মো.নজরুল ইসলাম.গাইবান্ধা প্রতিনিধি:গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদের তীব্র নদীভাঙন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে উপজেলার চৌমোহন চরের দু’শতাধিক পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে সম্পূর্ণ গৃহহীন হয়ে পড়েছে। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে চৌমোহন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো, কয়েকশত একর আবাদি জমি ও অসংখ্য গাছপালা।
চরবাসিরা জানান, নদীভাঙনের শিকার চৌমোহন চরের মানুষজন তড়িঘড়ি করে ঘরবাড়ি ও আসবাবপত্র অন্যত্র সরিয়ে নিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। নৌকাযোগে আরেকটি নদী পার হয়ে নতুন একটি চরে কোনোমতে মাথা গোঁজার ঠাঁই খুঁজছেন তারা।
চরের প্রবীণ বাসিন্দা মোঃ হযরত আলী ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “নদীভাঙনের এমন ভয়াবহতা জীবনে দেখিনি। আগে ভাঙনের একটা পূর্বাভাস অনুমান করা যেত, কিন্তু এবার নদী কোনো সুযোগই দেয়নি। ভেবেছিলাম আরও দু-তিন বছর এখানে থাকতে পারব, অথচ সব শেষ হয়ে গেল। এখন যেখানে নতুন করে ঘর তুলছি, সেটি খুবই নিচু এলাকা। বর্ষায় পানি বাড়ার সাথে সাথেই সেখানে পানি উঠে যাবে।” তিনি আক্ষেপ করে আরও বলেন, “গত মাসের শেষের দিকে কালবৈশাখী ঝড়ে চরের বহু মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই ধকল কাটিয়ে এখনও তারা ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি, এর মধ্যেই আবার এই নদীভাঙন শুরু হলো।”
একই গ্রামের বাসিন্দা মোঃ আব্দুল আলীম জানান, তিনি গত ১৫ বছর ধরে এই চরে বসবাস করছিলেন। চরটি স্থায়ী হবে—এমনটাই আশা ছিল তাঁর। তিনি বলেন, “চরের ভাঙন প্রতিরোধে সরকার যদি আগে থেকে কোনো স্থায়ী টেকসই উদ্যোগ নিত, তবে শত শত পরিবার বছরের পর বছর এখানে নিরাপদে থাকতে পারত।”
নদীতে স্কুল বিলীন হয়ে যাওয়ায় চরের কোমলমতি শিশুদের শিক্ষাজীবন এখন চরম হুমকির মুখে। মালেকা বেগম (৪০) নামের এক অভিভাবক জানান, তাঁদের একমাত্র প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ভেঙে যাওয়ায় সেটি অন্য একটি চরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেই চরে তাঁদের কোনো জমি বা থাকার জায়গা নেই। ফলে তাঁর পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া কন্যাসন্তানের পড়ালেখা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।
চরের মানুষের এই মানবিক বিপর্যয় নিয়ে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘গণউন্নয়ন কেন্দ্র’-এর নির্বাহী প্রধান এম. আবদুস্ সালাম জানান, চরের মানুষের সবচেয়ে বড় ও প্রধান সমস্যা হলো এই রাক্ষুসে নদীভাঙন। ভাঙনের ফলে মানুষ কেবল তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদই হারায় না, বরং এর ফলে তাদের সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধন এবং নিরাপত্তাও সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। এই মুহূর্তে ক্ষতিগ্রস্ত ও গৃহহীন পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের জন্য সরকারি সহায়তার পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোকেও জরুরিভিত্তিতে এগিয়ে আসা প্রয়োজন।
এরেন্ডাবাড়ি ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান -০১ মোঃ সাইদুর রহমান জানান,বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে ও নিচু চরে আশ্রিত পরিবারগুলোর জন্য খাদ্য, বাসস্থান ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে ভুগছে। তিনি আরোও জানান,পুনর্বাসনের জন্য সরকারি সহায়তার প্রয়োজন।












