নজরুল ইসলাম:রাজধানীর পল্লবীর নিষ্পাপ শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা—এই সংবাদ শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো জাতির হৃদয়ে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে। দ্বিতীয় শ্রেণির ছোট্ট একটি শিশু, যার হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা আর স্বপ্নের রঙিন পৃথিবী, তাকে নির্মম পাশবিকতার শিকার হতে হলো।
এই ঘটনা আমাদের মানবতা, সামাজিকএবং নৈতিক অবস্থানকে বড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
একের পর এক শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা ঘটছে। প্রতিবার সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে, মানববন্ধন , সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ লিখি; কিন্তু কিছুদিন পর আবারও নতুন কোনো রামিসার কান্না আমাদের বিবেককে নাড়া দেয়। কিন্তু—এই নিষ্ঠুরতার শেষ কোথায়?
গণমাধ্যমের শিরোনামের দাবি ( মঙ্গলবার (১৯ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মিরপুর–১১ নম্বরের সেকশনের বি ব্লকের ৭ নম্বর সড়কের ৩৯ নম্বর বাড়ির তিনতলার একটি ফ্ল্যাট থেকে রামিসার খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
শিশুটিকে হত্যার পর তার মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। বিচ্ছিন্ন মাথা শৌচাগারে পাওয়া যায়। শিশুটির শরীরের মূল অংশটি পাওয়া যায় খাটের নিচে।
শিশুরা পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় পাওয়ার অধিকার রাখে। অথচ আজ তারা ঘর, রাস্তা, সহ—কোথাও নিরাপদ অনুভব করে না ।
কিছু বিকৃত মানসিকতার মানুষ নিজেদের পশুত্বকে এমনভাবে উন্মুক্ত করছে, যা সভ্য সমাজের জন্য ভয়ংকর সংকেত। এদের জন্য শুধু আইনের শাস্তিই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন দ্রুত বিচার এবং দৃশ্যমান দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। কারণ বিচারহীনতার সংস্কৃতি অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তুল তেপারে বলে, সাধারণ সহ সচেতন মানুষ মনে করে।
একটি শিশু যখন ধর্ষণের শিকার হয়, তখন শুধু তার পরিবারের স্বপ্ন, একটি সমাজের বিবেকও ক্ষতবিক্ষত হয়। রামিসার মা-বাবার বুকফাটা কান্না পুরো দেশের কান্না। একটি শিশুর নিষ্পাপ মুখের দিকে তাকালে প্রশ্ন জাগে—কোন হৃদয় এত নিষ্ঠুর হতে পারে?
এমন অপরাধ প্রতিরোধে পরিবার, সমাজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্র—সবার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। শিশুদের নিরাপত্তা জন্য শিক্ষা দিতে হবে, সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে হবে এবং অপরাধীদের রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
আমরা এমন দেশ চাই, যেখানে কোনো মা তার সন্তানকে নিয়ে আতঙ্কে থাকবে না; কোনো শিশু বিকৃত মানসিকতার মানুষের শিকার হবে না। রামিসার হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত হোক—এটাই সকলের প্রত্যাশা।
রামিসা আর ফিরবে না। কিন্তু তার নিষ্পাপ আত্মার প্রতি সত্যিকারের সম্মান হবে তখনই, যখন এই সমাজ আর কোনো শিশুর কান্না শুনবে না।
রামিসার স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে আমাদের প্রত্যেককে মানবিক, সচেতন ও দায়িত্বশীল সমাজ গঠনে সব পক্ষকে এগিয়ে আসা একান্ত প্রয়োজন।













