায় মামলা হয়েছে এই বাইরে তিনি আর কথা বলতে চাননি।
নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছেন কৃষিবিদ আনয়ারুন নবী মজুমদার বাবলা। তার আপন ভগ্নিপতি ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি ও বাস ট্রাক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েতুল্লাহ।
যিনি বিগত ২০১৪ সালে বিএনপি’র চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গুলশান বাসভবনে বালির ট্রাক দিয়ে আটকে দেন।
তিনি ২০২৪ এর জুলাই ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে পলাতক এবং তার ‘এনা’ পরিবহনসহ সকল সম্পদ দেখাশুনা করেন এই মহা দুর্নীতিবাজ বাবলা।
ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানের পর দেশ যখন ফ্যাসিবাদ মুক্ত তখন কিছু অসাধু রাজনীতিবিদদের ছত্রছায়ায় জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনে ডিরেক্টরশিপ বাগিয়ে নেয়, এতে জাতীয়তাবাদী আদর্শের কৃষিবিদদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
তারই স্নেহধন্য আরেক দরবেশ প্রফেসর সালাউদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী তার আপন খালাতো ভাই অতিরিক্ত আইজিপি ড. হাসানুল হায়দার (বর্তমানে অবসর)।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এক তরফা নির্বাচনের সে ছিল মাস্টারমাইন্ড এবং ছিলেন গায়েবী মামলার উদ্ভাবক। যার কারণে লাখ লাখ নেতাকর্মী গায়েবী মামলার আসামি হন।
এই সালাউদ্দিন মাহমুদ তার খালাতো ভাইয়ের ক্ষমতার দাপট দেখিয়েছেন। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকাকালে ভয়ভীতি দেখিয়ে পুলিশ হাসপাতালের কাজ ভাগিয়ে নেন।
এখন আবার সে কিছু অসাধু রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় দলীয় সুবিধা গ্রহণের জন্য উঠে পড়ে লেগেছে।
বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে তাকে কোন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে দেখা যায়নি। পাশাপাশি জাতীয়তাবাদী আদর্শের কৃষিবিদদের মধ্যেও বাবলা ও সালাউদ্দিন মাহমুদকে রাজনৈতিক টাউট বলে কুখ্যাতি রয়েছে।
তাদের এহেন কর্মকাণ্ডে ত্যাগী নেতা-কর্মীরা হতাশ ও ভীতসন্ত্রস্ত। বিভিন্ন আন্দোলনের সময় নেতা-কর্মীরা বাবলার স্মরণাপন্ন হলে তার বক্তব্য ছিল বরাবরই বিএনপি বিদ্বেষী এবং বিএনপি কখনও ক্ষমতায় আসতে পারবে না, বিএনপি শেষ, এমন কথার খই ফুটেছে। তার এমন বক্তব্যে বহু নেতাকর্মী পথভ্রষ্ট হন।













